ব্রুনাইয়ে শ্রমিক নিলে কাজের ভিসায় যেতে পারবেন আপনিও

ব্রুনাই কাজের ভিসা প্রতিবছর বিভিন্ন দেশে দিয়ে থাকে। ব্রুনাই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একটি ছোট ও অত্যন্ত ধনী দেশ হওয়ার কারণে প্রতিবছর বিভিন্ন দেশ থেকে ব্রুনায় কাজের ভিসায় অসংখ্য সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে থাকে। তাই ব্রুনায়ে শ্রমিক নিলে কাজের ভিসায় আপনিও সহজে যেতে পারবেন।

ব্রুনাইয়ের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে তেল ও গ্যাসের রপ্তানি। তাছাড়াও কৃষিকাজ, নির্মাণ কাজ ও পর্যটনের সুযোগ সুবিধা থাকায় প্রতি বছর ব্রুনাই সরকার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য অসংখ্য শ্রমিক কাজের ভিসায় বা ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় অসংখ্য লোক নিয়োগ করে থাকে।

সূচিপত্রঃ ব্রুনাই কাজের ভিসাতে আবেদন করার নিয়ম

ব্রুনাই কাজের ভিসায় কিভাবে আবেদন করবেন

ব্রুনাই কাজের ভিসা পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে অনলাইনে ভিসা আবেদন করতে হবে ও কিছু নিয়ম নীতি অনুসরণ করতে হবে। তার মধ্যে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ও অবশ্যই পালনীয় এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকস আজকের আলোচনায় তুলে ধরা হবে। ব্রুনাই কাজের জন্য যেতে হলে অবশ্যই আপনাকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা কাজের ভিসায় আবেদন করতে হবে। ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা কাজের ভিসায় আবেদন করার জন্য নিম্নলিখিত নিয়ম কানুন অনুসরণ করা ভালো।

  • শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ আপনি কি কাজ করতে অথবা কোন ধরনের কাজ করতে উক্ত দেশে যাচ্ছেন তা নির্ভর করবে আপনার সে কাজের অথবা পদের উপর। তবে অবশ্যই আবেদন করার পূর্বে যে এজেন্সির মাধ্যমে আপনি আবেদন করবেন তার কাছ থেকে বিস্তারিত সকল বিষয় ভালোভাবে বুঝে নিবেন। তবে পরামর্শ থাকবে ইংরেজির উপর ভালো একটি চর্চা করা।কারণ,ইংরেজি ইন্টারন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ হওয়ার কারণে এটি পৃথিবীর সকল দেশে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।তাই ব্রুনাই এর মতন উন্নত ধনি দেশে রেজের একটি বিশেষ কদর থাকবে এটি স্বাভাবিক।
  • অভিজ্ঞতাঃ কাজের ভিসায় সাধারণত ব্রুনাই সরকার অন্যান্য ক্ষাতে শ্রমিক নিলেও বিশেষভাবে নির্মাণ কাজে শ্রমিক বেশি নিয়ে থাকে। তাই আগে থেকে কিছু অভিজ্ঞতা থাকলে কাজের ক্ষেত্রে তা প্লাস পয়েন্ট হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। তবে অনেক ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা চাওয়া হতেও পারে আবার নাও পারে। আপনার জন্য ভালো হবে কাজে যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই এজেন্সির সাথে ভালোভাবে অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আলোচনা করে নেওয়া।
  • কাজের ভিসায় আবেদন করার নিয়মঃ সাধারণত কাজের ভিসার জন্য বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হয় এক্ষেত্রে ভুল ত্রুটি সম্ভাবনা কম থাকে। বিভিন্ন এজেন্সি বা নিয়োগকারী সর্বপ্রথম ব্রুনাই ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে আবেদন করে থাকে। আবেদন গ্রহণযোগ্য হলে তারপর ভিসা প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ব্রুনাই কাজের ভিসায় খরচ কত

কাজের ভিসার জন্য ব্রুনাই আবেদন করার জন্য আপনার বিভিন্ন ধাপে বিভিন্নভাবে খরচ হতে পারে।উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে ভিসার জন্য এক ধাপে খরচ হবে, নিয়োগ কারীর বা প্রয়োজনীয়তার জন্য এক ধরনের খরচ হবে আবার বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ পরীক্ষা ও নিরীক্ষা করা হয় ঠিক তার উপর আরেক ধরনের খরচ ধরা হবে। আজকের এই টপিকে আমরা ব্রুনাই কাজের ভিসায় সাধারণত কত টাকা খরচ হয় অথবা হতে পারে তা নিয়ে একটি অতি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করার চেষ্টা করব। তবে মনে রাখতে হবে যে এটি একটি ধারণকৃত খরচ বিভিন্ন এজেন্সি বা নিয়োগ কারীর  উপর নির্ভর করে আপনাকে খরচ নির্বাহ করবে। তাই পরামর্শ থাকবে এই আলোচনা থেকে শুধুমাত্র ধারণা নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

ব্রুনাই কাজের ভিসা আবেদন এর জন্য সাধারণত  যে ফি বা অর্থ গ্রহণ করে থাকে তার একটি আনুমানিক পরিমাণ হচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় ১৮০০০ টাকা থেকে ৪৫০০০ টাকার মত হয়ে থাকে। আবার ওয়ার্ক পারমিট কার্ড তৈরি করার জন্য আনুমানিক যে খরচ হয় তা বাংলাদেশি টাকায় ৫৫০০ টাকা থেকে ৯০০০ টাকার মত। তাছাড়া স্বল্পমেয়াদি পেশাদার ভিসা তৈরি করার জন্য আনুমানিক যে খরচ হয়ে থাকে তা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৯০০০ টাকা থেকে ২৭০০০ টাকা হয়ে থাকে। তাছাড়া প্রতিবছর একটি নবায়ন ফি প্রদান করার প্রয়োজন হয়ে থাকে এবং তার পরিমাণ আনুমানিক বাংলাদেশী টাকায় ৯০০০ টাকা থেকে ৩৬০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

তাছাড়াও সিকিউরিটি ডিপোজিট, মেডিকেল চেকআপ, প্লেনের টিকিট, এজেন্সির ফি ইত্যাদির উপর আলাদাভাবে বিভিন্ন বড় পরিমাণের অর্থ ব্যয় করতে হয়। সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য ব্রুনাই কাজের ভিসা সম্পন্ন করতে কত টাকা খরচ হবে তা নিয়ে ছোট্ট একটি ছক বা চার্ট নিচে দেওয়া হল।যা থেকে আপনারা সহজেই একটি সুন্দর ধারণা পেতে পারেন ব্রুনাই কাজের ভিসা এর জন্য কত টাকা খরচ হবে বা হতে পারে।

খরচের ধরন ব্রুনাই টাকায় খরচ বাংলাদেশি টাকায় খরচ
ভিসা আবেদন ২০০-৫০০ ব্রুনাই ডলার ১৮০০০-৪৫০০০ টাকা
সিকিউরিটি ডিপজিট ১০০০-৩০০০ ব্রুনাই ডলার ৯০০০০-২৬৯০০০ টাকা
মেডিক্যাল খরচ ১০০-৩০০ ব্রুনাই ডলার ৯০০০-২৭০০০ টাকা
টিকিট খরচ ৩০০-৫০০ ব্রুনাই ডলার ২৭০০০-৪৫০০০ টাকা
এজেন্সি বা দালাল খরচ ৩০০-১০০০ ব্রুনাই ডলার ২৭০০০-৯০০০০ টাকা
আনুমানিক মোট খরচ ১৯০০০-৫৩০০ ব্রুনাই ডলার ৫.৩ লক্ষ (এজেন্সির মাধ্যমে)সর্বোচ্চ

তাছাড়াও থাকা,খাওয়া, যাতায়াত ইত্যাদি উপরে দেওয়া খরচের তালিকা থেকে ম্যানেজ করা সম্ভব, কেননা উপরের দেওয়া খরচের তালিকা একটু বেশি করে ধরা হয়েছে। উপরের দেওয়া খরচের তালিকা থেকে একটি সুন্দর আনুমানিক ধারনা পাওয়া সম্ভব। তবে মনে রাখবেন সরাসরি নিয়গকর্তার মাধ্যমে যেতে একপ্রকার খরচ হয় এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে গেলে তুলনা মূলক ভাবে খরচ বেশি হয়ে থাকে। এজেন্সির মাধ্যমে ব্রুনাই গেলে পরামর্শ থাকবে নিজে সচেতনতার সাথে এজেন্সি নির্বাচন করা। কারন বর্তমানে মারাত্যক পরিমান প্রতারক বেড়ে গেছে। এজেন্সির মাধ্যমে গেলে সকল প্রকার চুক্তি ও ডকুমেন্টসের সকল বিষয় ব্রুনাই যাওয়ার পূর্বেই এজেন্সির সাথে ভালোভাবে বুঝে নিবেন।

ব্রুনাই কাজের ভিসায় বেতন কেমন

অনলাইনে ভিসা আবেদন করার পর আপনি যদি ব্রুনাই কাজের ভিসা পেয়ে যান তাহলে আপনার মনে একটি প্রশ্ন অবশ্যই এসে থাকবে যে ব্রুনাই কাজের ভিসায় বেতন কেমন বা এদেশে কাজের চাহিদা কেমন। ব্রুনাই হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার একটি অত্যন্ত ধনী দেশ। এদেশের মূল অর্থনীতি গ্যাস ও তেলের রপ্তানি থেকে হয়ে থাকে। তাই এদেশে অন্যান্য সকল খাত যেমন নির্মাণ কাজ, কৃষিকাজ থেকে শুরু করে অন্যান্য ফ্যাক্টরি লেভেল এ কাজ করার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে ব্রুনাই সরকার বিপুল পরিমাণে শ্রমিক এদেশে এনে থাকি এবং তুলনামূলকভাবে এদেশে যাওয়ার জন্য খরচ কম হলেও কাজের ক্ষেত্রে বেতন মোটামুটি ভালই বলা চলে।

এখন আমরা অতি সংক্ষেপে ব্রুনাই কাজের ভিসাই বেতন কেমন তা নিয়ে একটি ছোট প্রতিবেদন ও একটি চার্ট আকারে উপস্থাপনা করার চেষ্টা করব। ব্রুনাইয়ে আসলে বেতন নির্ভর করে বিভিন্ন কাজের উপর। যেমনঃ নির্মাণ কাজ, পরিবহনের কাজ, বিভিন্ন হোটেলের কাজ, গৃহকর্মীর কাজ ইত্যাদিতে বিভিন্ন রকমের আলাদা আলাদা ভাবে বেতন প্রদান করা হয়ে থাকে। ধারণা দেওয়ার জন্য নিচে একটি বেতনের চার্ট প্রদান করা হলোঃ

কাজের নাম কাজের ধরন মাসিক বেতন(ব্রুনাই) মাসিক বেতন(বাংলাদেশি)
নির্মান কাজ নির্মান শ্রমিক ৪০০-৭০০ ব্রুনাই ডলার ৩৬০০০-৬৩০০০ টাকা
রাজমিস্ত্রি ৫০০-৮০০ ব্রুনাই ডলার ৪৫০০০-৭২০০০ টাকা
ইলেকট্রিশিয়ান ৬০০-৯০০ ব্রুনাই ডলার ৫৪০০০-৮১০০০ টাকা
পরিবহন কাজ বাস ড্রাইভার ৭০০-১২০০ ব্রুনাই ডলার ৬৩০০০-১০৮০০০ টাকা
কার ড্রাইভার ৬০০-৯০০ ব্রুনাই ডলার ৫৪০০০-৮১০০০ টাকা
ডেলেভারি রাইডার ৫০০-৮০০ ব্রুনাই ডলার ৪৫০০০-৭২০০০ টাকা
হোটেল কাজ ওয়েরটার ৪৫০-৭০০ ব্রুনাই ডলার ৪০৫০০-৬৩০০০ টাকা
বাবুর্চি ৮০০-১২০০ ব্রুনাই ডলার ৭২০০০-১০৮০০০ টাকা
row9 col 1 ক্লিনার ৪০০-৬০০ ব্রুনাই ডলার ৩৬০০০-৫৪০০০ টাকা
গৃহকর্মীর কাজ গৃহকর্মী কাজ ৩০০-৫০০ ব্রুনাই ডলার ২৭০০০-৪৫০০০ টাকা
ক্লিনার ৪০০-৬০০ ব্রুনাই ডলার ৩৬০০০-৫৪০০০ টাকা


আপনি যদি ওভারটাইম কাজ করে থাকে তাহলে আপনার বেতনের ছাড়াও অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। উপরে ব্রুনাই  শ্রমিক বেতনের যে তালিকাটা দেওয়া হয়েছে সেটি ব্রুনাই শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া। তাছাড়াও আপনি যদি একদম সঠিক ও নিখুঁত ব্রুনাই শ্রমিকের বেতন জানতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে ব্রুনাই শ্রম মন্ত্রণালয় অথবা কোন বিশ্বস্ত এজেন্সি সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

ব্রুনাই কোন ধরনের কাজের চাহিদা বেশি

কোনো দেশে কাজের জন্য যাওয়াএ আগে আপনাকে অবশ্যয় ওই দেশের কোন ধরনের কাজের চাহিদা বেশি তা জানতে হবে। ভিসা আবেদন করার পূর্বেই আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে যে ব্রুনাই ভিসায় যাওয়ার পর আপনি কোন ধরনের কাজ করবেন। তাই ব্রুনাই কোন ধরনের কাজের চাহিদা বেশি জানা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন টপিক'স। পূর্ব এশিয়ার একটি ছোট ও অত্যন্ত ধনী দেশ হওয়ার কারণে এ দেশে বিভিন্ন ক্ষাতে ব্রুনাই সরকার শ্রমিক নিয়ে থাকে। এখন আমরা এমনি কিছু কাজের নাম জানবো যেগুলোর চাহিদা বেশি।


ব্রুনাই এর মূল অর্থনীতি তেল ও গ্যাসের খনির উপর নির্ভর হওয়ার কারনে ব্রুনাই সরকার বিভিন্ন তেল ও গ্যাসের খনিতে শ্রমিক নিয়ে থাকে। তেল ও গ্যাসের খনিতে কাজের চাপের পাশাপাশি পরিশ্রম বেশি হওয়ার কারনে এই কাজের বেতনও বেশি। তাছাড়াও এই দেশটিতে গৃহ নির্মাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্মাণের কাজে শ্রমিক নেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও ও দেশটি সমুদ্র উপকূলীয় হওয়ার কারণে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যার কারণে এদেশের হোটেলে কাজ করার মত লোক না থাকার কারণে বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া হয়ে থাকে। তাছাড়াও ইলেকট্রিশিয়ান, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, ড্রাইভার, ক্লিনার যত ধরনের কাজ আছে প্রায় সব কাজ এরই চাহিদা লক্ষ করা যায়।

ব্রুনাই এ কোন ধরনের ভুল করা যাবে না

ব্রুনাই ভিসা পাওয়া থেকে শুরু করে দেশটিতে পৌঁছানো পর্যন্ত নতুনরা অনেক ভুল করে থাকে। একটি মুসলিম দেশ হওয়ার কারণে এদেশের আইন, শর্ত ও ভিসার নিয়ম অনেক নিয়ম নীতি অনুযায়ী মেনে চলতে হয়। তা না হলে ভিসা ক্যানসেল পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই আমাদের শ্রমিক ভিসাই কাজ থাকতে হলে অবশ্যই কিছু কিছু কাজ আছে যেগুলো ভুলেও করা যাবে না। আজকের এই টপিকসে আমরা জানবো ব্রুনাই এ কোন ধরনের ভুল করা যাবে না।

ব্রুনাই যেহেতু মুসলিম দেশ তাই এ দেশে ইসলাম বিরধী এমন কোনো কাজ করা যাবে না। সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় হলো অবৈধভাবে এই দেশটিতে আসা যাবেনা। ভিসা ঠিকঠাক করে তারপর এ দেশে আসতে হবে। তাছাড়া নতুনরা অন্যতম যে ভুল করে থাকে সেগুলো হলো কোম্পানির নিয়ম না মানা, স্থানীয় আইন না মানা, অবৈধভাবে পার্টটাইম জব করা, চাকরি বদলের নিয়ম না মানা, মেয়েদের প্রতি খারাপ দৃষ্টিভঙ্গিতে তাকানো, বিদেশিদের সাথে খারাপ ভাবে কথাবার্তা বলা, ধর্মীয় স্থানীয় নিয়ম নীতি না মানা, রাস্তায় মানুষ জনের সাথে খারাপ আচরণ করা বা কথা বলা, মারামারি করা, মাদকদ্রব্য বা জুয়া ইত্যাদির মত ভয়াবহ ভুল করে থাকে। এসবের কারণে জেল থেকে শুরু করে দেশ থেকে বিতাড়িত করার মত শাস্তি প্রদান করাও হয়ে থাকে।

ব্রুনাই কাজের ভিসায় কোন ধরনের কাগজপত্র লাগে

কাজের ভিসার জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের কাগজপত্র আবদার করে থাকে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের কাগজের প্রয়োজন হয়। ঠিক তেমনি ব্রুনাইতে শ্রমিক ভিসা বা কাজের ভিসায় আসতে হলে ব্রুনায় সরকার বা এজেন্সি বিভিন্ন রকমের কাগজপত্র বা ডকুমেন্টসের আবদার করে থাকে। ভিসার জন্য দৃষ্টিতে কাজ পাওয়ার জন্য উক্ত কাগজপত্র বা ডকুমেন্টের এর গুরুত্ব তুলে না ধরলেই নয়। দেশটিতে কাজের ভিসার জন্য আবার দেশটিতে একটি নির্দিষ্ট সময় থাকার জন্য কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে ব্রুনাই সরকারের প্রয়োজন মত। যে সব মূল মূল কাগজপত্র লাগবে তার একটি হচ্ছে সংক্ষিপ্ত ভাবে নিচে আলোচনা করা হলো।

ব্রুনাই দেশে কাজের ভিসার জন্য যে মূল কাগজপত্র লাগবে তার অন্যতম একটি হচ্ছে পাসপোর্ট।অবশ্যই পাসপোর্ট এর মেয়াদ ৬ মাস থাকতে হবে। তারপর প্রয়োজন হবে বাংলাদেশী এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র। তাছাড়া সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড এর কিছু পরিমাণ ছবি লাগবে। তাছাড়াও দেশটিতে কাজ করার জন্য চুক্তিপত্র, ওয়ার্ক পারমিট অথবা নিয়োগ পত্র এর প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের মতো সাধারণ কাগজপত্র লাগে সেগুলো হচ্ছে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর কাগজপত্র, মেডিকেল চেকআপ সহ এ জাতীয় সকল কাগজপত্র। তাছাড়াও আনুষঙ্গিক হিসেবে কাগজপত্র লাগে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, পূর্ব অভিজ্ঞতার সার্টিফিকেট ইত্যাদি।

ভিসা পেতে কতদিন সময় লাগে

ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা কাজের ভিসা পেতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় লেগে থাকে। ভিসা প্রক্রিয়াজাত হতে, কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে, বিভিন্ন স্বাস্থ্য চেকআপ হতে তাছাড়াও অনেক কারণে ব্রুনাই সরকার সাধারণত ১ থেকে ৪ মাস সময়ের মতো নিয়ে থাকে। তবে কারণ ভিত্তিতে ও বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার ভিত্তিতে এ সময় কম হতেও পারে আবার বেশিও হতে পারে। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে কাজের ধরন ও সময়ের উপর। ঠিক একই ভাবে একইভাবে আমরা নিচে স্বল্প বিস্তারে আলোচনা চেষ্টা করব প্রণব বিষয় পেতে সর্বনিম্ন কত দিন সময় লাগতে পারে।

ব্রুনাই কাজের ভিসা পাওয়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে শ্রমিক অনুমোদন। ব্রুনাই সরকার সর্বপ্রথম শ্রমিক মন্ত্রণালয় থেকে উক্ত শ্রমিকের ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসার আবেদনের প্রসেস সম্পন্ন করে। এ আবেদন প্রসেস সম্পন্ন করতে প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ সময়ের মতো লেগে যায়। তারপর কাগজপত্র জমা দেওয়া ও বিভিন্ন মেডিকেল চেকআপের মাধ্যমে যেতে হয়। তাছাড়াও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিভিন্ন মাধ্যমে যেতে যেতে আরো এক থেকে দেড় মাসের মতো সময় চলে যায়। সকল কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর যখন দেশটি থেকে বৈধ অনুমোদন দেয় তারপর পাসপোর্ট স্টাম্পিং প্লেনের টিকিট কেটে দেশটিতে আসতে আসতে প্রায় এক থেকে চার মাসের মতো সময় লেগে যেতে পারে। এটি অবশ্যই নির্দিষ্ট কোন সময়সূচী নয় বিভিন্ন এজেন্সির বিভিন্ন সময় লেগে থাকে।

কোন ধরনের কাজ করলে বেশি টাকা পাওয়া যায়

অনলাইনে ভিসা আবেদন করার পর অনেকের কৈতুহল থাকে যে কোন ধরনের কাজ করলে বেশি টাকা পাওয়া যায় বা অনেকে দেশে থেকেই প্রতিগ্যা বদ্ধ হয়ে আসে যে ব্রুনাই এসে কাজ করেই অল্প দিনের মধ্যে বড় লোক হওয়ার মন মানুষিকতা থেকে থাকে। ঠিক এই কারনে বলে রাখা ভালো যে পৃথিবীর কোনো দেশেই কাজ করে অল্প দিনের মধ্যে বেশি অর্থ উপার্জন করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা যদি একটু সচেতন হয়ে সব দিকে লক্ষ রাখলেই বুঝতে পারবো যে কোন কাজে অর্থ বেশি। ওই সকল কাজে পরিশ্রম বেশি হলেও অর্থের পরিমান বেশি। তাই আমরা এই টপিকস এ আলোচনা করবো যে কোন ধরনের কাজ করলে বেশি টাকা পাওয়া যায়।

ব্রুনাইয়ের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে তেল ও গ্যাসের রপ্তানি। এদেশের লোকসংখ্যা কম হওয়ার কারণে এ ধরনের কাজ করার জন্য ও পরিশ্রম বেশি হওয়ার কারণে তেল ও গ্যাসের খনিতে মানুষ কাজ করতে চায় না। ঠিকই কারণে এল গ্যাসের ঘড়িতে কাজ করলে পরিশ্রম বেশি হলেও অর্থ বেশি পাওয়া যায়। তা ছাড়াও ব্রণের একটি অর্থ সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার কারণে এদেশে প্রতিনিয়ত দাঁড়ান কোঠার পরিমাণ বেড়ে চলেছে তাই নির্মাণ কাজেও রয়েছে প্রচুর চাহিদা। ঠিক একই ভাবে আসবাবপত্র তৈরির কাজেও রয়েছে প্রচুর চাহিদা। এ সকল কাজ ব্রুনাইতে খুব সহজে পাওয়া যায় এবং একটি সুন্দর পরিমাণের অর্থ উপার্জন করা যায়।

কম খরচে থাকা কিছু উপায় ও টিপস

ব্রুনাই যেমন প্রচুর অর্থ ইনকাম করা যায় ঠিক তেমনি দেশটি ব্যয়বহুলও বটে। তা সঠিক পরিকল্পনা অথবা নিয়মনীতি অনুসরণ না করে চললে দেশটিতে থাকা, খাওয়া দাওয়া, চলাফেরা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ যোগাতে হিমসিম বা অনেক কষ্টসাধ্য হবে। তো সঠিক পরিকল্পনা অনুসরণ করলে এই সমস্যা থেকে অতি সহজে সমাধান পাওয়া সম্ভব এবং মাস শেষে দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে। তাই আসুন জানি খুব সহজ কিছু পদ্ধতির অবলম্বন করে কিভাবে ব্যয়বহুল দেশে অর্থ বাঁচানো যায়।


ব্রুনাইতে খরচ কমানোর জন্য অন্যতমের সেরা মাধ্যম হচ্ছে কোম্পানির দেওয়া বাসা বাড়িতে থাকা।আবার অনেক সময় অনেক কোম্পানি আছে যারা থাকার জন্য শ্রমিকদের বাসা দিয়ে থাকে না সে ক্ষেত্রে রুম শেয়ারিং এর মাধ্যমে থাকলে খরচ অনেক অংশে কমানো সম্ভব হয়। তাছাড়া অন্যতম একটি সহজ মাধ্যম হচ্ছে ব্যয় বহুল এলাকা গুলোতে বাসা ভাড়া না নিয়ে এসব এলাকাতে বাসা ভাড়া কম সেসব এলাকাতে রুম শেয়ারিং এর মাধ্যমে বাসা ভাড়া নিলে অনেকাংশে খরচ কমানো সম্ভব হবে।যাতায়াতের জন্য সাইকেল ব্যবহার করতে হবে। কেননা এদেশে যাতায়াতের গাড়ি ব্যবহার করলে তা অনেক ব্যয়বহুল। তাছাড়া অযথা খরচ কমাতে হবে যেমন ব্যায়বহুল পোশাক আশাক, খাবার দাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।

শেষ কথা

ব্রুনাই কাজের ভিসা পাওয়া যেমন কঠিন ঠিক তেমনি দেশটিতে নিয়ম নীতি অনুসরণ করে না চললে দৃষ্টিতে থাকা কঠিন। তাই পরামর্শ থাকবে দেশটির আইন শৃঙ্খলা, নিয়ম নীতি ইত্যাদি মেনে চলা ও সভ্যভাবে থাকা। কেননা একটি মুসলিম দেশ হওয়ার কারণে দেশটিতে আইন নীতিমালা সমূহ একটু কঠিন হলেও তা মেনে চলতে হবে। ব্রুনাই দেশটিতে লোকসংখ্যা কম হওয়ায় আবার উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার কারণে দেশটিতে দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন পড়ে। তাই এই সুযোগে কাজে লাগিয়ে দেশটিতে খুব সহজে কাজের সন্ধান পাওয়া যায়।

ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসাই দৃষ্টিতে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে সামগ্রিক বিষয়বস্তু মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ বর্তমান সময়ে বিভিন্ন দেশের শ্রমিক পাঠানোর নাম করে বিভিন্ন এজেন্সি বা দালাল জনগোষ্ঠী বিপুল পরিমাণের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে চলে যায়। ঠিক একই কারণে আপনি যখন বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন আপনি অবশ্যই যাচাই বাছাই করে দেখবেন যে উক্ত এজেন্সি বিশ্বাসযোগ্য কিনা। তা না হলে আপনার সারা জীবনের অর্থ ভুল হাতে চলে যেতে পারে।

তাছাড়া আমরা উপরে যে তথ্যগুলো সরবরাহ করেছি তার সম্পূর্ণ ঠিক নাও হতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনি বিবেচনা করে ব্যবহার করবেন এবং তথ্যগুলো শুধুমাত্র ধারণা নেওয়ার জন্য লেখা হয়েছে বাস্তব জীবনে প্রয়োগের পূর্বে অবশ্যই অভিজ্ঞদের অথবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে তারপর বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবেন। মনে রাখবেন অনলাইনে যে কোন তথ্য পাওয়া যায় তা সব সময় সঠিক হয় না সে ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার জ্ঞান ও বিবেক দিয়ে বিষয়বস্তুগুলো ভাবতে হবে এবং বাস্তব জিবনে প্রয়োগ করতে হবে। আমাদের কনটেন্টে কোন কিছু ভুল তথ্য থাকলে অথবা কোন পরামর্শ দিতে হলে নিচে কমেন্ট করুন অথবা যোগাযোগ পেজে গিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url