অ্যালোভেরার ১০টি গুন জানলে আপনিও অবাক হতে বাধ্য

অ্যালোভেরার ১০টি গুন জানলে আপনিও অবাক হতে বাধ্য হবেন। অ্যালোভেরা মূলত একটি রসালো জাতীয় উদ্ভিদ। অ্যালোভেরাকে তার ঔষধি গুণের জন্য বহুল পরিচত। অ্যালোভেরা অতীত কাল থেকে রুপচর্চা ও ভেষজ ঔষুধ হিসেবে ব্যাবহার করা হয়ে আসছে। 


অ্যালোভেরার অপর নাম ঘৃতকুমারি আবার অনেকে একে গৃহকুমারী নামেও ডেকে থাকে। তাছাড়াও চেনার সুবিধার একেক অঞ্চলের মানুষ একেক নামে অ্যালোভেরাকে ডেকে থাকে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো গৃহকুমারী, স্বরূপকুমারী ইত্যাদি। অ্যালোভেরাকে তার ভেষজ গুলাগুনের জন্য বিশ্বব্যাপি পরিচিত। এখন আসুন জানি কিভাবে অ্যালোভেরার ১০টি গুন জানলে আপনিও অবাক হতে বাধ্য হবেন।

সূচিপত্রঃ অ্যালোভেরার ১০টি বিশেষ গুলাগুন ও তার ব্যাবহার

স্বাস্থ সচেতনতায় অ্যালোভেরার ব্যাবহার

অ্যালোভেরার ১০টি গুন এর মধ্যে অন্যতম স্বাস্থ সচেতনতায় অ্যালোভেরার ব্যাবহার। সাধারণত রূপচর্চা ও ভেষজ ওষুধ সমৃদ্ধ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। অ্যালোভেরা একাধারে হজম শক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য আরোও অনেক রোগের প্রতিকার হিসেবে অ্যালোভেরা অন্যান্য ভেষজ উদ্ভিদ থেকে অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। অ্যালোভেরা হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক অলৌকিক উদ্ভিদ যার নিয়ম হতে ব্যবহারে স্বাস্থ্য থাকে সুস্থ ও মন থাকে সবল। আসুন জানি স্বাস্থ্য সচেতনতায় অ্যালোভেরার কয়েকটি ব্যবহার।

হজম শক্তি বাড়াতেঃ অ্যালোভেরাতে বিদ্যমান এনজাইম, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও প্রোবায়োটিক উপাদান সমুহ অধিকাংশ বাড়াতে সাহায্য করে। হজম শক্তি বাড়াতে অতীত কাল থেকে অ্যালোভেরা সঙ্গে ধরো কিছু উপাদান ব্যবহার করে আসছে। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু উপাদান হচ্ছে অ্যালোভেরার জুস, মধু ও অ্যালোভেরা, হলুদের গুঁড়ো ও অ্যালোভেরার জুস ইত্যাদি খুবই জনপ্রিয়। উপরোক্ত উপাদানগুলো ব্যবহার করে অ্যালোভেরা জুস নিয়মিত পান করলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দূর হয়, হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় পেট ফাঁপার মতো অতি সাধারণ সমস্যার সমাধান ঘরোয়াপদ্ধতিতেই পাওয়া যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেঃ অ্যালোভেরার নিয়মিত ব্যাবহারের ফলে শরীরের আন্টি অক্সিডেন্টের পরিমান বৃদ্ধি পায় যার ফলে শর্দি, কাশির মত সাধারন কিছু রোগ শরীরে বাসা বাঁধতেই পারে না। মাঙ্ক শরীরের অন্ত্রে ৭০ শতাংশের মত ইমিউনো কোষ থাকে অ্যালোভেরা নিয়মিত ব্যাবহারের ফলে শরীরের ভালো ব্যাকটেরিয়ার পরিমান বাড়িয়ে দেয় যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়াও শরীরের ইনফেকশন জনিত ব্যাকটেরিয়াকে ধংশ করে ফেলে এবং এ, বি, ই, জিংক, অ্যামিনো অ্যাসিডের মতো গুরুত্বপুর্ন ভিটামিনের অভাব পূরন করে থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনেঃ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে অন্যতম উপাদান সমূহ হচ্ছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম যা অ্যালোভেরাতে বিদ্যমান। তাই অ্যালোভেরা নিয়মিত সেবন করলে উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যার সাময়িক সমাধান পাওয়া যায়। তাছাড়াও অ্যালোভেরার জেল রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে এবং রক্তে কলেস্টরলের মত্রা কমিয়ে আনে যার ফলে উচ্চ রক্ত চাপের মত সমস্যার সাময়িক সমাধান পাওয়া যায়।

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

অ্যালোভেরার ১০টি গুন এর মধ্যে আরেকটি অন্যতম ব্যাবহার হচ্ছে ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা বহুকাল থেকে ব্যাবহার করা হয়ে আসছে। বাজারে সহজলভ্য আবার বাড়ির আশে পাশে অযত্নেও খুব তাড়াতাড়ি এই গাছ জন্মায় বলে প্রাত্যহিক জীবনে অ্যালোভেরার ব্যাবহার স্বচ্ছল ভাবেই করা যায়। তাছাড়াও অ্যালোভেরা ব্যাবহারে কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া না থাকায় সব ধরনের মানুষ এই উদ্ভিদ ব্যাবহার করতে পারে। তবে অ্যালোভেরা ব্যাবহারের পূর্বে অবশ্যয় খেয়াল রাখতে হবে যে শরীরেব কোনো প্রকার এলার্জি আছে কি না।

ঘরে বসেই অ্যালোভেরাতে এলার্জি আছে কিনা তা পরিক্ষা করার মাধ্যম হচ্ছে দুই হাতের কবজিতে আলতোভাবে অ্যালোভেরা লাগিয়ে ঘুষতে থাকতে হবে যদি হাতের কবজি লাল হয়ে যায় বা দানা দানা কিছু বের হয়ে চুল্কাতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে আপনার শরীরে অ্যালোভেরায় এলার্জি আছে। যদি অ্যালোভেরায় এলার্জি থেকে থাকে তাহলে অ্যালোভেরা ব্যাবহার করা অথবা পান করা থেকে দূরে থাকতে হবে অথবা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হবে।


ব্রনের দাগ দূর করতে ঃ ব্রনের দাগ দূর করতে অ্যালোভেরার ব্যাবহার অতি সহজ ও কার্যকরী। ব্রনের দাগ দূর করার জন্য অ্যালোভেরা বিভিন্ন ভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে। তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কিছু ঘরোয়া রেমেডি হচ্ছে অ্যালোভেরার রসের সাথে মধু অথবা হলুদের গুড়ো একসাথে পেস্ট আকারে মুখে মেখে কিছুক্ষন পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এর ফলে ত্বকে থাকা ক্ষতিকত ব্যাকটেরিয়া যা ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে দেয় তা ধ্বংস হয়ে যায় ফলে ব্রন মুক্ত সুন্দর ত্বক পাওয়া যায়। ঠিক একই রেডেমি ব্যাবহার করে ত্বকের কালচে দাগ, রোদে পুড়া ত্বক ও ত্বকের সুষ্কতা দূর করা সম্ভব।

চুলের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

চুলের যত্নে অ্যালোভেরার জেল নানান কারনে ব্যাবহার করা হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম কারন হচ্ছে চুলের খুসকি দূর করতে, চুলের গোড়া শক্ত করতে, চুলের ড্যামেজ প্রতিহত করা আরোও অনেক কারনে অ্যালোভেরার ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। তবে লক্ষ রাখতে হবে যে সরাসরি চুলে অ্যালোভেরা জেল ব্যাবহারের পূর্ব অবশ্যয় অ্যালোভেরাতে এলার্জিটিক সমস্যা আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। কেননা বর্তমানে অতিরিক্ত মাত্রায় পরিবেশ দূষনের কারনে এলার্জিটিক সমস্যা অত্যাধিক মাত্রায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসুন আমরা জানি কিভাবে চুলের যত্নের অ্যালোভেরা জেল ব্যাবহার করতে হয়।

চুলে অ্যালোভেরা জেল নানা ভাবে ব্যাবহার করা যায়। চার থেকে পাঁচ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সাথে এক বা দুই চা চামচ মধু ও  তিন থেকে চার ফোটা লেবুর রস একত্রে মিশ্রন করে মাথায় আধা ঘন্টার জন্য লাগিয়ে রেখে দিতে হবে। আধা ঘন্টা পরে সাম্পু করে সম্মুর্ন মাথা ধুয়ে ফেলতে হবে। মাথার চুল শুকানোর কিছুক্ষনের পরেই লক্ষ করা যাবে যে চুল অনেক সুক্ষ ও কিছুটা রদের ড্যামেজ রিকোভার হয়ে গেছে। তবে অবশ্যয় খেয়াল রাখতে হবে মাথায় সরাসরি ব্যাবহারের পূর্বে এলার্জি জনিত সমস্যা পরিক্ষা করতে হবে তাছাড়াও বাজারে প্যাকেটজাত কৃত নানান অ্যালোভেরা জেল পাওয়া যায় যাগুলো টক্সিক উপাদান থাকতে পারে তাই তা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে এবং প্রাকিতিক অ্যালোভেরা ব্যাবহার করতে হবে।

ওজন কমাতে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

খাবার হিসেবে অ্যালোভেরার স্বাদ ভালো না হলেও পুষ্টি গুনের দিক থেকে অ্যালোভেরার জুড়ি মেলা ভার। কারন অ্যালোভেরাতে একাধারে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান সমুহ যা ড্যায়েট হিসবে নিয়মিত ও পরিমান মত সেবন করলে ওজন কমাতে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে মনে রাখতে হবে অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক উপাদান ও তেমন কোনো পার্শপ্রতিকৃয়া নেই বলেই যে এটি একটি সুপার ফুড বা মিরাকেল ফুড তা ভাবলে ভুল হবে। ওজন কমাতে হলে অবশ্যই প্রপার ড্যায়েট কন্ট্রল করতে হবে, নিয়মিত ৭-৮ গ্লাস পানি পান করতে হবে ও সাথে অ্যালোভেরার মত ঘরোয়া রেমেডি ব্যাবহার করলে আশানুরুপ দ্রুত ফল পাওয়া যায়।

ওজন কমানোর জন্য অ্যালোভেরার ঘরোয়া রেমেডি হচ্ছে নিয়মিত প্রতিদিন অ্যালোভেরার জুস খাওয়া। অ্যালোভেরার জুস বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যেতে পারে যেমন সরাসরি অ্যালোভেরা জুস খাওয়া অথবা অ্যালোভেরার সঙ্গে বিভিন্ন প্রকারের ফল যেমন আপেল, কমলা, পিস অথবা শসা ইত্যাদি দিয়ে জুস তৈরি করে পান করা। এতে করে অ্যালোভেরার এক ধরনের সুন্দর ফ্লেভার উপভোগ করা যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে অ্যালোভেরার হলুদ রাসায়নিক পদার্থ যাতে না সেবন করে কারন এর ফলে বিষকৃয়া হতে পারে। তাই অ্যালোভেরা ব্যাবহারে অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে ও খেয়াল রাখতে হবে যাতে অ্যালোভেরার হলুদ অংশ না থাকে।

রক্ত পরিষ্কার করতে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

অ্যালোভেরার ব্যাবহার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে রক্ত পরিষ্কারে অ্যালোভেরার ব্যাবহার। নিয়মিত প্রতিদিন সকালে দুই থেকে তিন চা চামচ অ্যালোভেরার পাতার রসের সাথে অল্প পরিমাণ লেবু, মধু ও গরম পানি মিশিয়ে যদি খাওয়া যায় তাহলে শরীর থেকে টক্সিন পদার্থ বা আমরা যাকে রক্তের বর্জন নামে চিনে থাকি তা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকবে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া। তাছাড়াও এর নিয়মিত ব্যবহারের ফলে লিভার ও যকৃতের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও শরীর সুস্থ ও সকল থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এর অতি রক্ত রক্ত ব্যবহার অথবা এলার্জিটিক সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উত্তম।

নিয়মিত প্রতিদিন সকালে দুই থেকে তিন চা চামচ অ্যালোভেরার পাতার রসের সাথে অল্প পরিমাণ লেবু, মধু  ও গরম পানি মিশিয়ে যদি খাওয়া যায় তাহলে শরীর থেকে টক্সিন পদার্থ বা আমরা যাকে রক্তের বর্জন নামে চিনে থাকি তা ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকবে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া। তাছাড়াও এর নিয়মিত ব্যবহারের ফলে লিভার ও যকৃতের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও শরীর সুস্থ ও সকল থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে এর অতি রক্ত রক্ত ব্যবহার অথবা এলার্জিটিক সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা উত্তম।

ডায়েটে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

শরীরকে সুস্থ সবল ও ফিট রাখার জন্য মূলত ডায়েট বা খাদ্য সংযোম করা হয়ে থাকে। ডায়েট করা যতটা শুনতে সহজ মনে হয় ঠিক ততটাই তা মেইনটেইন করা কঠিন। কেননা একটি প্রপার ডায়েটের জন্য নিয়মিত শরীর চর্চা, খাদ্য অভ্যাসের পরিবর্তন, ফাস্টফুড অথবা তৈলাক্তক খাবার পরিহার করতে হয় ও পরিমাণমতো পানি পান করতে হয়। ঠিক এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে চলতে গিয়ে অনেক সময় অনেকে ডায়েট করতে পারে না। ঠিক এই কারণেই অ্যালোভেরার ব্যবহার জনপ্রিয়।

ডায়েটে অ্যালোভেরা কখনো ম্যাজিক বা মিরাকেলের মতন কাজ করে না। মূলত ডায়েটে অ্যালোভেরার ব্যবহার করা হয় ডায়েটকে সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত করতে। অ্যালোভেরাতে থাকা ভিটামিন এ, সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে সচল ও প্রয়োজনে ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করে এবং ডায়েটে যে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা যায় তা পূরণ করে শরীরকে সুস্থ রাখে। মনে রাখতে হবে যে অ্যালোভেরাতে সাধারণত কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকলেও অনিয়মিত ব্যবহার ভুল ভাবে প্রয়োগের ফলে সুবিধার চাইতে অসুবিধা হতে পারে তাই ব্যবহারে পূর্বে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করার উত্তম।

হিমোগ্লোবিনের পরিমান বাড়াতে 

হিমোগ্লোবিন হচ্ছে মানব শরীরের রক্তের একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ রক্ত উপাদান। এটি হলো লোহিত রক্তকণিকা আর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ যা রক্তের প্রোটিন ও লাল রং প্রদানের মুখ্য ভূমিকা পালন করে। হিমোগ্লোবিনের ব্যতীত মানব শরীরের রক্ত কখনো লাল হতে পারে না। তাই মানব শরীরে রক্তে ব্যালেন্সের জন্য হিমোগ্লোবিনের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না। হিমোগ্লোবিনের কিছু মুখ্য কাজ হল রক্ত অক্সিজেনের পরিবহন করা, কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করা, শরীরের সঠিক আয়রনের পরিমাণ নিশ্চিত করে রক্তস্বল্পতা দূর করা। তাই বুঝাই যাচ্ছে যে মানব শরীরে হিমোগ্লোবিনের ভূমিকা কত। তাই হিমোগ্লোবিন বাড়াতে অ্যালোভেরার ব্যবহার অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত অ্যালোভেরার ব্যবহারের কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেড়ে যায় যার ফলে অক্সিজেনের সরবরাহ বেড়ে যায় এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের প্রক্রিয়া দ্রুত হয়। তাছাড়া রক্তে আয়রনের পরিমাণ নিশ্চিত করে এবং রক্তস্বল্পতা দূর করে। তাছাড়াও শরীরর দুর্বলতা কমিয়ে সুস্থ-সবল ও শক্তিশালী করে। তাছাড়াও হাত পা ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া, শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, অনিদ্রা, হৃদস্পন্দন বাড়ার মতন সমস্যার সমাধান নিয়মিত অ্যালোভেরার ব্যবহারের করার ফলে হয়ে থাকে। মূলত এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ার ফলে। তবে এর অনিয়ত ব্যবহার অথবা অসতর্কতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

মানসিক চাপ কমাতে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

বর্তমান সময়ে মানুষের ক্যারিয়ারের চিন্তা, কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা ও বিভিন্ন কারণে মানুষের চাপ যেন মানুষের একটি দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এ মানুষের চাপের কারণে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে যেমন বাধা হয়ে আসে ঠিক তা একইভাবে পরিবার অথবা সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপ কমানোর জন্য মানুষ বিভিন্ন প্রকার চিকিৎসা সম্মুখীন হয়ে থাকে যা এক এক সময় কাজে আসে আবার এক এক সময় কাজে নাও আসতে পারে। তবে চিকিৎসা সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে অনেকে নাও করে থাকে বা অসচেতনতাই ভোগে।

কেমন হতো যদি এই চিকিৎসা সমাধান ঘরে বসেই কিছুটা হলেও নিরাময় করা যেত। খুব ভালো হতো তাই না। অন্যান্য সকল সাধারণ ব্যবহারের মতন অ্যালোভেরা ব্যবহার করেও মানসিক সবকিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে বলে রাখা ভালো যে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে যে ভালো হবেই তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তবে কিছু না করার চাইতে করা ভালো। তাই নিয়মিত অ্যালোভেরা ব্যবহার করে কিছু কিছু হলেও উপকার পাওয়া গেলে তাও অনেক। ক্ষেত্রে আপনি বিভিন্নভাবে ব্যবহার করতে পারেন। নিচে কিছু পরামর্শ ও মানসিক চাপ কমাতে অ্যালোভেরা ব্যবহার দেওয়া হল আশা করি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।

মনে রাখতে হবে যে মানসিক চাপে একটি সম্পূর্ণ মানুষের ব্যক্তিগত এবং মানুষের চিন্তাভাবনা ও কাজে চাপের কারণে হয়ে থাকে। তাই সবার প্রথমে অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা বাদ দিতে হবে এবং ব্যক্তি জীবনের সকল কাজকে সহজত্বর করতে হবে। নিয়মিত হাঁটাচলা সহ নিয়মিত খাবার গ্রহণ করতে হবে এবং ব্যক্তিজীবনের সকল কাজকে সহজভাবে ভাবতে হবে ও চিন্তামুক্তভাবে করতে হবে এতে কিছুটা হলেও মানসিক চাপ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। সেই সাথে আপনি এলোভেরা তৈরি বিভিন্ন প্রকার সাপ্লিমেন্ট অথবা জুস খরবেশে তৈরি করে খেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার এই কাজটি করা সহজত্বর হতে পারে বলে আশা করা যায়।

মেকআপ রিমুভার হিসেবে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

বর্তমান সময়ে বিশেষ করে মেয়েদের কাছে মেকআপ একটি অতি সাধারণ প্রসাধনী সামগ্রী। এটি অতি সাশ্রয়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য তাছাড়াও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থাকার কারণে ব্যবহার করা অতি সহজ।তবে মেকআপ নির্মাণ হিসেবে অ্যালোভেরার ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই কিছু দিক খেয়াল রাখতে হবে।উদাহরণস্বরূপ কার কার ক্ষেত্রে এলোভেরা ত্বকে সরাসরি ব্যবহারের জন্য এলার্জেটিক সমস্যা দেখা দিতে পারে অথবা ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলতে পারে।  তাই মেকআপ নির্মাভার হিসেবে ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই অ্যালোভেরা তোকে সোহনযোগ্য কিনা তার যাচাই করে নিতে হবে।


মেকার রিমুভার হিসাবে অ্যালোভেরা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে সবচেয়ে সহজ ও ঝামেলা মুক্ত দুটি নিয়ম হচ্ছে সরাসরি অ্যালোভেরা ত্বকেব্যবহার ও অ্যালোভেরা ও গোলাপজলের মিশ্রণ।সরাসরি তাকে ব্যবহারের জন্য কিছু পরিমাণে অ্যালোভেরা নিয়ে তা ত্বকে কিছুক্ষণ ম্যাসেজ  করলে মেকআপ সহজে উঠে যায় অথবা ওয়াটার প্রুফ মেকআপ তোলার জন্য অ্যালোভেরা ও গোলাপজল একত্রে মিশ্রিত করে কিছুক্ষণ তাকে ম্যাসাজ করলে মেকআপ করে সহজেই উঠে যায়।বলে রাখা ভালো যে সংবেদনশীল ত্বকের জন্য মেকআপ মেম্বার হিসেবে অ্যালোভেরার ব্যবহার নিরাপদ ও সহজলভ্য। তবে ত্বকে এনার্জি আছে নাকি তা অবশ্যই আগে পরীক্ষা করে নিতে হবে।

প্রকৃতিক কোলাজিন উৎপাদনে অ্যালোভেরার ব্যাবহার

কোলাজিন হচ্ছে মানব শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মানব শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য কোলাজিন এর ভূমিকা তুলে না ধরলেই নয়। কোলাজিন হচ্ছে মানব শরীরের একটি প্রধান প্রোটিন যা ত্বক, হাড়ের জয়েন্ট বা লিগামেন্ট, বয়সের ছাপ বুঝতে না দেওয়া, ত্বকের দৃঢ়তা বজায় রাখা ও হাড় শক্তিশালী করার মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে। মানব শরীরে কোলাজিন কমে গেলে বিভিন্ন রকমের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শরীরে বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া, চুল পড়া শুরু করা, নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া তাছাড়াও হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়ার মত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

তাই খুব সহজে ঘরে বসেই বিনা পরিশ্রমে প্রাকৃতিক কোলাজিন উৎপাদন করা গেলে কেমন হয়। তাই আসুন জানি কিভাবে ঘরে বসেই অ্যালোভেরা ব্যবহার করে কোলাজিন এর ঘাটতি পূরণ করা যায়।অ্যালোভেরা ব্যবহার করে ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজিন উৎপাদনের অন্যতম সহজ মাধ্যম গুলো হচ্ছে অ্যালোভেরা ও লেবু অথবা নারিকেল তেল অথবা গ্রিন টি ব্যবহার করে তৈরিকৃত মাস্ক। উপরে তিনটি উৎপাদনের নিয়মসমূহ একই। কিছু পরিমান অ্যালোভেরার জেলের সাথে লেবুর রস, নারিকেল তেল অথবা গ্রিন টি পানিও দিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে মুখে লাগাতে হবে।

এর ফলে ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে কোলাজিন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া কোলাজিন উৎপাদন করা সম্ভব।নিয়মিত এই মিশ্রণ ব্যবহারের ফলে ত্বকে কোলাজিনের পরিমাণ সঠিক মত থাকবে যার ফলে ত্বকে সাধারণ সমস্যাগুলো অতি সহজে নির্ণয় করা সম্ভব হবে। উদাহরণস্বরূপ ত্বক টান টান হবে, শরীর থেকে বয়সের ছাপ কমবে, হাত ও পায়ের নখ সুন্দর হবে তাছাড়াও কোলাজিন জনিত যত প্রকার সমস্যা আছে এই পদ্ধতি ব্যবহার করলে তার সমস্যা ঘরে বসেই সমাধান করা অথবা নিরাময় করা সম্ভব বলে ধারণা করা যাচ্ছে। 

পরিশেষে

অ্যালোভেরা হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক ভেষজ গুন সম্পন্ন উদ্ভিদ যা বহুকাল ধরে রূপচর্চা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ছোট বড় চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করে আসছে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসক গন। বিশেষ করে  রূপচর্চায় অ্যালোভেরার ব্যবহার অতীত থেকে খুবই জনপ্রিয় এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিহীন হওয়ার কারণে বর্তমান যুগে এসেও এর ব্যবহার রয়েছে অতুলনীয়। তবে আমাদের উচিত হবে কোন কিছু ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই তা আমাদের শরীরের পক্ষে উপকারী কিংবা ক্ষতিকর কিনা তা যাচাই বাছাই করে ব্যবহার করা। অ্যালোভেরার ক্ষেত্রেও তা ব্যতিক্রমী নয়।

অ্যালোভেরা বিশেষ করে রূপচর্চায় বেশি ব্যবহার করা হয় বলে বাজারে বিভিন্ন ধরনের অ্যালোভেরা জাতীয় জেল বিক্রি করা হয়ে থাকে। যার বেশিরভাগই হচ্ছে ক্ষতিকার কেমিক্যাল দ্বারা তৈরিকৃত। তাই বাজার থেকে ক্রয় করার পূর্বে অবশ্যই যাচাই-বাছাই করে এসব প্রোডাক্ট কিনতে হবে। তাছাড়াও অ্যালোভেরা ব্যবহার করবে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিতে হবে যে অ্যালোভেরা শরীরের সহনযোগ্য কিনা। কারণ অনেকের এলার্জিটিক কারণে অ্যারোবেরা ত্বকে সহ্য নাও করতে পারে। সে ক্ষেত্রে উচিত হবে এটি ব্যবহার করবে অবশ্যই অভিজ্ঞ অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করা। সকল বিষয় নিজের সচেতন হতে হবে এবং অন্যকেও সচেতন করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url