অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের সহজ নিয়ম
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা একজন নাগরিকের জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন। কেননা
একটি ভোটার আইডি কার্ড মানুষের নাগরিকত্ব বা পরিচয় বহন করে। বিভিন্ন সরকারি
পরিশেবা পেতে ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যাবহার করতে হয়। তাই এটি
নির্ভুল রাখা অনেক গুরুত্বপুর্ন।
যদি কোনো কারন বসত ভোটার আইডি কার্ডে ভুল থেকে যায়। তাহলে সরকারি বিভিন্ন খাতে
পরিসেবা গ্রহন করা যায় না। তাই আমাদের সকলের জানা প্রয়োজন যদি ভোটার আইডি কার্ডে
ভুল থেকে যায় তা কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করে সহজে ঝামেলা মুক্ত ভাবে সমাধান
করা যায়।
সূচিপত্রঃ ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন
ভোটার আইডি সংশোধনের সাধারণ কারণ সমূহ
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা একটি দেশের নাগরিকের জন্য অত্যান্ত প্রয়োজনীয়
বিষয়। একজন মানুষের নাগরিকত্ব ও পরিচয় ওই মানুষের ভোটার আইডি কার্ডের মাধ্যমে
চিহ্নিত করা যায়। তাই সরকারি অথবা বেসরকারি বিভিন্ন সেবা ভোটার আইডি কার্ড
ব্যাতীত গ্রহন করা যায় না। তাছাড়াও এমন অনেক সুযোগ সুবিধা রয়েছে যা ভোটার আইডি
কার্ড না থাকলে গ্রহন করা যায় না। এখন আমরা জানার চেষ্টা করবো যেসব কারনে
আপনারো আইডি কার্ডটি সংশোধন করা প্রয়োজন হতে পারে।
চাকরি ক্ষেত্রেঃ বাংলাদেশর প্রায় সকল সরকারি অথবা বেসরকারি চাকরি ক্ষেত্রে
আবেদনের জন্য ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্রের প্রয়োজন পড়ে। তাই আপনি
যদি চাকরিতে আবেদন করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যয় জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার
আইডি কার্ডের তথ্য ব্যাবহার করতে হবে। এখন যদি উক্ত তথ্যে আপনার নাম, আপনার
বাবা-মা এর নাম, ঠিকানা অথবা কোনো ঠিকানা ভুল থাকে তাহলে আপনি সেই চাকর আবেদনের
শুরুতেই বাদ পড়ে যাবেন। তাই বুঝতেই পারছেন যে আপনার আইডি কার্ডটি সংশোধন করা
কতটা গুরুত্বপূর্ন ও প্রয়োজন।
ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের ক্ষেত্রেঃ বর্তমান সময়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর
প্রয়োজন পড়ে না ঠিক এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া আর মুক্তোর-হার খুঁজে পাওয়া একই
বিষয়। কেননা মটর সাইকেল, কার, প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাক ইত্যাদি যানবাহন
চানানোর জন্য ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হয়। আর ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের
ক্ষেত্রে পরিচয় পত্র হিসেবে সবার আগে ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন পড়ে। তাই
বুঝতেই পারছেন ভোটার আইডি কার্ড ব্যাতীত ড্রাইভিং লাইসেন্স আবেদনের কথা
চিন্তাও করা যায় না।
জমি ক্রয় অথবা বিক্রয়ের ক্ষেত্রেঃ জমি ক্রয় অথবা বিক্রয়ের জন্য ভোটার আইডি
কার্ড একটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা ভোটার আইডি
কার্ডের তথ্য ব্যাতীত জমি ক্রয় বা কিক্রয়ের রেজিস্ট্রেশন করা যায় না। তাই আপনি
যদি জমি ক্রয় বা বিক্রয় করতে চান তাহলে আপনার একটি নির্ভুল ভোটার আইডি কার্ড
থাকা বাধ্যতামূলক। তাছাড়াও এমন অনেক কাজ রয়েছে যেগুলোর জন্য একটি নির্ভুল ভোটার
আইডি থাকা বাধ্যতা মূলক। তাই আপনার ভোটার আইডি কার্ডেও যদি ভুল থেকে থাকে তাহলে
তা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। তাই আমরা এখন ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন এর সহজ নিয়ম জানার চেষ্টা করব।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভোটার আইডি কার্ডে বিভিন্ন ভুল থাকার কারনে বিভিন্ন কাগজপত্র প্রয়োজন হয়ে পারে।
এই ক্ষেত্রে ভুলের ধরন ও কারন ভিত্তিতে একেক জনের একক ধরনের কাগজ পত্রের
প্রয়োজন হতে পারে। তবে আপনি যেই কাজের জন্যেই আবেদন করেন না কেন আপনাকের একটি
কাগজ অবশ্যই কাছে রাখতে হবে তা হলো পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার
আইডি কার্ড। পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড ব্যাতীত আপনি
আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য আবেদন করতে ঝামেলার সম্মুখিন হতে পারেন।
তাই আসুন সংক্ষেপে কোন ভুল ঠিক করার জন্য কোন ধরনের কাগজ লাগবে তা জানার চেষ্টা
করি।
নাম এবং জন্ম তারিখ সংশোধনেঃ জাতীয় পরিচয় পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে সবচেয়ে
সাধারণ ভুল হচ্ছে নাম এবং জন্ম তারিখ এর ভুল। তাই আসুন জানি এই ভুল সংশোধনে কি
কি কাগজপত্র লাগবে। সর্ব প্রথম যে কাগিজটি লাগবে তা হলো পূর্ববর্তী জাতীয়
পরিচয়পত্র। কেননা পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যাতীত কোথায় কিভাবে ভুল
আছে তা নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তারপর প্র্যোজন পড়বে শিক্ষাগত যোগ্যতার
সার্টিফিকেট এবং সেই সাথে পিতা মাতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি কয়েক পিস লাগতে
পারে। তাছড়াও সংশোধন করার কারনও উল্লেখ করা লাগতে পারে।
ঠিকানা ও ছবি পরিবর্তনের জন্যঃ অনান্য সকল সংশোধনের
তুলনায় ঠিকানা ও ছবি পরিবর্তনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া কিছুটা
জটিল। ঠিকানা ও ছবি পরিবর্তনের জন্য সর্ব প্রথম যে কাগজটি লাগবে তা
হলো পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সেই সাথে বর্তমান ঠিকানার প্রমান যেমন
বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল ইত্যাদির থেকে গ্রহিত তথ্য সহকারে ফটোকপি বা আসল কপিও
জমা দিয়া লাগতে পারে। তাছাড়াও গ্রাম অথবা শহরের ইউনিয়ন অথবা পৌরসভা
থেকে ঠিকানা পরিবর্তনের আপিল নিতে হবে। সেই সাথে সম্প্রতি তোলা পাসপোর্ট সাইজের
কয়েক কপি ছবির প্রয়োজন পড়বে।
ঠিক একই ভাবে পিতা মাতার নাম সংশোধন, লিঙ্গ সংশোধন, বৈবাহিক অবস্থা সংশোধন,
জাতীয়তা সংশোধন ইত্যাদি সংশোধনের জন্যও উপরের দেওয়া কাগজপত্রের প্রয়োজনে পড়তে
পারে। তবে বিশেষ কিছু কারন ব্যাতীত অন্য কোনো কাগজ পত্রের প্রয়োজন পড়বে বলে মনে
হয় না। তবে যদি বিশষ কোনো কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করে থাকে থাহলে
তা সঠিক সময়ে সর্বারহ করতে হবে। তবে অনলাইনে আপনার জাতীয়
পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য যেইসব কাগজ পত্রের তথ্য প্রদান করতে হয় তা
হলোঃ পূর্ববর্তী জাতীয় পরিচয়পত্র, সংশোধনের কারন, রঙ্গিন ছবি, পিতা
মাতার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য ইত্যাদি।
যেসব ধাপে সংশোধন সম্পুর্ন হয়
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য বিভিন্ন ধাপ অনুসরন করে আবেদন করতে হয়।
তার মধ্যে সবার আগে নির্ধারন করতে হবে যে আপনার পূর্ববর্তী ভোটার আইডি কার্ডে
কি ধরনের ভুল বা ত্রুটি আছে। তবে সাধারনত যে ভুল বা ত্রুটি গুলো থাকে তা হলোঃ
নিজের নাম অথবা ছবি, পিতা মাতার নাম, বর্তমান বসবাসের ঠিকানা, বৈবাহিক অবস্থা
ইত্যাদি। তবে আপনার ক্ষেতে কি ভুল রয়েছে তা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। কেননা
প্রতিবার আবেদনের জন্য এক প্রকার ফি কাটা হয়ে থাকে আপনি যদি বারবার আবেদন করেন
তাহলে আপনাকে বারবার ফি প্রদান করতে হবে অথবা আপনার আবেদন পরবর্তি সময়ে বাতিলও
হয়ে যেতে পারে। তাই এই বিষয় লক্ষ রাখতে হবে।
তারপর প্রয়োজন হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। আপনার ভোটার আইডি কার্ডের ভুলের
ধরন অনুসারে আপনার একের ধরনের কাগজপত্রের প্রয়োজেন হতে পারে। এই টপিক'স এর
উপরের টপিক'স এ কোন ধরনের ভুলের জন্য কোন ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হবে তা
সংক্ষেপে লিখা হয়েছে। আপনি চাইলে সেটি পড়ে একটি ধারনা নিতে পারেন। তারপর
প্রয়োজন হবে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের ফরম। উক্ত ফরমে সঠিক তথ্য
ভালোভাবে লিখে জমা দিয়ে দিলেই আপাতত আমাদের কাজ শেষ। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়
পত্র সংশোধনের যে ফরম রয়েছে সেটি আমরা কোথায় পাবো তা ধীরে ধীরে নিচে লিখা হবে।
অনলাইনে আবেদন করার আগে করনীয়
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের আবেদন করার আগে কিছু করনীয় আছে যেগুলো
অবশ্যয় মাথায় রাখতে হবে এবং চিন্তাভাবনা করে পালন করতে হবে। কেননা সরাসরি যদি
আপনি আবেদন করতে যান সে ক্ষেত্রে আপনার কোনো কাগজ কম পড়লে বা কোনো ভুল হলে তা
সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সাহায্য করে থাকে কিন্তু অনলাইনে সাহায্য
করার জন্য কেও থাকবে না। তাই আবেদনের পূর্বে অবশ্যয় কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে।
যেমনঃ প্রোয়জনীয় কাগজপত্র হাতের কাছে আছে কিনা তা চেক করে নিতে হবে। এই রকম আরো
কিছু কাজ আছে যা নিচে আলোচনা করা হলো।
যে ডিভাইসে আবেদন করবেন যেমনঃ মোবাইল, ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার ইত্যাদিতে ভালো
ভাবে নেট সংযোগ দিতে হবে অথবা পাওয়ার চেক করতে হবে। কেননা অনলাইনে জাতীয়
পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য বেশ কিছু ফরম ও অনেক ধাপ সম্পূর্ন করতে হয়। এখন যদি
আপনি আপনি আবেদন প্রক্রিয়া মাঝবরাবর বা শেষ হয়ে গিয়েছে এমন পর্যায়ে এসে আপনার
কাঙ্ক্ষিত ডিভাইস বন্ধ বা নেট সংযোগ চলে যায় তাহলে আপনাকে আবার প্রথম থেকে
আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তাই আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর আগে অবশ্যয় এই বিষটি
লক্ষ্য রাখবেন।
অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়া
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া অনেক জটিল এই ভুল
ধারনার জন্য অনেক মানুষ আছে যারা সরাসরি আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা,
থানা বা জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করে থাকে। এই ক্ষেত্রে শারীরিক
পরিশ্রমের পাশাপাশি এই প্রক্রিয়া অনেক ঝামেলাও বটে। তাই এখন আমরা অতি সহজেই ঘরে
বসে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানবো।
অনলাইনে আবেদন করার জন্য সর্বপ্রথম আমাদের নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। তবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে
প্রবেশ করে আবেদন করার প্রক্রিয়া একটু জটিল। তাই আমরা সহজে কিভাবে আবেদন করা
যায় তা জানবো। এর জন্য প্রথমে যেকোন একটি ব্রাওজারে যেতে হবে তবে গুগোল ক্রোম
ব্রাওজার ব্যাবহার করা বেশি সুবিধা জনক। এখন আসুন ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া গুলো
বিস্তারিত আলোচনা করি।
সর্বপ্রথম গুগলে গিয়ে সার্চ করতে হবে
services nidw gov bd লিখে। এটি লিখে সার্চ
দিয়ে নিচের ছবিতে দেখানো প্রথম ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। মনে রাখবেন, আপনার
উক্ত ওয়েবসাইট গুগোলে আরো নিচে থাকতে পারে সে ক্ষত্রে তা খুঁজে নিতে হবে।
উক্ত ওয়েবসাইটে ঢুকার পর হোম পেজ থেকে একটু নিচের দিকে আসতে হবে। আসলে লক্ষ্য
করবেন এখানে লিখা আছে "জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে থাকলে রেসিস্ট্রার করুন"। এখানে
ক্লিক করে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য অনুযায়ি তথ্য দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট
তৈরি করে নিতে হবে।
তারপর আপনার অ্যাকাউন্ট রেজিস্টেশনের জন্য আপনার কিছু তথ্য প্রদান করতে হবে উক্ত
তথ্য গুলোও ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী প্রদান করতে হবে। কোনো প্রকার ভুল তথ্য
প্রদান করলে আপনার আবেদন বাতিল করে দিতে পারে। তাই আপনারর ঠিকানা দেওয়ার সময়
সতর্ক সহকারে দিতে হবে।
আপনার ঠিকানা সঠিক ভাবে দেওয়ার পর আপনার একটি ব্যাবহিত এমন মোবাইল নাম্বার
দিতে হবে সেই মোবাইল নাম্বারে একটি ওটিপি কোড দেওয়া হবে উক্ত কোড বসালেই আপনি
আরেকটি নতুন জাইগাই প্রবেশ করবেন। মনে রাখবেন এই ক্ষত্রে আপনাকে অবশ্যয় আপনার
ব্যাবহিত মোবাইল নাম্বার দেওয়ার চেষ্টা করবেন। কেননা, পরবর্তিতে পুনরায় এই
নাম্বার লাগতে পারে।
এর পরবর্তী সকল কাজ আপনাকে মোবাইল ফোন ব্যাবহার করে করতে হবে। একটু ভালো করে
লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন লাল দাগ দিয়ে কয়েকটি ঘর দাগানো আছে। এখন আপনি যদি
আন্ড্রয়েড ফোন অথবা অ্যাপেলের ফোন ব্যাবহার করেন তাহলে উক্ত জাইগাই ক্লিক
করলে আপটি ডাউনলোড হয়ে যাবে।
অ্যাপ ডাউনলোড করার পরবর্তী কাজ সমূহ সম্পর্কে আসুন জানি। অ্যাপটি ডাউনলোড করার
পর তা ওপেন করতে হবে এবং ইতিমধ্যে মোবাইলে পাওয়া কোডটি দিয়ে লগইন করে নিতে হবে।
লগইন করার পর আমরা আর কোথাও হাত না দিয়ে সরাসরি চলে আসবো নিচে এবং সেখানে
লক্ষ্য করলে দেখা যাবে লিখা আছে Tap to open NID wallet সেখানে ক্লিক করতে হবে। সেখানে ক্লক করলে আপনাকে আপনার ফেস স্কান করতে বলবে
এবং নির্দেশনা অনুযাযী আপনাকে ফেস স্কান করতে হবে। আপনি যদি আপনার ফেস স্কান না করেন তাহলে আপনি পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না ও আপনার ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে পারবেন না। তাই আসুন এখন ফেস স্কান করার
পরবর্তি তিনটি ধাপ একসাথে আলোচনা করি।
ফেস স্কান করার পর সর্বপ্রথম যে ধাপটি আসবে তা হলো একটি এড়িয়ে যান অথবা
পাসওয়ার্ড সেট করতে বলবে। এখান থেকে আমাদের এডিয়ে যান অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।
পরবর্তীতে প্রোফাইল এ প্রবেশ করতে হবে কেন্না প্রোফাইলের মধ্যে আমরা আমাদের ভুল
গুলো সংশোধন করবো। এর পর প্রোফাইলে গিয়ে ইডিট এ চাপ দিতে হবে এবং এই ইডিট এই
আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ভুল গুলো সংশোধন করতে পারবো।
এডিট অপশনে ঢুকার পর আপনি একটি ফরম পাবেন যেখানে আপনি আপনার যে ভুলগুলো রয়েছে
সেগুলো সেগুলো ফরমে পুরন করতে হবে। ভুলগুলো মনোযোগ সহকারে ফরমে লিখার পর
পরবর্তীতে চাপ দিলে আপনার কাছে উপরের প্রদর্শিত ছবির মতো অপশন আসবে। এখানে এডিট
প্রফাইলে গিয়ে পরবর্তীতে চাপ দিতে হবে। পরবর্তীতে চাপ দিলে আপনার সামনে
ট্রানজেকশন নামক একটি জায়গা আসবে যেখানে দেখাবে যে আপনার ব্যালেন্সে কোনো টাকা
নেই। তাই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ন করতে আমাদের এখন একটি সরকারি ফি পরিশোধ করতে
হবে।
আরোও পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল
অনলাইনে সংশোধনের ফি দেওয়ার নিয়ম
অনলাইনে সংশোধনের ফি দেওয়ার জন্য আপনার অবশ্যয় একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট
থাকতে হবে। অনেকে মোবাইল বাংকিং অ্যাকাউন্ট এর নাম শুনলে ঘাবড়ে যায়। আসলে ভয়
পাওয়ার কোনো কারন নেই মোবাইল বাংকিং বলেতে আমরা বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি বুঝে
থাকি। আমরা খুব সহজেই বিকাশের সাহায্যে সরকারি প্রায় সকল ফি পরিশোধ করতে পারি।
তাই চলুন আমরা এখন বিকাশের মাধ্যমে অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের
জন্য ফি দেওয়ার দিয়মগুলো ধাপে ধাপে দেখি।
সবার প্রথমে বিকাশ অ্যাপ এর ভেতর প্রবেশ করতে হবে। তারপর নির্দেশনা অনুযায়ী পে বিল এর ভেতর প্রবেশ করে একটি নিচের দিকে আসলে লক্ষ্য করবেন লিখা আছে এনাইডি সারভিসে'স। সেখানে চাপ দেওয়ার পর আপনি তিন নাম্বার ছবির মতো একটি ড্যাসবোর্ড পাবেন। সেখানে আবেদনের ধরন নির্বাচন করতে হবে।
আবেদনের ধরন নির্বাচন করুন অপশনে চাপ দেওয়ার পর আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র
সংশোধনের জন্য আপনাকে প্রথম অপশোন নির্বাচন করতে হবে যা লাল দাগের ঘরের মাধ্যমে
দেখানো হয়েছে। তারপর দ্বিতীয় ছবিতে দেখানে এন আই ডি নম্বর দিতে হবে। প্র বিল
করতে এগিয়ে জান এই অপশোনটিতে চাপ দিতে হবে। উক্ত পেইজে প্রবেশ করার পর আমরা
সচারচর যেভাবে অন্যান্য বিল সমূহ দিয়ে থাকি ঠিক একই ভাবে আপনাকে ২৫০টাকার মতো
বিল পরিশোধ করতে হবে। বিল পরিশোধ করার পর আপনাকে কিছুক্ষন পর আবারো উক্ত অ্যাপে
প্রবেশ করতে হবে এবং পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করলেই আপনার কাজ শেষ।
কত দিন পর সংশোধন হয়
উক্ত আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে কত দিন সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট ভাবে বলা
যায় না। তবে আমরা একটি সাধারণ ধারণা নিতে পারি যে আপনার ভুলের যে ধরন সে ধরনের
এর উপর আপনার আইডি কার্ড সংশোধনের সময় লাগতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি
আপনার যদি ছোটখাটো কোন সমস্যা হয়ে থাকে যেমন নামের ছোট কোন ভুল, ছবির ভুল
ইত্যাদি এ সকল ভুলের জন্য খুব কম সময় লেগে থাকে। অপরদিকে অন্যান্য ভুলসমুহ
যেমন পিতা-মাতা নামের ভুল, ঠিকানা ভুল, বৈবাহিক অবস্থার ভুল ইত্যাদি এ
ধরনের ভুলের জন্য সাধারণত একটু বেশি সময় লেগে থাকে।
তবে এই ধরনের সরকারি কাজের জন্য আমাদের উচিত হবে ধৈর্যধারণ করে আবেদন
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সেই সাথে কিছুদিন পর পর উক্ত অ্যাপ অথবা
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আবেদনের অগ্রগতি লক্ষ্য করা। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
করার পর সাধারণত নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় কর্তৃক অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
১৫ থেকে ৩০ দিনের মতো সময় নিয়ে থাকে। তবে আপনার ভুলের ধরন অনুযায়ী এ
সময়ের কম অথবা বেশি লাগতে পারে সেটা সম্পূর্ণ আপনার আবেদন প্রক্রিয়ার উপর
নির্ভর করবে। তবে আমাদের আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই ভুল ত্রুটি ভালোভাবে
পরীক্ষা করে নিতে হবে তা না হলে উক্ত সমস্যার সমাধান করতে আরও বেশি সময়
লাগতে পারে।
আরোও পড়ুনঃ আদা দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা
সংশোধীত ভোটার আইডি কার্ড যেভাবে পাবেন
আপনি আপনার সংসদে এত ভোটার আইডি কার্ড বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করতে
পারেন। আপনার ত্রুটিপূর্ণ জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের পর আপনি
তার সরাসরি অনলাইনে মাধ্যমে ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এজন্য আপনাকে
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইটে অথবা আমরা যে ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন
করলাম সে ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনাকে আপনার তথ্য দিয়ে লগইন করতে হবে। তারপর
আপনি সহজেই আপনার ভোটার আইডি কার্ড পিডিএফ আকারে ডাউনলোড করে নিতে
পারেন।
এরপর আপনার যদি ভোটার আইডি কার্ড স্মার্ট আইডি কার্ড হয়ে থাকে তাহলে তা
সরাসরি হার্ড কপি পেতে আপনাকে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অফিসের সরাসরি
উপস্থিত থাকতে হবে। তবে তার আগে আপনাকে অবশ্যই স্মার্ট কার্ড বিতরণ এর দিন
এবং তারিখ সঠিকভাবে জেনে যেতে হবে তা না হলে আপনাকে আপনার কাঙ্ক্ষিত
স্মার্ট কার্ডটি প্রদান করা নাও হতে পারে। তাছাড়াও আপনি কারণ ভিত্তিতে
আপনার ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা তে গিয়েও আপনার কাঙ্ক্ষিত এন আই ডি কার্ড
টি সংগ্রহ করতে পারেন। তবে যেভাবেই আপনার আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন না কেন
আপনাকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে তা না হলে আপনার আইডি কার্ড টি পেতে আরোও
সময় লাগতে পারে।
যেসব কারনে আবেদন বাতিল হয়ে থাকে
এমন অনেক কারণ রয়েছে যেগুলোর কারণে আপনার প্রক্রিয়াটি বাতিল হয়ে যেতে
পারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ হচ্ছে আবেদন প্রক্রিয়া করার সময়
আপনি আপনার তথ্য সঠিকভাবে প্রদান না করে থাকলে আপনার আবেদন প্রক্রিয়া
বাতিল হয়ে যাবে এবং সংশোধনের সময়ও অনেক ঝামেলার সম্মুখীন হতে
পারে। আমি অনলাইনে আবেদন করার পূর্বে অবশ্যই আপনাকে সতর্কতার শহিত
আপনার তথ্য পূরণ করতে হবে এবং বারবার তা লক্ষ্য রাখতে হবে। এখন আমরা
উল্লেখযোগ্য কিছু কারণ জানার চেষ্টা করব যেগুলোর কারণে আপনার আবেদন বাতিল
হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ থাকে।
যেসব কারণে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম কারণ হচ্ছে
বারবার জন্ম নিবন্ধন তারিখ পরিবর্তন করা। চাকরির ক্ষেত্রে অথবা অন্যান্য
কাজের জন্য অনেকে বারবার জন্ম তারিখ পরিবর্তন করার জন্য আবেদন করে থাকে
এক্ষেত্রে আপনার আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল বলে গণ্য করে থাকে বাংলাদেশ
নির্বাচন কমিশন কার্যালয়। তাছাড়াও আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে ভুল তথ্য
প্রদান করা। অনেকে অজানায় ভুল তথ্য প্রদান করে থাকে অথবা অসৎ উদ্দেশ্যে
ভুল তথ্য প্রদান করে থাকলে সে আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। তাছাড়া
অনেকে এমন তথ্য দিয়ে থাকে যেগুলো সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলে না যার কারণে ও
প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়।
তাছাড়াও অনেকে অসৎ উদ্দেশ্যে জাল ভোটার আইডি তৈরি করার লক্ষ্যে আবেদন করে
থাকে এই সকল আবেদন বাতিল করা হয়। আরেকটু অন্যতম কারণ হচ্ছে আবেদন করার
পূর্বে আবেদনের কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়ে থাকে উক্ত আবেদনের কারণ সঠিকভাবে
প্রদান না করে থাকলেও আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে থাকে। তাছাড়াও আরো অনেক
কারণ আছে যেগুলো কারণে আবেদন পক্রিয়া বাতিল হয়ে যায় তাই আমাদের আবেদনের
পূর্বে অবশ্যই সতর্কতার সহিত আবেদন করতে হবে তা না হলে আমাদেরও আবেদন
প্রক্রিয়া বাতিন হতে পারে। তাছাড়াও আরো অনেক কারণ আছে যেগুলো কারণে আবেদন
প্রক্রিয়া বাতিল হয় সে কারণগুলো আপনি নির্বাচন কমিশন অফিসিয়াল
ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখে আসতে পারেন।
পরিশষে
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করা একটি দেশে নাগরিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
একটি কাজ কেননা সরকারি অথবা বেসরকারি প্রায় প্রত্যেকটি কাজেই ভোটার আইডি
কার্ডের ব্যবহার নেই এমন জায়গা খুঁজে পাওয়া অনেক কঠিন। তাই আপনি যদি একটি
দেশের নাগরিকত্বের সকল সুযোগ ও সুবিধা গ্রহন করতে চান তাহলে একটি নির্ভুল
ভোটার আইডি কার্ড থাকা অপরিহার্য। একটি ভোটার আইডি কার্ড অথবা জাতীয় পরিচয়
পত্র একজন মানুষের পরিচয় ও নাগরিকত্বের প্রমাণ গ্রহণ করে। তাই এটি নির্ভুল
রাখা একজন নাগরিকের দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য।
ভোটাধিকার হলো একজন মানুষের নাগরিক অধিকার। আর এই ভোট দেওয়া নিশ্চিত করার
জন্য একটি নির্ভুল ভোটার আইডি কার্ড প্রয়োজন। তাছাড়াও একটি ভোটার আইডি
কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র একজন মানুষের পরিচয় বহন করে এবং সেই সাথে
বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যেমন জমি কেনাবেচা থেকে শুরু করে পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা
তৈর, কর প্রদান ইত্যাদি সেবা নিশ্চিত করতে একটি নির্ভুল ভোটার আইডি কার্ড
থাকা আবশ্যিক। তাছাড়া চাকরি ক্ষেত্রে অথবা নাগরিকত্বের সকল সুযোগ সুবিধা
পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড এর ভূমিকা অপরিসীম।
তাই আপনার যদি ভোটার আইডি কার্ডে কোন প্রকার ভুল অথবা ত্রুটি থেকে থাকে তাহলে
তা অবশ্যই অতি দ্রুত ঠিক করা আপনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়। আমরা
আমাদের এই আর্টিকেলে কিভাবে একটি ত্রুটিপূর্ন জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করা
যায় তা ধাপে ধাপে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।আমাদের এই প্রক্রিয়া অনুসরণ
করে ও আপনি আপনার ভুল সমাধান করতে পারেন তা ছাড়া এই পদ্ধতি ছাড়াও আরো অনেক
পদ্ধতি আছে যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার ত্রুটিপূর্ণ জাতীয়
পরিচয়পত্র সংশোধন করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন যে সংশোধনের পূর্বে
অবশ্যই ভালোভাবে তা পরীক্ষা করে নিবেন। আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার
জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url