খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা
করলার অন্যতম গুন হচ্ছে এটির চরান্তিন ও পলিপেপটাইড-পি নামক উপাদান অ্যান্টি-ডায়াবেটিক হিসেবে কাজ করে। ওজন কমাতে সহায়ক, হজম শক্তি বাড়ায়, ত্বক সুন্দর করে তুলে এছাড়াও রয়েছে এর বহুন গুনাগুন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করলার জুস পান হতে পারে আপনার শ্রেষ্ঠ সাপ্লিমেন্ট।
খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আমরা অনেকে জানি না। স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের জন্য করলার জুস হতে পারে এক অনন্য খাদ্য। কারন, করলার কিছু বিশেষ গুন রয়েছে যেগুলোর কারনে আপনার লাখ টাকার চিকিৎসার হাত থেকে বাঁচতে পারেন।
সূচিপত্রঃ খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা
- খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা
- রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
- ওজন কমাতে সহায়তা করে
- হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
- ত্বকের ব্রণ নিরাময়ে সহায়ক
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
- লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে
- কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
- করলার জুস খাওয়ার সঠিক নিয়ম
- যারা করলার জুস খাবেন না
- করলার জুস খাওয়ার অপকারিতা
- পরিশেষ - খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা আমরা অনেকে জানি না। করলা শুধু সবজি
নয় এটি একটি প্রাকৃতিক ওষুধও বটে। নিয়মিত সকালে খালি পেটে করলার জুস পান
করলে দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও মেধ প্রতিরোধে সাহায্য
করে থাকে। এছাড়াও করলার জুস প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে।
নিয়মিত করলার জুস পান হতে পারে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অনন্য সাপ্লিমেন্ট।
এখন আমরা খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার কিছু উপকারিতা সম্পর্কে জানবো।
- রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
- ওজন কমাতে সহায়তা করে
- হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
- ত্বকের ব্রণ নিরাময়ে সহায়ক
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
- লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে
- কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ইত্যাদি।
এখন আমরা উপরে দেওয়া খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করবো। তবে একটি বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে যে খালি
পেটে অথবা আপনি যেই ভাবেই করলার জুস পান করেন না কেন অবশ্যই পরিমান মতো
সেবন করতে হবে। কেননা, অতিরিক্ত করলার জুস পান করলে নিম্ন রক্তচাপ,
পেটের সমস্যা বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে
খাওয়া উচিত। এখন আমরা করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা সমূহ বিস্তারিত আলোচনা
করবো।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
করলা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি। যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। করলার জুসে এমন কিছু
প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য
করে। এটি বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। কারণ এটি শরীরের
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করেরণটিন হজম প্রক্রিয়া সবল করে তুলে ফলে আমাদের
শরীর থেকে সহজেই শর্করা বের হয়ে যায়।
এই দুটি যৌগ একসঙ্গে কাজ করে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য
করে থাকে যা বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই
রক্তে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে খালি পেটে করলার জুস পান হতে
পারে আপনার জন্য অনন্য সমাধান। খালি পেটে করলার জুস পান করে আপনি খুব সহজে
টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে পারবেন।
ওজন কমাতে সহায়তা করে
খালি পেটে করলার জুস পান করে প্রাকৃতিক ভাবে ওজন কমানো সম্ভব। করলাতে
ক্যালোরির মাত্রা অনেক কম থাকা পাশাপাশি এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার
যা শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে ওজন কমাতে সাহায্য
করে। দ্রুত এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমানোর জন্য করলার জুসের ভুমিকা
অপরিসীম। করলাতে থাকা বিশেষ কিছু উপাদান আমাদের শরীরের চর্বি কমাতে সাহায্য
করে থাকে। ফলে সহজে ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে অতিরিক্ত ওজন কমানো সম্ভব হয়।
করলায় উপস্থিত কিছু সক্রিয় উপাদান দেহের চর্বি ভাঙতে সাহায্য করে এবং শরীরের
অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে দেয় না। আমাদের শরীরে অ্যাডিপোজ টিস্যু নামক
একধরনে টিস্যু থাকে যা মূলত আমাদের মেধ বা চর্বি জমানোর জন্য দ্বায়ি। করলাতে
থাকা বিশেষ কিছু উপাদান অ্যাডিপোজ টিস্যু উৎপাদন হ্রাস করে। তাই নিয়মিত
করলার জুস সেবন করলে শরীরে চর্বি জমার হার কমে যায় এবং ওজন হ্রাস পেতে
শুরু করে।
করলাতে প্রচুর পরিমান ফাইবার থাকে। করলায় থাকা এই ফাইবার দীর্ঘ
সময় পেট ভরিয়ে রাখে ফলে ক্ষুধা কম লাগে। করলাতে থাকা ফাইভারের কারনে আমাদের
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ হয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে
যায়। অনেক সময় বারবার ক্ষুধা লাগার কারণে বেশি খাওয়া হয়ে যায়। যা ওজন
বাড়ার অন্যতম কারণ। করলার জুস এই প্রবণতাকে নিয়ন্ত্রণ করে ফলে ক্যালোরি
গ্রহণ স্বাভাবিক থাকে এবং ওজন কমতে থাকে।
হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে
করলা একটি অত্যান্ত পুষ্টি সম্মত সবজি। করলাতে থাকা বিশেষ কিছু উপাদান বিশেষ
করে করলাতে থাকা ডায়াটারি ফাইবার আমাদের পাকস্থলির ভালো ব্যাকটেরিয়ার
সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। যার কারনে আমাদের পাকস্থলীতে থাকা ক্ষতিকর জীবানু
বা ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমতে থাকে এবং হজম শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে
থাকে। অন্ত্রে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া বা পরজীবী সংক্রমণ হলে হজমের
সমস্যা দেখা দেয় কিন্তু নিয়মিত খালি পেটে করলার জুস খেলে এই সমস্যা থেকে
মুক্তি পাওয়া যায়।
হজমশক্তি বাড়াতে করলার জুস অত্যান্ত কার্যকারী হলেও এর অনিয়মিত ও সঠিক
ব্যাবহার না করলে হতে পারে মারাত্নক স্বাস্থ্য ক্ষতি। তাই হজম শক্তি বাড়ানোর
জন্য আপনি যদি করলার জুস পান করতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই পরিমান মতো ও সঠিক
নিয়ম পান করতে হবে। করলার জুস ছড়াও আপনি চাইলে করলার তরকারি অথবা করলা ভাজি
করেও ক্ষেতে পারেন। উভয় ক্ষেত্রে ফলাফল একই হলেও খালি পেটে করলার জুস পান করে
হজম শক্তি বাড়াতে হতে পারে আপনার জন্য অনন্য একটি মাধ্যম।
ত্বকের ব্রণ নিরাময়ে সহায়ক
করলাতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান আমাদের স্বাস্থের বিভিন্ন উপকারের
পাশাপাশি ত্বকের ব্রণ নিরাময়ে সহায়ক। আপনি যদি নিয়মিত ও সঠিক পদ্ধতিতে
করলার জুস পান করে তাহলে অল্প সময়ের মধ্যেই আপনার ত্বকের ব্রণ অনেক অংশে কমে
যাবে। করলাতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান উপাদান সমূহ আমাদের
শরীরে থাকা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। যার ফলে আমাদের
ত্বকের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যাও তুলনা মূলক হ্রাস পায়।
আরোও পড়ুনঃ আদা দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা
আমাদের ত্বকের গ্রন্থি থেকে সিবাম নামক এক ধরনের তেল উৎপন্ন হয়ে থাকে। এই
তেলের পরিমান যখন বেশি পরিমানে উৎপন্ন হয় ঠিক তখন আমাদের ত্বক তৈলাক্তক হয়ে
যায়। তৈলাক্তক ত্বকে বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার আক্রমনের কারনে আমাদের ত্বকের
লোম কূপ বন্ধ হয়ে যায় এবং উক্ত জাইগা কিছুটা লালতে ভাব হয়ে ফুলে উঠে ও
কিছুদিন পর তা হলুদ বর্ন ধারন করে। একেই মূলত বলা হচ্ছে ব্রণ সমস্যা। নিয়মিত
খালি পেটে করলার জুস পান করলে মাত্র ৩০ দিনের মধ্যেই ত্বকের ব্রণের প্রভাব
কমতে শুরু করে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে
করলাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান সমূহ আমাদের
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে থাকে। নিয়মিত খালি পেটে
করলার জুস পান করলে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি
কমে থাকে। করলাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ উপাদান থাকার কারনে
ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে থাকে। এছাড়াও করলাতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন
C, বেটা-ক্যারোটিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড থাকার কারনে আমাদের দেহের কোষগুলোর
ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে থাকে।
আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে রক্তে থাকা শ্বেত রক্তকণিকা।
নিয়মিত খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার ফলে আমাদের রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার
পরিমান বৃদ্ধি পায়। যার ফলে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও
করলাতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান আমাদের শরীরের বিভিন্ন রোগের
প্রতিরোধ তৈরি করে আমাদের শরীরকে সুরক্ষিত রাখে। তাই বলা যায়
যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খালি পেটে করলার জুস খাওয়া অত্যান্ত
গুরুত্বপূর্ন।
লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে
করলাতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস উপাদান আমাদের লিভার
থেকে টক্সিক পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে থাকে। যার ফলে ফ্যাটি লিভার,
হেপাটাইটিস ও লিভারের অন্যান্য সমস্যার সমাধান করে থাকে। প্রতিদিন খালি পেটে
করলার জুস খাওয়ার ফলে লিভারকে ডিটক্সিফাই বা দূষিত পদার্থ লিভার থেকে অপসারন
করতে সাহায্য করে এবং লিভারকে সুস্থ রাখে এবং কার্যকারিতা উন্নত করতে
সাহায্য করে থাকে।
এছাড়াও করলাতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল
লিভারে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা প্রদান করে যার ফলে
লিভারের প্রদাহ কমে ও লিভার সুস্থ থাকে। খালি পেটে করলার জুস পান করলে এটি
লিভারের পাচকরস নিঃসরণ বৃদ্ধি করে এবং হজমে সহায়তা করে থাকে যার ফলে হজম
ভালো হয় এবং পাচকরস নিঃসরণের জন্য লিভারের উপর অতিরক্ত চাপ পড়ে না। তাই
বলা যায় নিয়মিত করলার জুস পান করলে লিভারের এনজাইম সক্রিয় থাকে এবং
লিভারে থাকা দূষিত পদার্থ নিঃসরণ করে লিভারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে
করলাতে প্রচুর পরিমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার পাওয়া
যায়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার এই দুই উপাদান আমাদের স্বাস্থের জন্য
অনেক উপকারী উপাদান। কারন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার সমূহ আমাদের
শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর পরিমান কমাতে সাহায্য করে থাকে
এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) এর পরিমান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। আমরা
অনেক সময় কোলেস্টেরল জনিত নানা সমস্যায় পড়ি যার ফলে আমাদের অনেক অর্থ
ব্যায় করতে হয় এই চিকিৎসার পেছনে।
অনেক সময় ডাক্তারেরর শরনাপর্ন হলে কিছু ঔষধ পাতির সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে থাকে
করলা খাওয়ার জন্য। তাই আপনিও যদি কোলেস্টেরল জনিত কোনো সমস্যায় পড়তে না
চান তাহলে আপনি খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) এর পরিমান কমাতে বা
প্রতিরোধে নিয়মিত করলার জুস গ্রহন করতে পারেন। এছড়াও করলার
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও লিভার-ডিটক্সিফাইং গুণাগুণ আমাদের শরীরের অতিরিক্ত
চর্বি ও টক্সিন পদার্হ কমিয়ে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
করলার জুস খাওয়ার সঠিক নিয়ম
আমরা এতক্ষন উপরে করলার জুস খাওয়ার অনেক গুলো উপকারিতার কথা জানলাম।
উপরের সকল উপকারিতা সমূহ তখনই কাজ করবে যখন আপনি সঠিক নিয়ম অনুসরন করে করলার
জুস পান করবেন তা না হলে আপনি করলা অথবা করলার জুস যতই পান করুন না কেন তা
আপনার শরীরে কাজ করবে না। তাই আমাদের জানা উচিৎ করলার জুস খাওয়ার সঠি এবং রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
করলায় পলিপেপটাইড-পি নামে একটি প্রাকৃতিক যৌগ পাওয়া যায়। যা ইনসুলিনের মতো কাজ করে থাকে। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে আনে এবং দেহের কোষগুলোকে ইনসুলিনের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে আমাদের শরীর সহজে শর্করা নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও করলায় "চরণটিন" নামক আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে। চাক
পদ্ধতি। এখন আমরা করলার জুস খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে জানবো।
- সকালে খালি পেটে পান করাঃ খালি পেটে করলার জুস পান করলে আমাদের শরীর দ্রুত এটি শোষন করতে পারে এবং সেই সাথে ডিটক্সিফিকেশন ও ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে ভালো কাজ করে।
- সঠিক পরিমাণে পান করাঃ প্রতিদিন ১ থেকে ২ কাপ বা ১০০ মি.লি থেকে ১৫০ মি.লি পরিমান করলার জুস পান করতে পারেন।
- স্বাদ বাড়ানোর জন্যঃ অনেকে করলার তিতা স্বাদ গ্রহন করতে পারেনা। তারা স্বাদ বাড়ানোর জন্য লেবুর রস, আদার রস বা মধু মিশিয়ে পান করতে পারেন।
- ফ্রেশ জুস তৈরি করে পান করাঃ করলার জুস একবার তৈরি করে তা সংরক্ষন করে ব্যাবহার না করে ফ্রেশ জুস তৈরি করে পান করা বেশি উপকারী। তাই প্যাকেটজাত বা সংরক্ষিত করলার জুস পান না করাই উত্তম।
- করলার জুস খাওয়ার পর করনীয়ঃ খালি পেটে করলার জুস পান করার পর হালকা গরম কুসুম পানি পান করলে শরীর থেকে টক্সিন পদার্থ দূর করতে সাহায্য করবে। এছাড়া করলার জুস পান করার ৩০ মিনিটের মধ্য ভারি খাবার গ্রহন না করাই উত্তম।
যারা করলার জুস খাবেন না
করলার জুস অত্যন্ত পুষ্টিকর হলেও কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এটি ক্ষতিকর
হতে পারে। তাই কিছু মানুষের জন্য করলার জুস পান করা একেবারেই গ্রহন যোগ্য নয়।
এখন আমরা নিচে এমন কিছু ব্যাক্তিদের কথা তুলে ধরবো তাদের করলার জুস খালি পেটে
গ্রহন করা একদম উতিচ নয়। এছাড়াও কারো যদি করলাতে এলার্জি বা স্বাস্থগত সমস্যা
অথবা নিয়মিত কোনো ঔষুধ গ্রহন করে থাকেন তাহলে তারা ডাক্তার বা
পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে করলার জুস পান করবেন।
- গর্ভবতী মায়েরাঃ গর্ভবতী মায়েদের জন্য করলার জুস খালি পেটে পান করা মোটেও উচিৎ নয় বরং এতে গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- নিম্ন রক্তচাপ রোগীদেরঃ করলার জুস রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। তাই যাদের নিম্ন রক্তচাপ রয়েছে তারা যদি করলার জুস নিয়মিত পান করে তাহলে তাদের বিপজ্জনকভাবে রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে।
- অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা অম্লত্বজনিত সমস্যা থাকলেঃ করলার স্বাদ তিতা হওয়ার কারনে পেটে গ্যাস ও অম্লত্ব এর পরিমান বাড়িয়ে দিতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিক আলসার বা পেপটিক আলসার রয়েছে তাদের করলার জুস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ।
- অপারেশন করা বা করবে এমন ব্যাক্তিদেরঃ করলার জুস নিয়মিত পান করার ফলে রক্তের শর্করার পরিমান কমে যায় যার ফলে অপারেশনের সময় রক্তের শর্করার ভারসম্য নষ্ট হয়ে পারে। তাই অপারেশন করার ৩০ দিন আগে করলার জুস পান করা বন্ধ করা উচিৎ। সেই সাথে যাদের অপারেশন করা হয়েছে তারা সম্পূর্ন সুস্থ্য হওয়ার পর ডাক্তারের অনুমদন সাপেক্ষে গ্রহন করতে পারেন।
- অতিরিক্ত দুর্বল ব্যাক্তিদেরঃ যাদের শরীর অনেক দূর্বল তাদের অতিরিক্ত করলার জুস পান থেকে বিরত থাকা উচিৎ। এতে তাদের খাদ্যাভ্যাসের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- স্বস্থ্যগত সমস্যা থাকলেঃ যদি কারো নির্দিষ্ট কোনো স্বস্থ্যগত সমস্যা থাকে বা কোনো ঔষুধ নিয়মিত গ্রহন করে তাহলে তাদের করলার জুস পান করা উচিৎ নয়।
করলার জুস খাওয়ার অপকারিতা
আমরা উপরে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা ও কাদের খাওয়া উচিৎ নয় সে সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এখন আমাদের জানা প্রয়োজন করলার জুস খাওয়ার
অপকারিতা সম্পর্কে। কেননা আমরা যদি শুধু উপকারিতার কথা জেনে একাধারে করলার
জুস পান করে আসি এবং পরবর্তীতে দেখা যাবে যে উপকারের চাইতে ক্ষতির পরিমান
বেশি হয়েছে। তাই করলার জুস পান করার উপকারিতার পাশাপাশি আমাদের জানা
প্রয়োজন করলার জুস খাওয়ার অপকারিতা সমূহ।
আরোও পড়ুনঃ হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ এবং প্রতিকার
- নিয়মিত করলার জুস পান করলে রক্তের শর্করার পরিমান অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।
- ডায়াবেটিস রোগীরা যারা ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন তাদের রক্তের শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দিতে পারে।
- অতিরিক্ত করলার জুস পান করলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ঝিমুনি, এমনকি অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- মাত্রার চাইতে অতিরিক্ত করলার জুস পান করলে ডায়রিয়া, পেট ফাঁপা, পেট ব্যথা ও অস্বস্তি বোধ এর মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
- অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক, অম্লতা বা বুক জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
- রক্তচাপ অতিরিক্ত পরিমানে কমিয়ে ফেলতে পারে।
- অতিরিক্ত করলার জুস পান করার ফলে লিভারের এনজাইমগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
- দীর্ঘদিন করলার জুস খেলে মুখের স্বাদ নষ্ট হতে পারে ইত্যাদি।
পরিশেষ - খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা
খালি পেটে করলার জুস খাওয়ার উপকারিতা অনেক রয়েছে যা আমরা এতক্ষন উপরে বিস্তারিত
আলোচনা করেছি। তবে করলার জুস খাওয়ার যেমন রয়েছে উপকারিতা ঠিক তেমনি রয়েছে ক্ষতিকর
দিক। আমারা আশা করি যে আজকে আমাদের এই তথ্য বহুল আলোচনা মনোযোগ সহকারে পড়লে আপনিও
ধারনা নিতে পারবেন যে আপনার জন্য করলার জুস পান নিরাপদ কিনা। তাই আপনি যদি
স্বাস্থ্য সচেতনার জন্য করলার জুস পান করতে চান তাহলে উপরে বিস্তারিত পড়ে পান করা
উচিৎ। কেননা যে জিনিস একজনের জন্য উপকারী সেই একই জিনিস অন্য জনের জন্য ক্ষতিকর
বলে বিবেচিত হতে পারে।
খালি পেটে করলার জুস পান করার উপকারিতা ও অপকারিতে জানার পর এতক্ষনে আপনি নিশ্চয়
বুঝতে পেরেছেন যে খালি পেটে করলার জুস পান করা আপনার জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা।
বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিস এর রোগী রয়েছেন তাদের জন্য খালি পেটে করলার জুস পান করা
হতে পারে সেরা একটি সিদ্ধান্ত। এছড়াও আমাদের দৈহিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য
করলার ভূমিকা অপরিসীম। যদিও সকলের জন্য করলার জুস পান করা উপকারী নয় তবুও করলার
জুস পান করার উপকারীতা অনেক যা বলে শেষ করা যাবে না।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url