তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

তুলসি লোক মুখে প্রচলিত জনপ্রিয় একটি নাম । বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির যুগে সাধারন সর্দি, কাশিতে মেডিসিন ব্যাবহার করলেও এই অতি সাধারন রোগের চিকিৎসা তুলসী পাতার ব্যাবহারেই করা সম্ভব । বর্তমানে তুলসি পাতার ব্যাবহার কমে গেলেও বহু বছর ধরে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসাই এই পাতার ব্যাবহার হয়ে আসছে ।

তুলসি পাতার ব্যাবহার যেমন সাধারন রোগ সারাতে সাহায্য করে ঠিক তেমনি ক্যান্সারের মত মরনঘাতি রোগের জন্য প্রতিকারও হতে পারে । বহু বছর ধরে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসা ক্ষেত্রে তুলসি পাতা অনন্য ভুমিকা রয়েছে । তবে, এই পাতার যেমন রয়েছে উপকারিতা তেমনি রয়েছে কিছু অপকারিতা । আসুন জানি তুলসি পাতার উপকারি ও ক্ষতিকর দিক গুলি ।

সূচিপত্র ঃ তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

তুলসি পাতার উপকারিতার দিক সমুহ

তুলসি গাছ সাধারনত শহর অঞ্চলে দেখা না গেলেও এখনো গ্রাম অঞ্চলের দিকে তুলসি গাছ দেখা যায় । বর্তমান আধুনিক চিকিৎসার যুগে মানুষ আর ভেসজ উদ্ভিদ ব্যাবহার না করার কারনে অন্যান্য ভেসজ উদ্ভিদের মত তুলসি গাছও প্রায় বিলুপ্তির পথে । তবে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসায় তুলসি পাতার রখনো রয়েছে ব্যাপক ব্যাবহার । তুলসি পাতা সঠিক ভাবে ব্যাবহার করে সাধারন শর্দি, কাশি থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মত মরন ঘাতি রোগের প্রতিরোধও করা সম্ভব ।

সঠিক নিয়মে তুলসি পাতা ব্যাবহার করে শর্দি,কাশি,জ্বর,ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ থেকে শুরু করে একজন মানুষের সাধারন রোগ সমুহ যেমন অ্যালার্জি প্রতিরোধে, ব্রনের দাগ নিরাময় ও গ্যাস্টিকের মত সাধারন রোগের জন্য টাকা খরচ করে ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যয় প্রকিতিক এই উপাদান ব্যাবহার করা যথাযত যুক্তসম্মত । কোনো জিনিস ব্যাবহারের পূর্বে অবশ্যয় নিয়ম মেনে করতে হবে । আসুন জানি কিভাবে তুলসি পাতার ব্যাবহার করে আমাদের দৈন্দন্দিন জীবনের সাধারন রোগ সমুহ প্রতিকার করতে পারি ।

ঠান্ডা ও কাশিতে তুলসি পাতার ব্যাবহার

বাংলাদেশ নাতি শীতষ্ক দেশ হওয়ার কারনে ঠান্ডা ও কাশির মতো রোগ আমাদের কাছে একটি অতি জনপ্রিয় ও বিরক্তিকর একটি রোগ । ঠান্ডা ও কাশির কারনে আমাদের দৈন্দন্দিন জীবনে চলাফেরা করা যেমন অসস্তিকর লাগের ঠিক তেমনি এই সাধারন রোগ বিপত্তির কারণ হয়ে দাড়ায়ও বটে । সাধারনত ঠান্ডা ও কাশির জন্য আমরা ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়েই অনেক সময় অনেক ঔষধ সেবন করে থাকি এতে অনেক সময়  ঠান্ডা ও কাশি কমে গেলেও পরবর্তিতে এই সমস্যা থেকে অন্য সমস্যার সম্মক্ষিন হওয়ার চান্স থাকে ।

কিন্তু আমরা খুব সহজেই কোনো স্বাথ্য ঝুঁকি ছাড়াই ঘোরোয়া রেমিডি ব্যাবহার করেই ঠান্ডা ও কাশির মত সাধারন সমস্যার প্রতিকার করতে পারি । এই জন্য আমারা তুলসি পাতার চা পান করতে পারি । তুলসি পাতা, আদা ও চা পাতার মত সহজ লভ্য জিনিস ব্যাবহার করে চা পান করলে অতি তাড়াতাড়ি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । তুলসি পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে ঘুব সহজেই ঠান্ডা ও কাশির মত রোগ সৃষ্টিকারী জীবানু ধংস করে এবং আমাদের এই সমস্যা থেকে মুক্তি প্রদান করে । 

ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে তুলসি পাতার ব্যাবহার

আমাদের মানব শরীরে প্রায় ৩৯ ট্রিলিয়ন ব্যাকটেরিয়া থাকে । এই সকল ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে কিছু ব্যাকটেরিয়া শরীরের জন্য উপকারী আবার কিছু শরীরের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর । এই সকল ব্যাকটেরিয়াকে আমাদের শরীরের ইমিউন সিস্টেম নিয়ন্ত্রন করে যার কারনে আমরা সুস্থ থাকি । আবার যখন আমাদের শরীরের যখন ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে যায় তখন আমরা অসুস্থ হয়ে যায় । ধারনা করা হয়ে থাকে যে মানব শরীরের কোষের সংখার থেকে ব্যাকটেরিয়ার সংখা বেশি । 

তাই আমাদের শরীরের ব্যাকটেরিয়া নয়ন্ত্রন কতটা প্রয়োজনয় তা আমরা বুঝতেই পারছি ।আর ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে তুলসি পাতার ব্যাবহার অনেক জনপ্রিয় । তুলসী পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যান্ত কার্যকরী ভুমিকা পালন করে থাকে । ভিটামিন সি আমাদের শরীরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দমনের কাজে সহায়তা করে থাকে । তাই শরীরের ব্যাকটেরিয়া নয়ন্ত্রনে ও প্রতিরোধে তুলসি পাতার ভুমিকা বলে বুঝানো সম্ভম নয় ।

চুলের গোড়া মজবুত করতে তুলসি পাতার ব্যাবহার

চুল পড়া সমস্যা আমাদের প্রায় সিকলেরই আছে । অন্যান্য সাধারন সমস্যার মত এই সমস্যা হলেও চুল পড়া প্রতিরোধ চিকিৎসা অত্যান্ত ব্যায়বহুল । চুল পড়া সমস্যার চিকিৎসা অনেক টেস্ট, মেডিসিন ও সময় সাফেখ্য হওয়ার কারনে বর্তমানে প্রায় সবার এই সমস্যা থাকার পরেও কেও এই চিকিৎসা করার পদক্ষেপ উঠায় না । যার কারনে খুব অল্প বয়সে চুল পড়া শুরু করে এবং কিছুদিন যেতে না যেয়েই মাথার বিভিন্ন অংশের চুল ফাঁকা হয়ে যায় । এতে দেখতে যেমন খারার দেখায় ঠিক তেমনি সমাজে বিভিন্ন জায়গাই চলাফেরা করতে নিজের কনফিডেন্স হ্রাস পেতে থাকে যা ক্যারিয়ারে অনেক বড় বাধা বিপত্তির কারন হয়ে দাড়ায় ।

নিয়মিত তুলসি পাতার ব্যাবহার করলে চুল পড়ার মত সমস্যা কিছুটা হলেও বন্ধ হবে । কারন তুলসি পাতাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাথার ত্বকের সংক্রমণ দূর করে, খুশকি কমাতে সাহায্য করে ও চুলের গোড়া মজবুত করে থাকে । নিয়মিত ব্যাবহার করতে থাকলে মাথাতে খুশকির পরিমান অনেকাংশে কমে যাবে । খুশকির কারনে মুলত চুলের গুড়া ড্যামেজ হয় আর তুলসি পাতার রসের প্রভাবে মাথার ত্বকের সংক্রামক থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ফলে ধীরে ধীরে চুলের ত্বকের সমস্যা দূর করে চুলের গুড়া মজবুত করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে তুলসি পাতার রস ।

অ্যালার্জি প্রতিরোধে তুলসি পাতার ব্যাবহার

বর্তমানে অতিরিক্ত বাযু দূষনের কারনে অ্যালার্জি জনিত বিভিন্ন সমস্যা অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে । আবার অনেকের জন্মগত অথবা পারিবারিক কারনে অ্যালার্জি জনিত সমস্যার সম্মুখিন হয়ে থাকে । অ্যালার্জি জনিত সমস্যা একটি জটিল সমস্যা হিসেবে বিবেচিত করা হয়ে থাকে । কারন, অ্যালার্জি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে এবং এর প্রকারভেদও আলাদা হয়ে থাকে তবে অ্যালার্জির একটি বিষয়ের মিল পাওয়া যায় তা হলো শরীরের বিভিন্ন জায়গাই লাল দানা দানা গুটির মতো দাগ পড়ে এবং ভিশন জালা করে ও চুলকায় । 

অ্যালার্জি জনিত সমস্যা থেকে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চিরতরে মুক্তি পাওয়া না গেলেও সাময়িক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং অ্যালার্জি সমস্যার একটি শক্তিশালি প্রতিকার তৈরি করা যায় তাও আবার ঘরে বসে । তুলসি পাতা সাধারনত ধুলাবালি ও সিজনাল অ্যালার্জি থেকে মুক্তি পেতে সহায়তা করে থাকে । তুলসি পাতার নির্যাস নিয়মিত ব্যাবহারে সিজনাল যেইসব অ্যালার্জি থাকে এবং ধুলাবালি থেকে সৃষ্ট সাধারন অ্যালার্জি খুব সহজেই প্রতিকার করে থাকে ।


প্রাকিতিক বুস্টার হিসেবে তুলসি পাতার ব্যাবহার

প্রাকিতিক গুনাগুন সমৃদ্ধ তুলসী পাতায় রয়েছে বহুবিদ কার্যক্ষমতা । প্রাকৃতিক বুস্টার হিসেবে রয়েছে তুলসী পাতার অনেক কার্যকারী ব্যাবহার । তুলসী পাতা প্রাকৃতিক বুস্টার হিসেবে কাজ করে এবং শহজেই শরীর চাঙ্গা করে তুলতে সাহায্য করে কিন্তু তুলসী পাতাকে প্রাকৃতিক বুস্টার হিসেবে ব্যাবহার করার জন্যও রয়েছে কিছু নিয়ম কানুন । উক্ত নিয়ম অনুযায়ী তুলসী পাতা ব্যাবহার করলে অতি সহজেই শরীর চাঙ্গা করা সম্ভম অথবা যদি অতিরিক্ত ব্যাবহার বা অনিয়মিত ব্যাবহারে দেখা যেতে পারে স্বাস্থ ঝুঁকি । তাই আসুন জানি কিভাবে প্রাকৃতিক বুস্টার হিসেবে তুলসী পাতা ব্যবহার করতে হয় ।

তুলসী পাতা এবং আমাদের আশেপাশে থাকা নানান ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করে আমরা তুলসীপাতা কে বুঝার হিসেবে ব্যবহার করতে পারি । যেমন তুলসী পাতার চা । তুলসী পাতার চা অতীত কাল থেকে গ্রাম অঞ্চলের মানুষজন শরীরকে চাঙ্গা করতে ব্যবহার করে আসছে । কয়েকটি তুলসী পাতা এবং এক কাপ গরম পানি ব্যবহার করে অতি সহজে তুলসী পাতার চা তৈরি করা যায় । এইটা পান করলে সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয় এবং শরীর এনার্জি ঠিকভাবে অনুভব করে । তাছাড়া একইভাবে তুলসী পাতা চিবিয়ে খেলেও শরীরে এনার্জিটিক ভাব অনুভব করে এবং মুখের দুর্গন্ধ কিছুটা রাস পায় । তাছাড়াও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ক্ষেত্রে তুলসী পাতা ব্যবহার করে তৈরি করে আসছে বিভিন্ন এনার্জিটিক বোস্টার ওষুধ সামগ্রী ।

ব্রনের দাগ নিরাময়ে তুলসি পাতা

ব্রণ উন্নত ত্বকের একটি অতি সাধারণ সমস্যা । ত্বকের গ্রন্থিসমূহ অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ করলে ত্বকে থাকা লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ব্রণের উৎপন্ন হয় । ব্রণের কারণে ত্বকের বড় কোন সমস্যা সৃষ্টি না করলেও একজন মানুষ অন্য আরেকজন মানুষের সামনে তার নিজের কনফিডেন্স হারিয়ে ফেলে । ফলে শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে কর্ম ক্ষেত্রেও একপ্রকার বাধা সৃষ্টি করে এবং মানসিক এক চাপের সম্মুখীন করতে বাধ্য করে । আর এই সমস্যার সমাধান করতে মানুষ অনেক চিকিৎসা সম্মুখীন হয় এবং তা অনেক ব্যায়বহুলো হয়ে থাকে । কিন্তু আমরা এই সমস্যার সমাধান অতি সহজে আমাদের ঘরের আশেপাশে থাকা তুলসী পাতা ব্যবহার করে করতে পারি । আসুন জানি কিভাবে তুলসী পাতা ব্যবহার করে ব্রণের দাগ নিরাময় করা যায় ।

তুলসী পাতা এবং আমাদের ঘরের আশেপাশে থাকা বিভিন্ন সামগ্রিক যেমন মধু, লেবুর রস, হলুদের পেস্ট, অ্যালোভেরা জেল ইত্যাদি ব্যবহার করে ব্রণের দাগ অতি সহজেই দূর করা সম্ভব । এইসব সামগ্রী ব্যবহার না করেও তুলসী পাতার রস ব্যবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা সম্ভব তবে এক্ষেত্রে কিছুটা সময় সাপেক্ষ হতে পারে । এক্ষেত্রে কয়েকটি তুলসী পাতা নিয়ে তা ভালোভাবে পেস্ট করে রস বের করে উঠতে রস মুখে লাগিয়ে এবং কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে । এক্ষেত্র ফলাফল পাওয়া যায় তবে মধু, লেবুর রস হলুদের পেস্ট অ্যালোভেরা জেল ইত্যাদি ব্যবহার করলে এই সমস্যার আরও দ্রুত  সমাধান পাওয়া সম্ভব । আসুন জানি কিভাবে উক্ত উপাদানগুলো ব্যবহার করে ঘরে বসেই রেডিমি তৈরি করে ব্রণের সমস্যার সমাধান থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

ঘরোয়া টিম তৈরি করতে সমপরিমাণ লেবুর রস অথবা মধুর সঙ্গে সমপরিমাণ তুলসী পাতার রস দিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে তারপর সেই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে । একইভাবে এক চা চামচ হলুদের গুড়াতে তুলসী পাতার রস ব্যবহার করে পেস্ট তৈরি করতে হবে । তারপর উক্ত পেস্ট মুখে লাগাতে হবে এবং একই নিয়মে ধরে ফেলতে হবে । তবে যদি রাতারাতি ভালো ফলাফল পাওয়ার লক্ষ্য থাকে তাহলে এক চা চামচ তুলসী পাতার রসের সাথে আলোভেরা জেল মিশে মুখে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে এবং সকালে উঠে দেখা যাবে যে মুখে তা কিছুটা কমে যাবে এবং ত্বক ঠান্ডা অনুভব করবে । এভাবে ঘরে থাকা উপাদান ও তুলসী পাতা ব্যবহার করে ব্রণের মত সমস্যার সমাধান অতি সহজেই পাওয়া যায় । তবে খেয়াল রাখবেন আপনার ত্বকে এলার্জি ঠিক সমস্যা অথবা ত্বকে অন্য কোন সমস্যা যদি থেকে থাকে তাহলে কোন রেডমি ব্যবহারে পূর্বে অবশ্যই কোন বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করে নিবেন ।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা দূর করতে তুলসি পাতার ব্যাবহার

গ্যাস্ট্রিক হল পাকস্থলীর অতি সাধারণ একটি সমস্যা । সাধারণত পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে এই সমস্যার হয়ে থাকে । আমাদের গ্যাস্টিক হলে আমরা অতি সহজে তা চিহ্নিত করতে পারি যে এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা । সাধারণত বুক জ্বালাপোড়া, মুখে অম্ল ভাব, হজমি সমস্যা ইত্যাদি হয়ে থাকে । আমরা এই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই গ্যাস্ট্রিকের বিভিন্ন ওষুধ সেবন করে থাকি এক্ষেত্রে সাময়িক উপকার পেলেও পার্মানেন্ট কোন সমস্যার সমাধান হয় না । তাই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধান করতে বহু কাল থেকেই আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় তুলসী পাতার ব্যবহার করা হয়ে থাকে । আজকে আমরা জানবো কিভাবে ঘরে বসেই আমরা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার জন্য তুলসী পাতা ব্যবহার করতে পারি ।

তুলসী পাতার অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাকস্থলীর এসিটিভির পরিমাণ কমিয়ে থাকে । 
তুলসী পাতা একটি প্রাকৃতিক ঔষধ হিসেবে কাজ করে যা পাকস্থলীর এসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ কর, হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, এবং অম্লতা রাস করে । তাছাড়াও তুলসী পাতা ব্যবহারে স্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকায় নিশ্চিন্তায় এটি ব্যবহার করা যায় । নানান পদ্ধতি ব্যবহার করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার সমাধান করা যায় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিয়ম হলো তুলসী পাতা চিবিয়ে খাওয়া, তুলসী পাতার চা পান করা, তুলসী পাতা ও লেবুর রস পান করা তাছাড়াও তুলসী পাতা ও আদার মিশ্রণ অতীত কাল থেকে একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি । নিয়মিত ব্যবহারের ফলে গ্যাস্ট্রিক জনিত সমস্যা ধীরে ধীরে হ্রাস পায় ।

তুলসি পাতার অপকারিতার দিক সমুহ

পৃথিবীতে যে কোন জিনিস ব্যবহারে যদি উপকারী  দিক থেকে থাকে তাহলে তার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে তার ক্ষতিকর দিকও থাকে । তুলসী পাতার ক্ষেত্র তার ব্যতিক্রমী নয় । তুলসী পাতা যেমন ভেষজ ঔষধ হিসেবে কাজ করে ঠিক তেমনি তার অতিরিক্ত ব্যবহার অথবা ব্যবহার করলে প্রাণঘাতীও হপ্তে পারে । তাই আমাদের তুলসী পাতা ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে এবং সঠিক ব্যবহার করতে । তুলসীপাতা সাধারণত সুস্থ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারলেও যারা নির্দিষ্ট কোন ঔষধ সেবন করে থাকে অথবা রক্তের কোন সমস্যা থাকে তাদের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে ।

রক্তচাপ কমিয়ে দেওয়া, রক্ত পাতলা করে ফেলা, টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করা থেকে শুরু করে শরীরের তাপমাত্রাও কমিয়ে দিতে পারে । ঠিক এই কারণেই তুলসী পাতাসহ অন্যান্য যে কোন ভেষজ ঔষধ ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই তার ব্যবহারে নিয়ম নীতি ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া জেনে ও বুঝে ব্যবহার করতে হবে । মনে রাখতে হবে যে প্রাকৃতিক যে কোন উপাদান যেমন মানুষের অনন্য উপকার করতে পারে ঠিক তেমনি না জেনেও বোঝে অথবা নিজের ইচ্ছা মত ব্যবহার করলে তা মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির সাধনও করতে পারে । তাই আমাদের সকল জিনিস জেনে বুঝে ব্যবহার করতে হবে । আসুন জানি কিভাবে তুলসী পাতার অতিরিক্ত ব্যবহার অথবা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না জেনে ব্যবহার করলে কি কি অপকারিতা  হতে পারে ।

রক্ত পাতলা করে ও শর্করা কমিয়ে দেয়

রক্তের অনন্য এক উপাদান হচ্ছে প্লাটিলেট যা মানব দেহের বিভিন্ন কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং রোগ প্রতিরোধে কাজ করে । তুলসি পাতাতে বিদ্যমান ইউজেনল নামে এক ধরনের উপাদান রক্তের প্লাটিলেটকে পাতলা করে ফেলে । তাই তুলসী পাতাতে বিদ্যমান ইউজেনল প্রাকৃতিক ব্লাড থিনার হিসেবেও পরিচিত । তাই জাতির রক্ত পাতলা, রক্তে প্লাটিলের সংখ্যা কম অথবা ভবিষ্যতে কখনো অস্ত্রপাচার করার পরিকল্পনা থেকে থাকে তাহলে তুলসী পাতা ব্যবহারে অবশ্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । তা না হলে তুলসী পাতা শরীরের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করতে পারে ।

তাছাড়াও তুলসী পাতা ব্যবহারে আরেকটি অপকারী দিক হচ্ছে তুলসী পাতা রক্তের শর্করার পরিমাণ কমিয়ে দেয় । তুলসী পাতাতে বিদ্যমান কিছু কিছু উপাদান সমূহ রক্তের হাইড্রোকার্বনেটের এর পরিমাণ মাত্রা অতিরিক্ত ভাবে কমিয়ে দেয় । যার ফলে রক্তে শর্করা জমতে পারে না । তাই যারা ডায়াবেটিসের সমস্যার জন্য ইনসুলিন ব্যবহার করে থাকে তাদের তুলসী পাতা ব্যবহারের সতর্কতা হওয়া প্রয়োজন কারণ তুলসী পাতা ব্যবহারে তাদের শর্করা পরিমাণ অনেক কমিয়ে দিতে পারে । তাই তুলসী পাতা ব্যবহারে পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন । জেনে রাখা ভালো যে পরিমিত তুলসী পাতা ব্যবহারে শর্করার উপর প্রভাব ফেলে না কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে তাই পরিমিত ব্যবহার করা উচিত ।

আরো পড়ুন ঃ Demo Article 06

শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে দিতে পারে

তুলসী পাতাতে বিদ্যমান  অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুনাগুন শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে থাকে । কিন্তু যখনই তুলসী পাতা অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করা হয় তখন শরীরের তাপমাত্রা অতিরিক্ত মাত্রায় কমে যায় । ফলে মারাত্মক সমস্যা লক্ষ্য করা যায় । শরীরের তাপমাত্রা কমে গেলে মানুষের হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায় এবং মুখমন্ডল হলদে হয়ে যায় । যার ফলে সাধারণ চলাচলের ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । তাছাড়া মানুষের শরীরের এক নির্দিষ্ট তাপমাত্রার চাইতেও অনিক অংশে যদি তাপমাত্রা কমে যায় তাহলে সমাধান অস্বাভাবিক অবস্থা সৃষ্টি করে ।

যারা নিম্ন রক্তচাপ সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য তুলসী পাতার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে উপকারের চাইতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হতে পারে । তাই তুলসী পাতা ব্যবহারে পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে । তুলসী পাতা যেমন প্রাকৃতিক ভেসে ওষুধ ঠিক তেমনি এর অপব্যবহারের হতে পারে নানান সমস্যা । তুলসী পাতা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও অসচেতনার  কারণে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় । তাই অন্যান্য উপাদানের মত তুলসী পাতাও সঠিক পরিমাণে ও সঠিক নিয়মে ব্যবহার করতে । তাহলে ক্ষতিকর দিকগুলো এড়িয়ে চলা সম্ভব করা সম্ভব ।

পরিশেষে

প্রকৃতি আমাদের নানান ও ভেষজ ওষুধ সমৃদ্ধ গাছপালা দিয়েছে। যা উচিত কাল থেকেই আয়ুর্বেদিক ক ও ইউনানী চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে । এই সকল প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ সঠিক ব্যবহার ও সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে কোন পার্শ প্রতিক্রিয়া ছাড়াই বিভিন্ন অসুখের চিকিৎসা করা সম্ভব । কিন্তু আমাদের অজান্তে এবং অসচেতনতার কারণে এ সকল প্রাকৃতিক উপাদান গুলো অপব্যবহার করে আসছি হলে আমাদের উপকারিতার উপকারিতার পরিমাণই বেশি হয়ে থাকে । তাই আমাদের এ সকল উপাদান ব্যবহারে পূর্বে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে ।

তুলসী হচ্ছে ঠিক এমনই একটি প্রাকৃতিক ঔষধি গুনাগুন সম্পন্ন গাছ । যা বহুকাল থেকে আয়ুর্বেদিক এবং ইউনানী চিকিৎসায় অনন্য এক ভূমিকা পালন করে আসছে । তুলসী গাছের পাতা থেকে শুরু করে শেকড় পর্যন্ত ওষুধি গুণাগুণ সম্পন্ন হওয়ার কারণে আয়ুর্বেদিক ও ইউনানী চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক অসাধারণ ভূমিকা পালন করে আসছে । তুলসী পাতা ব্যবহার করে সাধারণ সর্দি কাশি থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মত মরণঘাতী রোগের ও মোকাবেলা করা সম্ভব যদি সঠিক নিয়ম ও সতর্কতা অনুযায়ী ব্যবহার করা যায় । কিন্তু আমাদের ও সচেতনতার কারণে উপকারের চাইতে উপকারের পরিমাণই বেশি হয়ে থাকে তাই আমাদের সকলের উচিত যেকোনো প্রাকৃতিক বা ভেষজ ওষুধ ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ অথবা চিকিৎসকের পরামর্শে অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url