হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার জানুন

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে জানা বর্তমান সময়ে খুবই জরুরি। কেননা বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ অসচেতনতার কারনে এই সমস্যার সম্মুখিন হচ্ছে এবং তাদের অজান্তেই মৃত্যু ঝুঁকির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাই হজম ক্ষমতা কমে গেলে করণীয় সুস্থ থাকতে অবশ্যই জানতে হবে।
আমাদের প্রতিদিনের জীবনে হজম ক্ষমতা কমে গেলে করণীয় কি তা না জানলে মারাত্নক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। কেননা এই সমস্যাটি সাধারন মনে হলেও হজম শক্তি হ্রাস পাওয়ার কারনে প্রতিবছর সারা বিশ্বে লাখো মানুষ অকাল মৃত্যুর সম্মুখিন হয়ে থাকে। তাই আমাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকেতে হবে।

সূচিপত্রঃ হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার জানার আগে আমাদের অতি সংক্ষেপে জানা প্রয়োজন যে হজম শক্তি কি এবং কেন এই হজম শক্তি কমে যায়। হজম শক্তি বলতে আমরা সাধারনত পাচন্তন্ত্রকে বুঝে থাকি। আমাদের প্রাত্যহ জীবনে অনেক অনিয়ম অথবা অসতর্কতার কারনে অথবা আমরা এমন অনেক কাজ করে থাকি যার কারনে আমাদের পাচন্তন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ে এবং হজম শক্তি হ্রাস পেয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যাহত হতে হয়। তাই আমাদের জানা প্রয়োজন যে এমন কি কাজগুলো আছে যেগুলো করলে আমাদের পাচন্তন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে এবং হজম শক্তি হ্রাস করে ফেলে। 

পাচন্তন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে এমন কিছু কাজ নিচে অতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো। পাচন্তন্ত্রের উপর প্রভাব ফেলে এমন কিছু কাজ বা উল্লেখযোগ্য অনিয়ম হচ্ছেঃ অলস জীবন যাপন করা। অলস জীবনযাত্রা বলতে আমরা বুঝে থাকি কোনো আমাদের প্রতিনিয়ত জীবনে যে সকল কাজ আছে তা না করে ঘরে শুয়ে বসে থাকা। যার ফলে আমাদের পাচনতন্ত্র ঠিক ভাবে ক্লাজ করতে পারেনা। তাপরই উল্লেখযোগ্য আরেকটি কাজ হচ্ছে নিয়মতি খাদ্য গ্রহন না করা। সকালের খাবার বিকালে খাওয়া বা খাবার গ্রহনের সময়সূচী ঠিক না থাকলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের হজম শক্তি স্বভাবিক রাখতে সময়মত খাদ্য গ্রহন করা উচিত।

খাবারে পরিমান মতো পুষ্টিগুন না থাকলেও আমাদের হজম প্রক্রিয়া হ্রাস পেয়ে থাকে। খাবারে পুষ্টিগুন বলেতে সাধারণ ভাষায় বুঝি যে খাদ্যে আঁশ বা ফাইবার এবং অনান্য ভিটামিন জাতীয় পুষ্টিগুন থাকে সেইসব জাতীয় খাদ্য হলো পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ খাদ্য। এইসকল খাদ্য গ্রহন না করলেও আমাদের হজমপ্রকৃয়া ঠিক মতো কাজ করে না। তাছাড়াও অন্যতম আরেকটি অন্যতম কারন হচ্ছে ধূমপান সেবন করা। ধূমপান সেবন করার ফলে আমাদের শরীরে নিকোটিনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং হজম প্রকৃয়া বাধাগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি ফুসফুস সহ বিভিন্ন শরীর বৃত্তিও কাজে বাধা প্রদান ও ক্ষতি সাধন করে থাকে। তাই আমাদের বিশেষ করে এই বাজে অভ্যাস ত্যাগ করা অতি প্রয়োজনীয়।

পরিমানমত পানি পান না করা। পানি হচ্ছে মানব শরীরের চালকা শক্তি। পানি ব্যতীত মানব শরীরের যাবতীয় শরীর বৃত্তিও কাজ সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। তাই সুস্থ থাকার জন্য একজন ব্যাক্তিকে দিনে অবশ্যই ৭-৮ গ্লাস পানি সেবন করতে হবে। তা না হলে আমাদের শরীরে বিভিন্ন ব্যাধি দেখা দিবে তারমধ্য উল্লেখযোগ্য হচ্ছে হজম খমতা হ্রাস পাওয়া। আবার নিয়মতি হাঁটাচলা না করাও হজম শক্তি হ্রাস পাওয়ার অন্যতম কারন। হজম প্রক্রিয়া সভাবিক রাখার জন্য আমাদের নিয়মিত হাটাচলাচল করা উচিত। তারপর পর্যাপ্ত পরিমান না ঘুমানো, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাদ্য গ্রহন করা ইত্যাদি হলো হজম শক্তি হ্রাসের অন্যতম কারন।

তাছাড়াও আরো কিছু অভ্যাস যেমনঃ চিনি জাতীয় খাদ্য অতিরিক্ত খাওয়া,ফ্যাট জাতীয় খাদ্য পরিমানের চাইতে বেশি খাওয়া, খাবার পর পরেই শুয়ে পড়া ইত্যাদি। অতিরিক্ত চিনি বা ফ্যাট জাতিয় খাদ্য গ্রহন করে আমাদের শরীরে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় যার ফলে নানান সমস্যা দেখা দেয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো হজম প্রক্রিয়া হ্রাস পাওয়া। উপরোক্ত এইসব কারন ছাড়াও আরোও অনেক কারন আছে যার কারনে হজম শক্তি হ্রাস পেয়ে আমাদের পাকস্থলি সহ বিভিন্ন শরীর বৃত্তিও কাজে ব্যাহত করে। এখন আমরা ধীরে ধীরে হজম শক্তি হ্রাস পাওয়ার প্রতিকার সমূহ নিয়ে নিচে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

হজম শক্তি কমে যাওয়ার সাধারন লক্ষন সমূহ

আমাদের হজম শক্তি কমে গেছে কিনা তা আমরা সহজেই কিছু লক্ষন সমুহের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে পারি। এখন আমরা নিচে অতি সংক্ষেপে হজম শক্তি কমে যাওয়ার সাধারন লক্ষন সমূহ আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আমাদের হজম শক্তি কমে গেলে পাকস্থলি স্বাভাবিক ভাবে কাজ করবে না এবং শরীরের কিছু স্বাভাবিক কাজে ব্যাহত করতে পারে। হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার জানার আগে আমাদের জানতে হবে সাধারন লক্ষন সমূহ। তাই আসুন আপনারও হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা আছে কিনা তার লক্ষন সমূহ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

হজম শক্তি কমে গেলে সকলের যে স্বাভাবিক লক্ষন দেখা দেয় সেটি হচ্ছে পাকস্থলি খাদ্য স্বাভাবিক ভাবে হজম করতে পারেনা। পাকস্থলী আমাদের হজম প্রক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে। আমরা যে খাদ্য গ্রহন করে থাকি তা পাকস্থলিতে জমা হয়ে থাকে এবং পাকস্থলির পাচক রস, হাইড্রোক্লরিক এসিড ইত্যাদির মাধ্যমে খাদ্য ধীরে ধীরে হজম হতে থাকে। তাই আমরা বলতে পারি যে হজম শক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম কারন হচ্ছে পাকস্থলির কার্যক্ষমতা হ্রাস পাওয়া। এরপর অন্যতম যে উপসর্গ দেখা যায় তা হচ্ছে পেট ব্যাথা করা। পেট ব্যাথা করাও হচ্ছে হজম শক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম লক্ষন।

আমাদের পাকস্থলী যখন স্বাভাবিক ভাবে খাদ্য হজম করতে পারেনা তখন পেট ব্যাথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হজম শক্তি কমে গেলে পাকস্থলিতে অতিরিক্ত মাত্রাই এসিড উৎপন্ন করে থাকে যার ফলে পেট ব্যাথা করে থাকে। এছাড়াও পেটে অতিরিক্ত এসিডিটির সমস্যার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য এর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাছাড়াও বমি বমি ভাব লেগে থাকা, অকারনে মাথা ঘুরা, শরীর দূর্বল হয়ে পড়া, খাবার খাওয়ার ইচ্ছে বা রুচি কমে যাওয়া, যেকোনো কাজে মনোযোগ প্রদানে কষ্ট হওয়া এবং অসস্তি লেগে থাকার মতো অতিসাধারন কিছু লক্ষন দেখলে আপনি বুঝবেন যে আপনার পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গেছে বা হজম শক্তি হ্রাস পেয়েছে। হজম শক্তি কমে গেলে তা প্রতিকার করা অত্যান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়।

আপনিও কি এই সমস্যাই আক্রান্ত-যা দেখে বুঝবেন

হজম শক্তি কমে যাওয়ার ফলে আমাদের নানান প্রকারের উপসর্গ দেখা দিতে পারে যা দেখে খুব সহজে নিশ্চিত করা যায় যে পাকস্থলির পাচনতন্ত্রের সমস্যা বা হজমের সমস্যা আছে। এখন আপনাদের কাছে প্রশ্ন থাকতে পারে যে আমরা ঠিক কি উপসর্গ থেকে বুঝতে পারব যে আমাদেরও পাচনতন্ত্রের বা হজমের সমস্যা রয়েছে। এখন আমরা জানার চেষ্টা করবো আপনিও এই সমস্যাই আক্রান্ত কিনা এবং আপনিও এই সমস্যাই আক্রান্ত হতে পারেন কিনা। তাই আসুন জানি পরিপাকতন্ত্রের বা হজমের সমস্যা থাকলে সহজে চিহ্নিত করার উপায়।
আপনারো যদি হজম শক্তি হ্রাস পেয়ে থাকে তাহলে আপনি প্রথমেই লক্ষ্য রাখবেন যে আপনার গ্রহন কৃত খাদ্য সময় মত হজম হচ্ছে কি না । যেমন আপনি যদি রাতে খাদ্য গ্রহন করে থাকেন তা হলে তা  রাতেই হজম হয়ে যাবে এবং সকালে মল ত্যাগের মাধ্যমে পরিত্যাগ হয়ে যাবে। যদি রাতে গ্রহন করা খাবার সকালে হিজম না হয় এবং যদি লক্ষ্য করেন যে পেট ব্যাথা ও বমি বমি ভাব হচ্ছে তাহলেই বুঝে নিবেন যে আপনার হজম প্রক্রিয়া অনেক দূর্বল হয়ে পড়েছে। তাছাড়াও আপনার যদি গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমসায় নিয়মিত থাকে তাহলে বুঝবেন আপনিও এই সমস্যাই আক্রান্ত। 

সব সময় বুক অথবা পেট জানাপুড়া করার মতো সমস্যাই হচ্ছে গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমসা এই সমস্যা যদি একাধারে অনেক দিন যাবত চলতে থাকে তাহলে আপনি বুঝে নিবেন যে আপনার হজম প্রক্রিয়াই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও অন্যতম এক লক্ষন হচ্ছে অতিরিক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হওয়া। হজম শক্তি হ্রাস পেলে অতিরিক্ত কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। এরপর অন্যতম এক লক্ষন হচ্ছে খাবার পর পরই ঘুম আসা বা শরীর ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। অথবা এমনও হতে পারে যে খাওয়ার প্রতি রুচি নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো কিছু লক্ষন দেখা দিতে পারে। তাছাড়াও উপরের দেওয়া উপসর্গ দেখেও আপনি এই সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেন।

হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য যা করতে হবে

হজম ক্ষমতা কমে গেলে হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য করনীয় সমূহ যদি আপনি নিয়মিত মেনে চলেন তাহলে আপনার এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারবেন বলে আশা করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি যদি নিম্ন লিখিত নিয়ম নিয়মিত ব্যাবহার না করেন তাহলে ভালো ফলাফল পাওয়া নাও যেতে পারে অথবা অনিয়মিত অভ্যাসের কারনে আপনার সমস্যা আরোও বেড়ে যেতে পারে। তাই আমাদের উচিৎ হবে কোনো ভালো অভ্যাস গড়ে তুললে তা নিয়মিত পালন করা। তাছাড়াও আপনার যদি কোনো দ্রব্য বা পন্যে এলার্জি বা অসহনশীলতা থেকে থাকে তাহলে তা এড়িয়ে চলা এবং তা যদি একান্তই ব্যাবহার করা প্রয়োজন পড়ে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা ব্যাবহার করা। 

হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য প্রথমেই যা করতে হবে তা হলো অলস জীবন যাপন ত্যাগ করা। অলস জীবন যাপন ত্যাগ করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে প্রতিদিন নিয়মিত হাঁটাচলা করা। সময়ের কাজ সময়ে করা ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের শরীর সব সময় সচল থাকবে এবং আমাদের পাকস্থলিতে অতিরিক্ত এসিড উৎপাদনে বাধা প্রদান করবে। যার ফলে পরিপাক্তন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করবে। তাই হজম শক্তি ভালো রাখতে ক ঘেয়ামি বা অলস জীবন যাপন করা থেকে অবশ্যয় বিরত থাকতে হবে। এর পরই আমাদের হজম শক্তি ভালো রাখতে যে কাজটি করতে হবে তাহলো স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খেতে হবে।ফাস্ট ফুড অথবা তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কেননা এইসকল খাবার পাকস্থলির এসিডিটির পরিমান বৃদ্ধি করে বুক জালাপুড়ার মত সমস্যা সৃষ্টি করে থাকে।

এ ছাড়াও পাকস্থলী ভালো রাখতে দিনে সর্বনিম্ন ৭-৮ গ্লাস পানি পান করতেই হবে। কেননা পানি আমাদের শরীরের সকল জৈবিক কাজে অংশগ্রহন করে থাকে যার মধ্যে পাচনতন্ত্রে খাদ্য পরিপাক অন্যতম। পরিমান মত পানি পান করলে পাকস্থলির এসিডিটির পরিমান নিয়ন্ত্রনে থাকবে এবং হজম প্রকৃয়া সঠিক ভাবে কাজ করবে। হজম শক্তি বাড়াতে অবশ্যই আঁশ বা ফাইভার জাতীয় খাদ্য বেশি বেশি গ্রহন করতে হবে। আঁশ বা ফাইভার জাতীয় খাদ্য পরিপাকে কাজে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়াও হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকারে যে কারন সমূহ উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

যে অভ্যাস সমূহ পরিত্যাগ করতে হবে

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার সমূহের আজকের এই টপিকসে আমরা জানার চেষ্টা করবো যে কিভাবে কিছু অভ্যাস ত্যাগ করে বা যে অভ্যাস সমূহ পরিতায্য করে আমরা আমাদের পাকস্থলির কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারি এবং আমাদের হজমের যে সমস্যা তা সমাধান করতে পারি। আমাদের যে বিষয় গুলো পরিতায্য করতে হবে তা নিচে অতিসংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। যে বিষয় গুলো আলোচনা করা হবে সেই বিষয়বস্তু থেকে আমাদের অবশ্যই দূরে থাকতে হবে এবং তার প্রতিকারের ব্যাবস্থা গ্রহন করতে হবে। যে অভ্যাস সমূহ পরিত্যাগ করতে হবে তা নিতে আলোচনা করা হলো।

আমাদের সর্ব প্রথম অতিরিক্ত ভাজা পুড়া বা ফাস্ট ফুড জাতীয় খাদ্য অবশ্যয় পরিত্যাগ করতে হবে। কেননা এই সকল খাদ্য সমূহ আমাদের পাকস্থলির এসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং অম্লতা বৃদ্ধি করে থাকে। যার ফলে বুক জালা করা, পেট ব্যাথা করা ইত্যাদির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের তেলে ভাজাপুড়া এবং ফাস্ট ফুড জাতীয় খাদ্য কম খাওয়া বা এড়িয়ে চলতে হবে। ঘরে এক ঘেয়ামি জীবন যাপন করা যাবে না। যে অভ্যাস সমূহ পরিতায্য করতে হবে তার মধ্যে সব চাইতে গুরুত্বপূর্ন হচ্ছে নেশা ধূমপান এবং জাতীয় দ্রব্য সেবন থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা ধূমপান এবং জাতীয় দ্রব্য তে থাকা নিকোটিন আমাদের ফুসফুসের পাশাপাশি পাকস্থলিরও মারাত্নক ক্ষতি করে থাকে।

হজম শক্তি বৃদ্ধির ঘোরোয়া উপায়

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে আজকের এই টপিকসে আমরা জানবো কিভাবে ঘোরোয়া উপায় অবল্বন করে হজম শক্তি বৃদ্ধি করা যায়। ঘোরোয়া বিভিন্ন উপায় রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করে হজম শক্তি বৃদ্ধি করা যায় তার মধ্যে সবচেয়ে কার্যকরি উপায় হচ্ছে আদা চা, তুলসি পাতার রস, লেবু পানি ইত্যাদি। আদা দিয়ে চা এর উপকারিতা অনেক থাকলেও হজম শক্তি বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা তুলে না ধরলেই নয়। আদাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানব শরীরে বিভিন্ন উপকারে আসলেও হজম শক্তি বৃদ্ধিতে এর অবদান অনেক। তাছাড়াও লেবু পানি নিয়মিত সেবনের ফলে লেবুতে থাকা ভিটামিন সি আমাদের শরীর বৃত্তিও কাজে যেমন লাগে ঠিক তেমনি হজম প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়তা করে থাকে।

আমরা ঘরে থাকা কিছু উপাদান ব্যবহার করে খুব সহজে হাতে চা বানিয়ে ফেলতে পারি। এর জন্য শুধু প্রয়োজন হবে এক টুকরা আদা এবং চা পাতা অথবা চা পাতার গুড়া। আপনি চাইলে টি ব্যাগও ব্যবহার করতে পারেন। এর সাথে আপনি সাধ বৃদ্ধি করার জন্য আনুসাঙ্গিক হিসাবে মধু অথবা লেবু যোগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি সবসময়ই চেষ্টা করবেন যে চিনির ব্যবহার না করা। কারণ অতিরিক্ত চিনি আমাদের শরীরে অনেক ক্ষতি করে থাকে। একটি পাতিলে ফুটন্ত পানি সাথে চা পাতা এবং আদা একত্রে কিছুক্ষণ ফুটিয়ে ফেলে আপনি আদা চা তৈরি করে ফেলতে পারেন এবং সাথে সাধ বৃদ্ধির জন্য লেবু অথবা মধু মেশাতে পারেন।

তাছাড়াও আপনি প্রতিদিন সকালে উঠে গরম পানি পান করতে পারেন। নিয়মিত সকালে হালকা কুসুম গরম পানি পান করলে শরীরে থাকা টক্সিক পদার্থ দূর হয়ে যায় এবং এর সাথে হজম শক্তিও পেতে পেতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়া নিয়মিত দই খেলে দই এ থাকা প্রোবায়োটিক পাকস্থলী ভালো ব্যাকটেরিয়া সংখ্যা বৃদ্ধি করে হজম প্রক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। তাছাড়াও কোন খরচ ছাড়াই হজম শক্তি বৃদ্ধির একটি অন্যতম উপায় হচ্ছে খাবার পরে আধা ঘন্টা হাঁটা চলাচল করা। এর ফলে আমাদের শরীর সক্রিয় হয় এবং হজম প্রক্রিয়াতে সাহায্য করে থাকে।

হজম শক্তি বৃদ্ধির প্রাকৃতিক উপায়

প্রকৃতিতে এমন বিভিন্ন উপাদান রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আমরা আমাদের জীবনের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে ব্যবহার করে থাকি। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্রাকৃতিক উপায়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করা। প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন অসংখ্য ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আমরা সহজে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারি। প্রাকৃতিক উপায়ে হজম শক্তি পৃধি করার অনেক সুবিধা রয়েছে তারমধ্য অন্যতম হচ্ছে এর পার্শপ্রতিকৃয়া নেই বললেই চলে। তাই আসুন জানি আমরা প্রাকৃতিক ভাবে কিভাবে বা কি উপাদান ব্যাবহার করে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারি।

কোন মেডিসিন ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে হজম শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে নিয়মিত হাঁটা চলাচল করা। হাঁটা চলাচলের মাধ্যমে আমরা আমাদের শরীরের ইমোনিটির মাত্রা বাড়িয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি হজম শক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে থাকে। তাছাড়াও প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন অসংখ্য ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে যেমন: তুলসী পাতা, অ্যালোভেরা ইত্যাদি নিয়মিত সেবনের ফলেও আমরা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারি। তুলসী পাতা ও অ্যালোভেরায় প্রচুর পরিমানে আনটি অক্সিডেন্ট থাকে যা আমাদের শরীরের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হজম প্রক্রিয়া সহজ করা। তাছাড়াও লেবু, মেথি, মধু, কালোজিরা ইত্যাদিও হজম প্রক্রিয়াতে সাহায্য করে থাকে।

হজম শক্তি সাভাবিক রাখার ব্যায়াম

বর্তমান সময়ে পাচনতন্ত্রের সমস্যা মাত্রাতিক হওয়ার কারণে এমন অসংখ্য ব্যায়াম আবিষ্কৃত  হয়েছে যেগুলো নিয়মিত করলে হজম শক্তি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা যায়। ঠিক তেমনি কিছু স্বাভাবিক রাখার ব্যায়াম করা হলো। যেগুলোর ব্যবহারের ফলে হজম শক্তি স্বাভাবিক থাকবে বলে আশা করা যায় তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যে নিয়মিত ব্যবহার না করলে কোন ফলাফল পাওয়া যাবে না। তাই আপনি যদি আপনার শরীর ফিট অথবা স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে চান তাহলে উক্ত ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করতে হবে এবং কিছু নিয়ম নীতি আছে যেগুলো পালন করতে হবে। তাই আসুন জানি হজম শক্তি স্বাভাবিক রাখার কিছু অন্যতম ব্যায়ামসমূহ।

অতীত কাল থেকে যোগব্যায়াম মানুষের শরীর বৃত্তিও বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে আসছে। তার মধ্যে হজম শক্তি বৃদ্ধিতে অন্যতম ভূমিকা পালন করে। যোগব্যায়ামের ফলে শরীরের বিভিন্ন অন্ত্রের গঠন শক্তিশালী হয় এবং কার্যক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া থেকে শুরু করে অনেক শরীরবৃত্তিও কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। তাছাড়াও এমন অনেক ব্যায়াম রয়েছে যেগুলো করলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় তা নিয়ে আমরা অন্য কোন আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করব।


যে খাবার গুলো গ্রহন করা উচিত

হজম শক্তি স্বাভাবিক রাখার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে চলতে হবে এবং পাশাপাশি কিছু প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য গ্রহণ করতে হবে। নিচে আলোচনা করা হবে এমন কিছু খাদ্য যেগুলো নিয়মিত গ্রহণের ফলে পাচনতন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং হজম সমস্যা হ্রাস পাবে। আঁশ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা। যেসব খাদ্যে আঁশ রয়েছে সেসব খাদ্য বেশি বেশি করে গ্রহণ করতে হবে যেমন আম, কাঁঠাল, পাকা তাল  ইত্যাদি। এসব খাদ্য গ্রহণের ফলে আমাদের শরীরে আঁশ জাতীয় সকল পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে যার ফলে হজম ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যর সমস্যা সমাধান হবে।
এর পরই আমাদের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন খাদ্য হচ্ছে ফাইবার জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা। পালং শাক, গাজর, ধনেপাতা ইত্যাদি যেসব খাদ্যে ফাইবার রয়েছে সে সকল খাদ্য অধিক গ্রহণ করা। টক দই, ছানা, দুধ জাতীয় খাদ্য বেশি বেশি গ্রহণ করা কেননা এ সকল খাদ্যে প্রাকৃতিক প্রবায়োটিক থাকে যার ফলে হজম শক্তি অধিক বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা। কমলালেবু, পেঁপে, আনারস ইত্যাদির মত খাদ্যে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। যার নিয়মিত গ্রহণ পাকস্থলী সকল সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে থাকে।

তাছাড়া সহজে হজম হয় এমন জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। ভাত, ডাল, পাকা কলা ইত্যাদি খাওয়ার ফলে সহজে হজম প্রক্রিয়া সম্পুর্ন হবে। এছাড়াও আমাদের শরীরের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয় উপাদান হচ্ছে পানি। আমাদের নিয়মিত ও পরিমান মত পানি পান করতে হবে। আর অনেকের অনেক উপাদান বা খাদ্যে এলার্জি বা অসহনশীলতা থাকতে পারে তাদের উতিচ হবে তা গ্রহন করার পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। স্বাস্থ্য সচেতন হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে আপনি যেগুলো ব্যবহার করছেন সেগুলোতে আপনার এলার্জি বা অসহনশীলতা আছে কিনা। কেননা স্বাস্থই মানুষের আসল সম্পদ তাই আমাদের স্বাস্থ সচেতন হওয়া উচিৎ।

পরিশষে

হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে জানার পর এখন আমাদের অবশ্যই সেই বিষয় গুলো মেনে চলতে হবে। কেননা স্বাস্থ মানুষের অমূল্য সম্পদ। মানুষ যখন একবার অসুস্থ হয় তখন তার স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপলব্ধি করতে পারে। তাই আমাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সবসময় সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে। হজম শক্তি হ্রাস পাওয়া খুব সাধারণ রোগ বলে মনে হলো এর চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল এবং এই সমস্যার কারণে মৃত্যুঝুকিও দেখা দিতে পারে। তাই হজম শক্তি হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে হলে অবশ্যই আপনাকে সচেতন হতে হবে এবং চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে।

তাই আমাদের উচিত হবে যে এই সমস্যা খুব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা এবং সতর্ক থাকা। এই সমস্যার সম্মুখিন হলে চিকিৎসার পাশাপাশি আমাদের দেওয়া পরামর্শ গ্রহন করতে পারেন। লক্ষ্য রাখতে হবে যে আজকে আমাদের এই আর্টিকেলে যেসব বিষয় আলোচনা করা হয়েছে তার মধ্যে অনেকের কোন উপাদানের অসহনশীলতা থেকে থাকতে পারে তাই তা ব্যবহারে পূর্বে অবশ্যই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিজ দায়িত্বে ব্যবহার করতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে এবং অন্যকে সচেতন করার চেষ্টা করতে হবে। কারণ কোনো রোগই মানুষের জন্য কল্যাণকর নয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url