অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন
অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন অনেক জরুরী। কেননা বর্তমান সময়ে অফলাইন অথবা অনলাইন উভয় জাইগায় অনেক প্রতিযোগিতা থাকার কারনে অনলাইনে ব্যাবসায় সফল হতে হলে অবশ্যই কিছু ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন করতে হবে অথবা পারদর্শি হতে হবে।
আনলাইনে সফল ব্যাবসা দাড় করানোর জন্য আমাদের কিছু ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন করা প্রয়োজন এবং যে স্কিল গুলো শিখবো তার পরিমান খুব বেশিও না আবার খুব কমও না। আমাদের যত টুকু প্রয়োজন ঠিক তত টুকুই শেখার চেষ্টা করবো। তাই কথা বাড়িয়ে আসুন জানার চেষ্টা করি সেই স্কিল গুলো কি।
সূচিপত্রঃ ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন
- অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন
- ব্যাসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-১
- ব্যাসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-২
- ব্যাসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-৩
- ই-কমার্সে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে ধারনা লাভ
- ডেটা অ্যানালিটিক্স কৌশল শেখা
- ব্যাসিক কন্টেন্ট ক্রিয়েশন শেখা
- ব্যাসিক সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে ধারনা লাভ
- ধৈর্য্য ধারন ও সঠিক পরিকল্পনা করা
- পরিশেষে
অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন
অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন করা অবশ্যই প্রয়োজনীয় ও
অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। কেননা বর্তমান সময় হচ্ছে ডিজিটাল সময়। বর্তমানে
অনেক মানুষ আছে যারা দোকানে না গিয়ে অনলাইনে অর্ডার করে কেনাকাটা করতে পছন্দ
করে থাকে। এক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করলে দেখতে পাই যে এমন অনেক দোকান রয়েছে
যেগুলো কাস্টমারের চাহিদা পূরণের জন্য অনলাইনেও দোকান বা অনলাইন শপ খুলে রেখেছে।
সে ক্ষেত্রে তারা দোকানে বিক্রি করার পাশাপাশি অনলাইনেও বিক্রি করে বেশ লাভবান
হচ্ছে। তাই আমাদের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যাবসা দাড়
করাতে হবে।
তাই আমরা বুঝতে পারছি যে বর্তমান সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করতে
হবে। কিন্তু অনলাইনে ব্যবসা করতে হলে আমাদের কিছু ডিজিটাল স্ক্রিল শেখার
প্রয়োজন পড়বে। কেননা আপনি যদি ডিজিটাল স্কিল না শিখেই অনলাইনে ব্যবসা করতে
নামেন তাহলে আপনাকে একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্টকে কাজে লাগাতে হবে। সে
ক্ষেত্রে আপনাকে অনেক টাকার বেতনও দিতে হবে। আপনি যদি চান এই অতিরিক্ত খরচ
বাঁচাতে তাহলে আপনাকে অবশ্যই কিছু ডিজিটাল স্কিল শেখার প্রয়োজন পড়বে। আমাদের
যেসব ডিজিটাল স্কিল শেখার প্রয়োজন হবে তা তিনটি ভাগে নিচের সংক্ষেপে আলোচনা
করার চেষ্টা করা হবে।আশা করি মনোযোগ সহকারে পড়বেন।
ব্যাসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-১
বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-১ এ আমরা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার
করে কিভাবে অনলাইনে একটি সফল ব্যবসার দাড় করানো যায় সে সম্পর্কে শিখার
চেষ্টা করব। তাই আসল কথা না বাড়িয়ে কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে
অনলাইনে অল্প সময়ে সফল ব্যবসার দাঁড় করানো যায় সে সম্পর্কে জানার চেষ্টা
করি। সোশ্যাল মিডিয়া বলতে আমরা সাধারণত ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম,
ইউটিউব, টিকটক, লিংকডিন ইত্যাদি বুঝে থাকি। তবে আজকের এই আলোচনায় আমরা
জানার চেষ্টা করব যেসব সোশ্যাল মিডিয়ায় অল্প সময়ে সফল ব্যবসা দাড় করানো
যায়। অল্প সময়ে ও সহজে যেসব সোশাল মিডিয়ায় সহজে অনলাইন ব্যাবসা দাড় করানো যায়
তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, ইউটিউব, টিকটক।
ফেসবুক ব্যবহার করে আমরা অতি সহজে একটি অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করাতে পারি।
ফেসবুকে অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করিয়ে আমরা দুই ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারি।
একটি হচ্ছে বিনামূল্যে ব্যবসা পরিচালনা এবং অপরটি হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে ব্যবসা
পরিচালনা করা। আমরা সংক্ষেপে দুই বিষয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব। আমরা ফেসবুকে
একটি পেজ অথবা একটি গ্রুপ খুলে বিনামূল্যে আমাদের পণ্য বিক্রয় করতে পারে। তবে
এক্ষেত্রে অনেক সময়ের ব্যাপার হবে আপনার পণ্য গ্রাহকদের দের কাছে উপস্থাপন
করার জন্য। এর জন্য আপনাকে প্রতিদিন সময়মত আপনার কাঙ্খিত পেজ অথবা গ্রুপে
নিয়মিত আপনার পণ্য বা সামগ্রী সম্পর্কে পোস্ট করতে হবে এবং অফার দিতে হবে।
উপলক্ষে প্রক্রিয়াটি অনেক সময় সাপেক্ষ হওয়ার কারণে এ প্রক্রিয়ায়
ব্যবসায় লাভও কম হয়। কিন্তু আপনি যদি কিছু অর্থ খরচ করে আপনার পণ্য বা
সামগ্রীর বিজ্ঞাপন দিতে পারেন তাহলে অল্প সময়ে বেশি পূর্ণ বা সামগ্রী বিক্রি
করা সম্ভব। এ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য আমরা ফেসবুক অ্যাড
সিস্টেম ব্যবহার করতে পারি। ফেসবুক অ্যাড ফেসবুকের অফিসিয়াল প্রোডাক্ট
হওয়ার কারণে আমরা নিঃসন্দেহে এটি ব্যবহার করতে পারি। ফেসবুক অ্যাড ব্যবহার
করার জন্য আপনার একটি ফেসবুক মেটা অ্যাড ম্যানেজার থাকা প্রয়োজন। ফেসবুক
অ্যাড ব্যবহার করে আমরা অল্প টাকা খরচ করে বিজ্ঞাপন দিতে পারি।
যার ফলে আমাদের পণ্য বা সামগ্রী একটি নির্দিষ্ট এলাকা অথবা নির্দিষ্ট
এরিয়াকে কেন্দ্র করেও উক্ত অ্যাডটি সকলের সামনে উপস্থাপন করতে পারি।
এক্ষেত্রে আমরা অল্প সময়ে অধিক পণ্য বিক্রি করে লাভবান হতে পারবো। তবে
ফেসবুক অ্যাড ব্যবহার করার জন্য কিছু নির্দেশনা এবং পারদর্শিত থাকা অত্যন্ত
প্রয়োজনীয় বিষয়। ফেসবুকের মত ঠিক একই পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা
ইনস্টাগ্রামেও আমাদের পণ্য বিজ্ঞাপন দিতে পারি। কেননা ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম
উভয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম একই কোম্পানি পরিচালনা করে বলে এদের
বাহ্যিক অংশ আলাদা হলেও এদের অ্যাড দেওয়ার প্রক্রিয়া একই রকম। তবে ফেসবুকের
মত আমরা ইনস্টাগ্রামেও ফ্রিতে আমাদের পণ্য বা সামগ্রী উপস্থাপন করতে পারবো।
এখন আমরা পর্ব-২ এ ইউটিউব, টিকটক এর মতো সোশাল মিডিয়ায় কিভাবে
আমাদের অনলাইন ব্যাবসা দাড় করাবো তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো
সেই সাথে অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন এর পরের
ধাপগুলো খুব সহজেই জানার চেষ্টা করবো।
ব্যাসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-২
ফেসবুকের মতই ইউটিউব হচ্ছে একটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। গুগলের মতে
ইউটিউবে প্রতিমাসে ২.৪৯ বিলিয়ন মানুষ ভিজিট করে যার সংখ্যা অন্যান্য সোশ্যাল
মিডিয়া থেকে অনেক। উক্ত ভিজিটরের সংখ্যা থেকে আপনি বুঝতেই পারছেন যে ইউটিউবে
আপনার কাঙ্খিত প্রোডাক্ট বা পণ্য বিক্রি করার জন্য তা উপস্থাপন করা কতটা
গুরুত্বপূর্ণ। ইউটিউবেও আমরা বিনামূল্যে আমাদের পণ্য বিক্রয় করার জন্য রাউকদের
কাছে উপস্থাপন করতে পারি। তবে এটা সত্য যে বর্তমান সময়ে অনেক মানুষ এ পদ্ধতি
অবলম্বন করছে বলে বর্তমানে এ প্লাটফর্মে প্রতিযোগিতা অনেক। তাই প্রতিযোগিতায়
টিকে থাকতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হবে।
ইউটিউবে আপনার ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য অথবা আপনার পণ্য বিক্রয় করার জন্য
সর্বপ্রথম আপনাকে একটি ইউটিউব অ্যাকাউন্ট অথবা চ্যানেল ক্রিয়েট করতে হবে।
ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা কথাটি শুনলে সহজ হলেও এটি শেও মেন তৈরি করা অনেক কঠিন
একটি কাজ। কেননা SEO মেনে ইউটিউব চ্যানেল না খুললে আপনার চ্যানেল সকলের সামনে
আসবে না বা ভাইরাল হবে না যার ফলে আপনার অনলাইন ব্যবসা বাণ্য সহজে বিক্রয় করা
সম্ভব হবে না। তাই সঠিক নিয়মে এবং SEO মেনে কিভাবে চ্যানেল তৈরি করতে হয় তা
আপনাকে অবশ্যই মনোযোগ সহকারে শিখতে হবে।
টিকটক হচ্ছে একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। বিশেষ করে তরুণদের
কাছে টিকটক হচ্ছে একটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম যেখানে তরুণরা
নিয়মিত তাদের এক্টিভিটি প্রকাশ করে। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে
বর্তমান সময়ে প্রতিদিন অন্তত ৯০০ মিলিয়ন ভিজিটর টিকটক ভিজিট করে। তো বুঝতে
পারছেন টিকটকে আপনার ব্যবসা দাঁড় করানো শুরুর দিকে সাহস না হলেও একবার এই
ব্যবসা টিক টক এর দাঁড় করানো গেলে আপনি অল্প সময়ে অনেক লাভবান হবেন। ফ্রিতে
আপনার পণ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি আপনি টিকটক অ্যাড ব্যবহার করে অল্প কিছু টাকার
বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দিয়ে আপনার পণ্য অল্প সময়ে অধিক বিক্রয় করতে পারবেন। তবে
এর আগে আপনাকে অবশ্যই কোন অভিজ্ঞ টিক টক অ্যাড ম্যানেজার অথবা আপনাকে শিখতে
হবে যে কিভাবে টিকটকে অ্যাড পরিচালনা করতে হয়।
ব্যাসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-৩
ব্যাসিক ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা পর্ব-৩ এ আমরা জানার চেষ্টা করবো কিভাবে জনপ্রিয়
সোশাল মিডিয়ার বাহিরে আপনি আপনার অনলাইন ব্যাবসা দাড় করাবেন। কেননা আপনি লক্ষ্য
করেছেন যে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে ইউজারের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে
এই সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। তাই আপনি যখন নতুন অবস্থায়
এই জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে আপনার অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করানোর চেষ্টা
করবেন তখন আপনাকে অবশ্যই অনেক প্রতিযোগিতা সম্মুখীন হতে হবে। এতে আপনি আপনার
কাঙ্খিত ফলাফল না পেলে হতাশ হয়ে পড়তে পারেন এবং হাল ছেড়ে দিতে পারেন। এই
সমস্যা সমাধান করার লক্ষ্যে আমরা আজকের এই টপিক'সে জানার চেষ্টা করব কিভাবে
অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে আপনার অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করাতে পারেন।
ইমেইল মার্কেটিং করে আপনি আপনার পণ্য নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে তাকে
আপনার কাঙ্খিত পণ্য উপস্থাপন করতে পারেন। ইমেল মার্কেটিং বলতে আমরা সাধারণত
বুঝে থাকি বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিন যেমন গুগলে বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে একজন
নির্দিষ্ট ব্যক্তির হিমেল সংগ্রহ করে সেই ইমেইলের মাধ্যমে তাকে আপনার পণ্য বা
সামগ্রী উপস্থাপন করা। সে ব্যক্তির যদি আপনার পণ্য পছন্দ হয় তাহলে সে ফিরতি
ইমেইলের মাধ্যমে আপনার পণ্য ক্রয় করতে পারে। তাছাড়া বর্তমানে আরো অসংখ্য
সোশ্যাল মিডিয়া রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার কাঙ্খিত পন্য হাতের
ছোঁয়া ছাড়ায় বিক্রয় করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে অনলাইন ব্যবসায়
সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন করতে হবে।
ই-কমার্সে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে ধারনা লাভ
বর্তমান ডিজিটাল সময়ে ই কমার্স হচ্ছে ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এখন
নতুনদের কাছে যারা ই-কমার্স সম্পর্কে আগে কোন ধারণা গ্রহণ করেনি তাদের কাছে
প্রশ্ন থাকতে পারে যে ই-কমার্স কি। ই কমার্স বলতে আমরা সাধারণত বুঝে থাকি
ইলেকট্রনিক বাণিজ্য। ই-কমার্স হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি পণ্য
অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে বিল পেমেন্ট ও গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়া
পর্যন্ত কাজ করে থাকে। এই প্রক্রিয়াকে সাধারণত ই-কমার্স বলা হয়ে থাকে। তাই
অনলাইন ব্যাবসা দাঁড় করানোর জন্য ই-কমার্স সম্পর্কে ধারনা লাভ করা অত্যান্ত
গুরুত্বপূর্ন বিষয়। ই-কমার্সে অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জানার চেষ্টা
করি।
ই কমার্স ম্যানেজমেন্ট বলতে আমরা সাধারণত যে বিষয়টি বুঝে থাকি তা হচ্ছে অর্ডার
গ্রহণ থেকে গ্রাহকের হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত যে সিস্টেম তাকে বলা হয়ে থাকে
ই-কমার্স অর্ডার ম্যানেজমেন্ট। ই-কমার্স অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সাধারণত কয়েকটি
ধাপে হয়ে থাকে। তার মধ্যে প্রথম ধাপ হচ্ছে ক্রেতার অর্ডার গ্রহণ করা। ক্রেতার
অর্ডার গ্রহণ করার পর উক্ত পণ্য শিপিং করা ও ডেলিভারি করা হচ্ছে ওয়াটার
ম্যানেজমেন্টের পরের ধাপ। ডেলিভারির পরে ক্রেতা যখন তার পণ্য নিশ্চিত করবে তখন
উক্ত পণ্যের জন্য পড়া সম্পন্ন করুন প্রক্রিয়া করতে হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা
হয় অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এর তৃতীয় ধাপ।
তাছাড়া অর্ডার ম্যানেজমেন্ট এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে রিটান বা রিফান্ড
পদ্ধতি। যদি ক্রেতার অর্ডার করা পণ্য ভুল থাকে কিংবা কোন ত্রুটি থাকে সে
ক্ষেত্রে যেন ক্রেতা পণ্যটি আবার ফেরত পাঠাতে পারে এই সিস্টেমকে বলা হয়ে থাকে
রিটার্ন বা পদ্ধতি। বর্তমান সময়ে যত বড় বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গুলো
রয়েছে সবগুলোতেই অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। যার মাধ্যমে
অর্ডার গ্রহন থেকে শুরু করে ডেলিভারি দেওয়া পর্যন্ত কাজ অনলাইনে ঘরে বসে করা
যায়। তাই আপনি যদি সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যবসায় সফল হতে চান তাহলে অবশ্যই
আপনাকে ই কমার্স অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে হবে।
ডেটা অ্যানালিটিক্স কৌশল শেখা
অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন এর অন্যতম ধাপ
হচ্ছে ডেটা অ্যানালিটিক্স কৌশল শেখা। অনেকের কাছে ডেটা
অ্যানালিটিক্স শব্দটি নতুন মনে হতে পারে। তাই আমরা অতি সংক্ষেপে ডাটা
অ্যানালিটিক্স কি তা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। ডাটা
অ্যানালিটিক্স হচ্ছে একটি অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য বিভিন্ন তথ্য
সংগ্রহ করা তার বিশ্লেষণ করা এবং বিভিন্ন কাজে লাগিয়ে তা থেকে সিদ্ধান্ত
নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বা প্রক্রিয়া। গ্রাহক বা ক্রেতা চাহিদা, রুচি
ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে তাদের সামনে পণ্য উপস্থাপন করার জন্য ডাটা
অ্যানালিটিক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে সহজেই পণ্য ক্রেতার কাছে
বিক্রয় করা সম্ভব হয়।
ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে একটি অনলাইন ব্যবসার মূল বা ভিত্তিকে আরো
শক্ত করে গড়ে তোলা সম্ভব। ডেটা অ্যানালিটিক্স মনোযোগ সহকারে শেখা
হলে অনলাইন ব্যবসার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করে অনলাইন ব্যবসাকে আরো
অগ্রসর করা সম্ভব হয়। এখন আমরা জানবো কেন ডেটা অ্যানালিটিক্স নতুনদের
জন্য অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একজন ডেটা
অ্যানালিটিক্স এক্সপার্ট শুধুমাত্র ক্রেতাদের ডাটা বিশ্লেষণ করার জন্য আপনার
কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা চেয়ে বসবে। তাই আপনি যদি নিজে থেকে
ডেটা অ্যানালিটিক্স শিখে থাকেন তাহলে আপনাকে পকেট থেকে টাকা খরচ করতে
হবে না এবং উক্ত কাজ আপনি আপনার চাহিদা অনুযায়ী নিজে থেকে করতে পারবেন। তাই
বুঝতে পারছেন অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে ডেটা এনালিটিক্স শেখা কতটা
গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাসিক কন্টেন্ট ক্রিয়েশন শেখা
অনলাইনে সকল ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য একজন অনলাইন ব্যবসায়ীকে স্কিল গুলো
থাকা প্রয়োজন তার মধ্যে অন্যতম একটি স্কিল হচ্ছে কনটেন্ট ক্রিয়েশন
সম্পর্কে ধারণা থাকা। বর্তমান সময়ে অনলাইনে প্রায় সকল কিছুই কনটেন্ট
ক্রিয়েশনের উপর নির্ভরশীল। কনটেন্ট ক্রিয়েশন বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে তার
মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হচ্ছে আর্টিকেল, ভিডিওগ্রাফি, ব্লগ লেখা, পডকাস্ট,
বিভিন্ন ডিজিটাল পোস্টার ইত্যাদি। উক্ত মাধ্যমগুলোর সাহায্যে আপনার অনলাইন
ব্যবসা সামনের দিকে অগ্রসর করতে সাহায্য করে থাকে। তাই আসুন বেসিক কন্টেন
ক্রিয়েশন সম্পর্কে কিছুটা ধারণা লাভ করার চেষ্টা করি।
উপরের সংক্ষিপ্ত আলোচনা থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বিভিন্ন
রকম হয়ে থাকে। আজকে আমরা আর্টিকেল রাইটিং ও ভিডিওগ্রাফি নিয়ে সংক্ষিপ্ত
আলোচনা করব। আর্টিকেল রাইটিং বলতে আমরা বুঝে থাকি বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে
একটি বিস্তারিত আলোচনা লিখে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা। এই প্রক্রিয়াকে অনেকে
ব্লক পোস্টও বলে থাকে।আর্টিকেল রাইটিং এর মাধ্যমেও সহজেই অনলাইন ব্যবসার
জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করা যায়। তবে নতুনদের জন্য আর্টিকেল রাইটিং এর
ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে সব সময় কম প্রতিযোগিতামূলক লং টেইল কিওয়ার্ড
নিয়ে আর্টিকেল লিখতে হবে। কিভাবে আর্টিকেল লিখতে হয় তা নিচের দেওয়া লিংক
থেকে বেসিক শিখতে পারেন।
এরপর আমরা কনটেন্ট ক্রিয়েশনের যে বিষয়টি জানবো তা হলো ভিডিওগ্রাফি।
ভিডিওগ্রাফির নাম শুনেনি এমন মানুষ বর্তমান সময়ে খুঁজে পাওয়া খুবই মুশকিল।
অনেকে হয়তো লক্ষ্য করেছেন যে বর্তমান সময়ে ভিডিওগ্রাফির সাহায্যে
বিভিন্নভাবে বিভিন্ন পণ্য বা সামগ্রী বিক্রয় লক্ষ্যে আমাদের সামনে উপস্থাপন
হয়ে থাকে। আমরাও ঠিক একইভাবে আমাদের পণ্য বিক্রয়ের জন্য মানুষের সামনে
উপস্থাপন করতে পারি। এজন্য বিভিন্ন প্লাটফর্ম যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক
ইত্যাদি ব্যবহার করে ভিডিওগ্রাফির সাহায্যে আমাদের পূর্ণ বা সামগ্রীর ভিডিও
আকারে ক্রেতাপা গ্রাহকদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি। কিভাবে ফেসবুক,
ইউটিউব, টিকটক ইত্যাদিতে মার্কেটিং করতে হয় তা ইতিমধ্যে উপরে আলোচনা করে
হয়েছে।
ব্যাসিক সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে ধারনা লাভ
আমরা জানি যে বর্তমান সময়ে প্রায় সকল কিছু অনলাইন ভিত্তিক হয়ে গেছে।
এক্ষেত্রে যেমন সুবিধা হয়েছে ঠিক তেমনি আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যর রয়েছে
হুমকি। কারন আমরা যখন অনলাইনে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকি ঠিক তখন
আমাদের তথ্য কিছুটা অনলাইনে উক্ত প্ল্যাটফর্মে রয়ে যায়। আবার যখন কোথাও
থেকে কেনাকাটা করি বা লেনদেন করি তখন আমাদের তথ্য হ্যাক হয়ে অর্থ ক্ষতির
সাথে সাথে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্যও লিক হয়ে যেতে পারে। তাই বর্তমানে ডিজিটাল
সময়ে সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সাইবার সিকিউরিটি বা সাইবার নিরাপত্তা বলতে আমরা সংক্ষেপে বুঝে থাকি ডিজিটাল
মাধ্যমে বা অনলাইনে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাকেই বলা হয়ে
থাকে সাইবার সিকিউরিটি বা সাইবার নিরাপত্তা। তাই বর্তমান সময়ে আপনি যখন একটি
অনলাইনে সকল ব্যবসা দাঁড় করানোর জন্য চেষ্টা করছেন ঠিক তখনই আপনার সামনে একটি
বড় বাধা হয়ে আসতে পারে সাইবার হুমকি। তাই আপনার চলমান অনলাইন ব্যবসা কে
সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আপনাকে অবশ্যই সাইবার সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা সম্পর্কে
ভালোভাবে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কেননা আপনার একটি মাত্র ভুলের কারণে আপনার সহ
আপনার সকল গ্রাহকের তথ্য লিক হয়ে যেতে পারে যার ফলে আপনার ব্যবসার একটি
মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
ধৈর্য্য ধারন ও সঠিক পরিকল্পনা করা
একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে ধৈর্যের কোন বিকল্প নেই। সফলতার জন্য
গুরুত্বপূর্ন বিষয় হচ্ছে ধৈর্য। অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল
স্কিল উন্নয়ন এর পাশাপাশি আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য্য ধারন ও সঠিক পরিকল্পনা
করতে হবে। আপনি যখন নতুন করে অনলাইনে ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন ঠিক
তখনই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বলতে বোঝায়
আপনি যে ব্যবসাটি শুরু করেছেন আপনি চিন্তা করবেন যে এ ব্যবসায় আপনি শুরু থেকে
লাভ করবেন না বরং তা ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে লাভবান হবে। এই চিন্তা ও মনোবল ধরে
রাখতে পারলেই আপনি আপনার ব্যবসায় সফল হতে পারবেন বলেই আশা করা যায়।
এখন আমরা জানার চেষ্টা করব যে কিভাবে একটি অনলাইন ব্যবসা দাঁড় করানোর
সঠিক পরিকল্পনা করা যায়। অনলাইন ব্যবসা দেওয়ার করানোর প্রথম যে ধাপটি সেটি
হচ্ছে মার্কেট রিসার্চ করে পণ্য নির্বাচন করা। পন্য নির্বাচনের সময় লক্ষ্য
রাখতে হবে যে যেসকল পণ্য গ্রাহক বা ক্রেতাদের চাহিদা রয়েছে এবং বর্তমান
সময়ে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে ঠিক এই ধরনের প্রোডাক্ট বা পন্য নির্বাচন করতে
হবে। পন্য নির্বাচনের পরে সে পণ্যের মার্কেটিং করতে হবে। মার্কেটিং কিভাবে
করতে হয় তাই ইতিমধ্যে উপরে আলোচনা করা হয়েছে। তারপর যে বিষয়টি লক্ষ্য
রাখতে হবে সেটি হচ্ছে ভুল থেকে শিখতে হবে। আপনি যখন নতুন অনলাইন ব্যবসায়
নামবেন তখন আপনার ভুল হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ভুল থেকে ভেঙে পড়া যাবে না
বরং উক্ত ভুল থেকে শিখতে হবে।
পরিশেষে
অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল স্কিল উন্নয়ন করা কতটা গুরুত্বপূর্ন
তা আমরা হয়তো ইতিমধ্যে উপরের আলোচনা থেকে বুঝতেই পেরেছি। ইন্টারনেটের
সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে অধিকাংশ মানুষ বাজারে না গিয়ে ঘরে বসেই কেনাকাটা
থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাজ অনলাইনে করতে পছন্দ করে। তাই বর্তমানে কোন
প্রোডাক্ট বা পণ্য সহজে কিছু স্ট্যাট্রেজি ব্যবহার করে ঘরে বসেই বিক্রি করা
যায়। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও ধৈর্য ধারণ না করলে অনলাইন ব্যবসায় কখনো
সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই বলা যেতে পারে যে অনলাইন ব্যবসা সফলতার অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ধৈর্য ধারণ করা।
অনলাইন ব্যবসা সফল হওয়া এমন একটি প্রক্রিয়া যা ধাপে ধাপে সংঘটিত হয়। তাই
আপনিও যদি বর্তমান সময়ে এসে অনলাইন ব্যবসায় সফল হতে চান তাহলে আপনাকেও কিছু
উল্লেখযোগ্য ধাপসমূহ ধৈর্য সহকারে পার করতে হবে। উক্ত ধাপসমূহ আমরা উপরে
অতিসংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি যেখানে অনলাইন ব্যবসা সফল হওয়ার জন্য
যেসব ডিজিটাল স্কিলগুলো প্রয়োজন হবে তা থেকে শুরু করে মার্কেটিং, ডেটা
অ্যানালিটিক্স, কন্টেন্ট ক্রিয়েশন, সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে ধারণা,
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাড রান করানো ইত্যাদি আলোচনা করা
হয়েছে। তাই আপনি যদি বর্তমান সময়ে অনলাইনে ব্যবসা দাঁড় করাতে চান তাহলে যেসব
ডিজিটাল স্কিল প্রয়োজন হবে তা এই আর্টিকেল থেকে একটি তথ্যবহুল তথ্য সমূহ পেয়ে
যাবেন।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url