আর্টিকেল লিখার আগে আমাদের জানতে হবে আর্টিকেল কি? আর্টিকেল হলো মূলত কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর তথ্য বহুল ও বিশ্লেষন মূলক
লিখালেখি যা দেখে বা পড়ে পাঠক কিছু জানতে পারবে।
আর্টিকেল লিখবো তার মধ্যে অন্যতম কারন হচ্ছে আমাদের লিখা আর্টিকেল পড়ে পাঠক কিছু জানতে পারবে এবং এই আর্টিকেল লিখেই মাসে কিছু ইনকাম জেনারেট করা।
এই ব্লগ পড়ে আমরা যা যা জানতে পারবো ঃ
বাংলা আর্টিকেল কি এবং কেন লিখবো ?
বাংলা আর্টিকেল লিখার আগে আমাদের জানতে হবে আসলে আর্টিকেল কি এবং আমাদের
মূল্যবান সময় নষ্ট করে কেনই বা আর্টিকেল লিখবো। আর্টিকেল হলো মূলত কোনো
নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর তথ্য বহুল ও বিশ্লেষন মূলক লিখালেখি যা দেখে বা পড়ে পাঠক
কিছু জানতে পারবে অথবা প্রভাবিত হবে। আমরা বিভিন্ন কারনে বাংলা আর্টিকেল লিখবো
তার মধ্যে অন্যতম কারন হচ্ছে আমাদের লিখা আর্টিকেল পড়ে পাঠক কিছু জানতে পারবে
এবং এই আর্টিকেল লিখেই মাসে কিছু ইনকাম জেনারেট করা।
আমরা কিভাবে আর্টিকেল লিখে ইনকাম জেনারেট করতে পারি তা আমরা ধীরে ধীরে জানবো
তার আগে আমাদের জানতে হবে আসলে আর্টিকেল লিখে কিভাবে। তাই আমাদের এই
উপস্থাপনায় আমরা জানবো একদম জিরো থেকে কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয়।
বাংলা আর্টিকেল লিখার বেসিক নিয়ম
আমরা যদি কোনো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি তাহলে আমারা এই কাজ কিভাবে শুরু
করবো তার জন্য একটি পরিকল্পনা বা চিন্তাভাবনা করি। ঠিক একই ভাবেই বাংলা
আর্টিকেল লিখার জন্য আমাদের কিছু পরিকল্পনার প্রয়োজন হবে। এই পরিকল্পনা বা
পদ্ধতি অনুসরন করলেই আর্টিকেলকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব। আসুন জানি
উক্ত পদ্ধতি গুলো কি কি ঃ
-
বিষয়বস্তু নির্বাচন করা
-
উক্ত বিষয়বস্তু সম্পর্কে রিসার্চ করা
-
আকর্ষণীয় শিরোনাম দেওয়া
-
আর্টিকেলের কাঠামো তৈরি করা (যেমন ঃ ভূমিকা, মূল অংশ এবং উপসংহার)
-
সহজ ও শালীন ভাষার ব্যাবহার
-
লিখার বানান পর্যবেক্ষন করা
-
প্রাসঙ্গিক ছবি বা চার্ট যোগ করা
-
অপ্রাসঙ্গিক কোনো কথা বা উক্তি না লিখা
আসুন এখন উপরের বেসিক টপিকস গুলো বিস্তারিত আলোচনা করার ও জানার চেষ্টা করি।
বিষয়বস্তু নির্বাচন করা
কোনো বিষয়ে কিছু লিখার আগে অবশ্যয় বিষয়বস্তু নির্বাচন করতে হবে। বিষয়বস্তু নির্বাচনের পূর্বে অবশ্যয় খেলাল রাখতে হবে যাতে ঐ বিষয়বস্তুর উপর পাঠকের আকর্ষন থাকে। বিষয়বস্তু বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে যেমনঃ শিক্ষামূলক, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাহিত্য, প্রযুক্তি, সমকালীন ঘটনা অথবা ট্রেন্ডিং কোনো কিছু। মূল লক্ষ থাকতে হবে যাতে পাঠকের চাহিদা সম্পূর্ন হয়।
বিষয়বস্তু সম্পর্কে রিসার্চ করা
বিষয়বস্তু নির্বাচনের পরেই অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে বিষয়বস্তু সম্পর্কে রিসার্চ করা। উক্ত বিষয়বস্তু সম্পর্কে রিসার্চ না করলে সুন্দর ভাবে কন্টেন্টকে উপস্থাপন করা যাবে
না। যার ফলে পাঠকদের কাছে আমাদের তথ্য নির্ভরশীল নাও হতে পারে তাই কোনো কিছু
লিখার পূর্বে অবশ্যয় ওই বিষয় নিয়ে রিসার্চ করতে হবে। রিসার্চ করার জন্য আমরা
বিভিন্ন মাধ্যম ব্যাবহার করতে পারি। যেমন ঃ বই,
ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা, সাক্ষাতকার ইত্যাদি। বিষয়বস্তু সম্পর্কে রিসার্চ করার পর অবশ্যয় লিখাগুলো নিজের মতো করে লিখতে হবে।
আকর্ষণীয় শিরোনাম দেওয়া
শিরোনাম অবশ্যয় সুন্দর, শালীন এবং আকর্ষনীয় হতে হবে। যাতে পাঠক শরোনাম দেখেই
আর্টিকেলটি পড়তে চায়। লিখার সাথে মিল নেই এমন কোনো শিরোনাম দেওয়া যাবে। এমন
কোনো শিরোনাম লিখলে পাঠক বিভ্রান্ত বা বিরক্ত হতে পারে এবং আমাদের প্রতি আসস্থা
হারিয়ে ফেলতে পারে। তাই লিখার সাথে মিল রেখে একটি সুন্দর এবং আকর্ষনীয় শিরোনাম
উপস্থাপন করতে হবে।
আর্টিকেলের কাঠামো তৈরি করা
প্রত্যেক জিনিসের যেমন কাঠামো আছে ঠিক তেমনি আর্টিকেল লেখারও কাঠামো আছে। একটি আর্টিকেল লিখার জন্য সাধারনত তিনটি অংশ
থাকে সেগুলো হলো ভূমিকা, মূল অংশ, উপসংহার। এই তিনটি অংশের সমন্বয়য়ে আর্টিকেল
লিখা হয়। আসুন এই তিন অংশকে সংক্ষেপে জেনে নেওয়া যাক।
ভুমিকাঃ ভুমিকা বলতে সাধারনত কোনো বিষয় বস্তুর সংক্ষিপ্ত রুপকে বোঝায়। তাই ভুমিকা এমন হতে হবে যে শুধু ভুমিকা পড়েই পাঠকের সম্পুর্ন আর্টিকেল পড়ার আগ্রহ জাগে।
মূল অংশঃ মূল অংশে আর্টিকেলের বিষয়বস্তুকে গুছিয়ে লিখতে হবে। তথ্য,বিশ্লেষন,যুক্তি ও উদাহরন দিয়ে মূল অংশকে তথ্য বহুল করতে হবে।
উপসংহারঃ উপসংহারে সমস্ত আর্টিকেল এর সারমর্ম লিখতে হবে এবং পাঠককে মতামত প্রদান করতে উৎসাহিত মূলক কথা লিখতে হবে।
সহজ ও শালীন ভাষার ব্যাবহার
আর্টিকেল লেখার সময় অবশ্যয় সহজ ও শালীন ভাষা ব্যাবহার করতে হবে। এমন কোনো কথা
লেখা যাবে না যাতে ওই কথা পড়তে রুচি অসম্মত বা খারাপ লাগে। মনে রাখতে হবে
আর্টিকেল রাইটিং এ মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠকে রুচি সম্মত ও তথ্য সম্মত আর্টিকেল
উপহার দেওয়া তাই আর্টিকেল রাইটিং এ সহজ ও শালীন ভাষা ব্যাবহার অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ন।
লিখার বানান পর্যবেক্ষন করা
প্রথম প্রথম লিখতে গেলে বানান ভুল হবে এইটাই স্বাভাবিক। তবে লিখার পর অবশ্যই
বানার ঠিক আছে কিনা তা যাচাই করতে হবে। একটি কন্টেন্ট এর বানান অনেক প্রভাব
ফেলে তাই লিখার বানান পর্যবেক্ষন গুরুত্বপূর্ন।
প্রাসঙ্গিক ছবি বা চার্ট যোগ করা
একটি আর্টিকেলকে আকর্ষনীয় করতে ওই আর্টিকেলে ছবি যোগ করার চেয়ে আর অন্য কোনো
বিকল্প নেই। তাই আর্টিকেল লেখার আগে অবশ্যই ওই কণ্টেন্ট এর প্রেক্ষিতে ছবি
তৈরি করতে হবে বা কপীরাইট মুক্ত ছবি উপস্থাপন করতে হবে। আমরা পরে আরো
বিস্তারিত জানবো কিভাবে একটি আর্টিকেলের জন্য ছবি বা চার্ট তৈরি করতে হয়।
অপ্রাসঙ্গিক কোনো কথা বা উক্তি না লিখা
একটি আর্টিকেলকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে যতটুকু পরিশ্রম করতে হয় তার চেয়ে
কম সময় লাগে ওই আর্টিকেলকে নষ্ট করতে অপ্রাসঙ্গিক কোনো কথা বা উক্তি লিখলে। তাই লিখার সময় অবশ্যয় অপ্রাসঙ্গিক কথা এড়িয়ে চলতে হবে।
শেষ কথা
আর্টিকেল লিখার বেসিক নিয়ম জানার পর আমাদের জানতে হবে কিভাবে প্রফেশনাল মানের
আর্টিকেল লিখতে হয়। কারন বর্তমানে প্রতিনিয়ত অনেক আর্টিকেল পাব্লিশ করা হচ্ছে। ফলে তাদের সাথে টক্কর দিতে বা বাজারে টিকে থাকতে হলেন অবশ্যয় প্রফেশনাল মানের
আর্টিকেল রাইটিং এর গুরুত্ব তুলে না ধরলেই নয়।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url