২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ কত তারিখে জেনে নিন

০৭ জুন ২০২৫ রোজ শনিবার চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। যদি ঈদের চাঁদ ২৮ মে ২০২৫ না দেখা যায় তাহলে কোরবানির ঈদ ০৮ জুন ২০২৫ সালে হবে এবং চাঁদ যদি এক দিন আগে উঠে তাহলে কোরবানির ঈদ ০৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৫-সালের-কোরবানির-ঈদ-কত-তারিখ

ঈদুল আযহা চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে অনুষ্ঠিত হবে অর্থাৎ ঈদের চাঁদ ২৮ মে ২০২৫ না দেখা যায় তাহলে ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ জুন মাসের ৮ তারিখে হবে আর যদি ঈদের চাঁদ যদি ২৭ মে ২০২৫ এ উঠে তাহলে কোরবানির ঈদ ০৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। যা সম্পূর্ন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করবে।

সূচিপত্রঃ ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ কত তারিখ

২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ কত তারিখ

ঈদুল আযহা কোরবানির ঈদ এর তারিখ নির্ধারন করা হয় চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে তাই ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ কত তারিখ হবে নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে ধারনা করা হচ্ছে যে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ৩০ অথবা ৩১ মার্চ ২০২৫ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। সেই অনুযায়ী চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ০৭ জুন ২০২৫ রোজ শনিবার ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে।

কিন্তু ২৮ মে ২০২৫ তারিখের এক দিন আগে ঈদের চাঁদ উঠলে কোরবানির ঈদ ০৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। আর যদি  ঈদের চাঁদ ২৮ মে ২০২৫ না দেখা যায় তাহলে ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ জুন মাসের ০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। তাই কোরবানি ঈদ সঠিক কতো তারিখে অনুষ্ঠিত হবে তা নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে বলা যেতে পারে এবারের ঈদ উল আজহা জুন মাসের ০৬ অথবা ০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে।

আরোও পড়ুনঃ

২০২৫ সালের কোরবানি ঈদ কোন মাসে?

২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ বা ঈদ উল আজহা এবার জুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। জুন মাসে কোরবানি ঈদ বা ঈদ উল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে ০৬ জুন অথবা ০৮ জুন যা সম্পূর্ন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে নির্ধারন করা হবে। ইসলামিক ক্যালেন্ডারের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে কোরবানির ঈদ এক দিন আগে অথবা একদিন পরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। 

জুন মাসের আরবি (হিজরি) ক্যালেন্ডার

ইংরেজি তারিখ ও সন বার আরবি তারিখ আরবি মাস ও সন
১ জুন ২০২৫ রবিবার জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২ জুন ২০২৫ সোমবার জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
৩ জুন ২০২৫ মঙ্গলবার জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
৪ জুন ২০২৫ বুধবার জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
৫ জুন ২০২৫ বৃহস্পতিবার জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
৬ জুন ২০২৫ শুক্রবার জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
৭ জুন ২০২৫ শনিবার ১০ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
৮ জুন ২০২৫ রবিবার ১১ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
৯ জুন ২০২৫ সোমবার ১২ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১০ জুন ২০২৫ মঙ্গলবার ১৩ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১১ জুন ২০২৫ বুধবার ১৪ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১২ জুন ২০২৫ বৃহস্পতিবার ১৫ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১৩ জুন ২০২৫ শুক্রবার ১৬ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১৪ জুন ২০২৫ শনিবার ১৭ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১৫ জুন ২০২৫ রবিবার ১৮ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১৬ জুন ২০২৫ সোমবার ১৯ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১৭ জুন ২০২৫ মঙ্গলবার ২০ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১৮ জুন ২০২৫ বুধবার ২১ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
১৯ জুন ২০২৫ বৃহস্পতিবার ২২ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২০ জুন ২০২৫ শুক্রবার ২৩ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২১ জুন ২০২৫ শনিবার ২৪ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২২ জুন ২০২৫ রবিবার ২৫ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২৩ জুন ২০২৫ সোমবার ২৬ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২৪ জুন ২০২৫ মঙ্গলবার ২৭ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২৫ জুন ২০২৫ বুধবার ২৮ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২৬ জুন ২০২৫ বৃহস্পতিবার ২৯ জিলহজ্জ, ১৪৪৬ হিজরি
২৭ জুন ২০২৫ শুক্রবার মহাররম, ১৪৪৬ হিজরি
২৮ জুন ২০২৫ শনিবার মহাররম, ১৪৪৬ হিজরি
২৯ জুন ২০২৫ রবিবার মহাররম, ১৪৪৬ হিজরি
৩০ জুন ২০২৫ সোমবার মহাররম, ১৪৪৬ হিজরি

কোরবানি ঈদের তারিখ কিভাবে নির্ধারন করা হয়

ঈদুল আজহাকে অনেকে কোরবানি ঈদ বলে থাকে। ইসলামিক ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ি জিলহজ মাসের ১০ তারিখে কোরবানির ঈদ পালন করা হয়ে থাকে। যেহেতু ইসলামিক ক্যালেন্ডার চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে দিন ও তারিখ নির্ধারন করা হয় সেই কারনে ইসলামিক ক্যালেন্ডারে প্রতিটি উৎসবের দিন বা তারিখ এক অথবা দুই দিন আগে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেটি নিশ্চিত ভাবে আগে থেকে নির্ধারন করা যায় না।

চাঁদের ঘুর্নন গতির উপর নির্ভর করে আরবি মাসের ক্যালেন্ডার তৈরি করা হওয়ার কারনে প্রত্যেক আরবি মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। যদি জিলকদ মাসের ২৯ তারিখ সন্ধায় চাঁদ দেখা যায় তাহলে পরের দিন থেকে জিলহজ মাস শুরু হয় আর যদি চাঁদ দেখা না যায় তাহলে জিলকদ মাস পূর্ন হয়ে ৩০ দিনের হয় এবং এর পরবর্তী দিন থেকে জিলহজ মাসের শুরু হয়। জিলহজ মাস শুরু হলে তার পরের দশ দিন বা জিলহজ মাসের ১০ তারিখে কোরবানি ঈদ পালন করা হয়।

বেশ কয়েকটি দেশ সৌদি আরবের চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে কোরবানি ঈদ পালন করে থাকে। অর্থাৎ সৌদি আরবে যেদিন কোরবানি ঈদ পালন করা হয় তাদের পরের দিন বাংলাদেশ সহ বেশ কিছু দেশ ঈদ পালন করে থাকে। অর্থাৎ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান সহ অন্যান্য দেশ নিজেস্ব চাঁদ দেখার কমিটি দ্বারা ঈদের দিন নির্ধারন করে এবং সৌদি আরবের পরের দিন ঈদ পালন করে থাকে।

বর্তমান সময়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্যোতির্বিদ্যা ভিত্তিক ক্যালকুলেশন ব্যবহার করে চাঁদের অবস্থান আগে থেকেই জানা সম্ভব। কিন্তু ইসলামিক বিধান অনুযায়ী মানুষের চোখে চাঁদ দেখার মাধ্যমে ঈদ বা অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব পালন করা উচিত। ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের নামাজ শুধু মাত্র ১০ জিলহজ মাসে পালন করা যায় কিন্তু পশু কুরবানি জিলহজ মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখ পর্যন্ত করা যায়।

২০২৫ সালের কোরবানির ঈদের সম্ভাব্য তারিখ

  • চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে জিলহজ মাস শুরু হবে ২০২৫ সালের ২৭ অথবা ২৮ মে
  • যদি ২৭ মে ২০২৫ জিলহজ মাস শুরু হয় তাহলে ৬ জুন ২০২৫ রোজ শুক্রবার কোরবানি ঈদ হবে
  • চাঁদ দেখা যদি একদিন আগে অথবা পরে হয় তাহলে ০৭ জুন অবা ০৮ জুন ২০২৫ কোরবানি ঈদ অনুষ্ঠিত হবে।
  • সাময়িক ভাবে বলা যায় ২০২৫ সালে কোরবানি ঈদ ০৬ থেকে ০৮ জুনের মধ্যে পালন করা হবে। যা সম্পূর্ন চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করবে।

২০২৫ সালে ঈদুল আযহার সরকারি ছুটি কত দিন?

চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে এবারের কোরবানি ঈদ ০৬ থেকে ০৮ জুনের মধ্যে পালন করা হবে। সেই হিসেবে বাংলাদেশ সরকার ঈদুল আযহা বা কোরবানি ঈদের সর্বমোট ০৬ দিন ছুটি ঘোষনা করেছে। যা অন্য সকল কোরবানি ঈদের তুলনায় একটু বেশি। উক্ত ০৬ দিনের ছুটি সমূহ নির্বাহী আদেশে ছুটি ও ঈদুল আযহার দিন ছুটি সংযুক্ত করে তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে। নিচে ঈদুল আযহার ছুটির তালিকা দেওয়া হলো।
তারিখ বার ছুটির ধরন
০৫ জুন ২০২৫ বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি
০৬ জুন ২০২৫ শুক্রবার ঈদুল আযহার দিন (সাধারণ ছুটি)
০৭ জুন ২০২৫ শনিবার ঈদুল আযহার দিন (সাধারণ ছুটি)
০৮ জুন ২০২৫ রবিবার ঈদুল আযহার দিন (সাধারণ ছুটি)
০৯ জুন ২০২৫ সোমবার নির্বাহী আদেশে ছুটি
১০ জুন ২০২৫ মঙ্গলবার নির্বাহী আদেশে ছুটি

ঈদুল আযহার ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস

জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ছিলেন দীর্ঘদিন যাবত সন্তানহীন থাকার পর আল্লাহ তায়ালা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে একটি সন্তান দান করেন। তিনি ছিলেন হযরত ইসমাইল (আঃ)। একদিন মহান আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহিম (আঃ) কে সপ্নে দেখালেন তার একমাত্র ও প্রিয় পুত্র ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানি করতে। এটিই ছিলো মূলত আল্লাহ তায়ালার প্রতি হযরত ইব্রাহিম (আঃ) এর অনুগত্যের পরিক্ষা।

তখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ মোতাবেক ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেন। কিন্তু যখন তিনি ইসমাইল (আঃ) কে কোরবানির জন্য ছুরির আঘাত করেন ঠিন তখনই মহান আল্লাহ তায়ালার কুদরতে ইসমাইল (আঃ) এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি হয়ে যায়। মূলত এভাবে আল্লাহ তায়ালা ইব্রাহিম (আঃ) এর ইমানের পরিক্ষা নিয়েছিলেন যেটি তিনি সফল হন। 

উপরের দেওয়া ইতিহাসটি অতি সংক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা করে হয়েছে। প্রকৃত পক্ষে, কোরবানির ইতিহাস অনেক বড়। মূলত ইব্রাহিম (আঃ) এর ঘটনা থেকেই প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সামর্থবান প্রত্যেক মুসলমান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য পশু কুরবানি করে থাকে। ঈদুল আযহা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত এবং আল্লাহ তায়ালার প্রতি আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যে প্রকাশ করতে হবে।

কোরবানির পশু কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে

ঈদুল আযহা এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ন অংশ হচ্ছে পশু কুরবানি করা। তাই পশু করবানি করার জন্য আপনি যে পশুটি বাছায় করবেন সেটির কিছু দিক লক্ষ্য রাখতে হবে। কোরবানির পশুটি অবশ্যই সুস্থ, নির্দিষ্ট বয়সের এবং ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। আপনি যখন কোরবানির জন্য পশু কিনতে যাবেন তখন অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যে পশুটি কিনতে যাচ্ছেন তা যেন সুস্থ ও সবল হয়। রোগগ্রস্ত, দূর্বল বা অসুস্থ পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়। 

তাছাড়াও পশুর গায়ে চর্মরোগ, ঘা বা অতিরিক্ত পোকা থাকলে এই সকল পশু কোরবানির জন্য এড়িয়ে চলবেন। এছাড়াও যে বিষয় গুলো লক্ষ্য রাখবেন সেগুলো হলো পশু দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হচ্ছে কিনা, চোখ দিয়ে অতিরিক্ত পানি পড়ছে কিনা, পশুটি অতিরিক্ত দূর্বন কিনা ইত্যাদি বিষয় লক্ষ্য রেখে পশু নির্বাচন করতে হবে। মনে রাখবেন কোরবানির জন্য সব সময় সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম পশু গ্রহন যোগ্য। তাই রোগগ্রস্ত, দূর্বল বা অসুস্থ পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয়। 

পশু কোরবানির জন্য গরু, মহিষ ও উটের বয়স কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে এবং ছাগল ও ভেড়ার বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে। পশু কেনার পূর্বে সি পশুর দুইটি দাঁত উঠেছে কিনা তা পর্যবেক্ষন করতে হবে। তাছাড়াও সঠিক সাইজ ও গঠন দেখে পশু নির্বাচন করা ভালো। 

আমরা এখন জানবো যেসকল পশু কুরবানির জন্য জায়েজ নয় সেই সকল পশু সম্পর্কে। নিচে এমন কিছু পশুর বৈশিষ্ট দেওয়া হলো যেগুলো থাকলে তা কুরবানির জন্য জায়েজ হবে না। কানা, খোঁড়া বা খুব বেশি অসুস্থ পশু এবং কানের বড় অংশ কাটা বা জন্মগতভাবে কানে বড় সমস্যা থাকলে ইত্যাদি। কোরবানির জন্য আমাদের উতিচ হবে নির্ভরযোগ্য জাইগা থেকে প্রক্রিতিক ভাবে লালন পালন করা পশু ক্রয় করে তা আল্লাহর নামে কোরবানি করা।

কোরবানির মাংস বণ্টনের নিয়ম

ঈদুল আযহা এর একটি গুরুত্বপূর্ন অংশ হচ্ছে কোরবানির মাংস বণ্টনের নিয়ম। ইসলামের বিধান অনুযায়ী কোরবানির মাংস সমান তিন ভাগে ভাগ করতে হবে। উক্ত তিন ভাগ নিজের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও গরিব-মিসকিনদের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে। এই সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়ার ফলে আমাদের ভ্রাতৃত্ব, সহানুভূতি ও সাম্য একে উপরের প্রতি বৃদ্ধি পায়। 

 কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করার সুন্নতি নিয়ম হলোঃ
  • তিন ভাগের এক ভাগ নিজের পরিবারের জন্য রাখা
  • তিন ভাগের এক ভাগ আত্মীয়, প্রতিবেশী ও বন্ধুবান্ধবকে দেওয়া
  • তিন ভাগের এক ভাগ গরিব ও দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা
আল-কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "তোমরা সেখান থেকে আহার করো এবং অভাবগ্রস্ত ও দরিদ্রদের খাওয়াও।"-(সুরা আল-হাজ্জ, আয়াত ৩৬)

হাদিস থেকে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "তোমরা নিজে খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সংরক্ষণ কর।- (বুখারি, মুসলিম)

কোরবানির নিয়ম ও সুন্নত পদ্ধতি

কোরবানি হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ন ইবাদত যা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সুন্নত। তাই কোরবানি করার সঠিক নিয়ম ও পদ্ধতি আমাদের জানা উচিত। জিলহজ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখ পর্যন্ত কোরবানি করা যায়। এখন আমরা কোরবানি করার নিয়ম ও সুন্নত পদ্ধতি জানার আগে জানবো কোরবানি করার কিছু শর্ত সমূহ।
  • কোরবানি করার জন্য মুসলিম হতে হবে। আমুসলিম দের জন্য কোরবানি ফরজ নয়।
  • ৭.৫ ভরি সোনা অথবা ৫২.৫ ভরি রূপা বা সমপরিমান অর্থ যাদের আছে তাদের উপর কোরবানি ওয়াজিব।
  • জিলহজ মাসের ১০,১১ ও ১২ তারিখের কোরবানি করা।
  • কানা, খোঁড়া, খুবই রোগাক্রান্ত পশু কোরবানি করা জায়েজ নয়।
  • সুস্থ ও নির্দোষ পশু কোরবানি করতে হবে।
  • কোরবানির জন্য সঠিক নিয়ত করতে হবে।
  • আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করা।
  • মাংস খাওয়ার জন্য কোরবানি করলে তা কবুল হবে না।
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "কোরবানির দিন মানুষ যে আমল করে, তার মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো পশু জবাই করা।"-(তিরমিজিঃ ১৪৯৩)

কোরবানির পশুর ধরন ও বয়স

পশু নূন্যতম বয়স কয় জন মিলে কোরবানি করা যাবে
গরু অথবা মহিষ ২ বছর ৭ জন পর্যন্ত
উট ৫ বছর ৭ জন পর্যন্ত
ছাগল/ভেড়া/দুম্বা ১ বছর ১ জনের জন্য

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "কোরবানির জন্য দুই বছর বয়সী গরু এবং এক বছর বয়সী ছাগল কোরবানি কর।" (মুসলিমঃ ১৯৬৩)

এখন আমরা জানবো কোরবানি করার সুন্নত পদ্ধতি সম্পর্কে। কোরবানি করার সুন্নত পদ্ধতিকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করে আজকে আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করবো। সবার আগে আমরা জানবো কোরবানি করার আগের প্রস্তুতি সম্পর্কে। ১০ জিলহজের চাঁদ দেখার পর থেকে চুল, নখ ও দাড়ি না কাটার সুন্নত-(মুসলিমঃ ১৯৭৭) এছাড়াও পশু কেনার সময় সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত পশু কেনা এবং কোরবানির পশুর প্রতি যত্নশীল হওয়া ইত্যাদি।

এখন আমরা জানবো কোরবানির সময় করনীয়ঃ
  • নিজ হাতে কোরবানি করা ভালো।
  • নিজে না পারলে অপরকে দিয়ে কোরবানি করানো যাবে।
  •  পশুকে কিবলামুখী করে বাঁ পাশ শোয়ানো।
  • বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার-বলে পশু কোরবানি করা।
কোরবানির মাংস বণ্টনের নিয়মঃ কোরবানি করার পর মাংস তিন ভাগে ভাগ করা। উক্ত তিন ভাগের মধ্যে এক ভাগে নিজের পরিবারের জন্য রাখা। এক আভবে আত্নীয় সজনদের জন্য রাখা এবং শেষ এক ভাগ গরিব ও অসহায়দের মধ্যে দান করা।

কোরবানির পর আল্লাহ তায়ালার প্রতি শুক্রিয়া আদায় করতে হবে।  গরিব ও অসহায়দের সাথে সব সময় উত্তম আচরণ করতে হবে। কেননা কোরবানির মাধ্যমে ধনী ও গরীবদের মধ্যে সুসম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এছাড়াও আমাদের কোরবানির পর উক্ত স্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে রাখা। কোরবানি শুধু একটি উৎসব নয় বরং এটি আল্লাহর প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রতীক। তাই আমাদের দায়িত্ব অ কর্তব্য হবে সুন্নত মোতাবেক কোরবানি করা।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, "তোমাদের এই দিনে (ঈদুল আযহার দিন) কোরবানির চেয়ে প্রিয় কোনো আমল আল্লাহর কাছে নেই।" (তিরমিজিঃ ১৪৯৩)

ঈদুল আযহা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্নঃ কোরবানি করা কি ফরজ নাকি সুন্নত?
উত্তরঃ কোরবানি করা সুন্নতে মুআক্কাদা। (রেফারেন্স, ইবনে মাজাহঃ ৩১২৩)

প্রশ্নঃ ঈদের নামাজ কয় রাকাত ও কি?
উত্তরঃ ঈদুল আযহার নামাজ দুই রাকাত ওয়াজিব। ( রেফারেন্স, আবু দাউদ: ১১৩৫)

প্রশ্নঃ কোরবানির পশুর বয়স কত হতে হবে?
উত্তরঃ গরু ও মহিষ – কমপক্ষে ২ বছর, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা – কমপক্ষে ১ বছর, উট – কমপক্ষে ৫ বছর। (রেফারেন্স, মুসলিমঃ ১৯৬৩)

প্রশ্নঃ কোরবানির জন্য কোন ধরনের পশু জায়েজ?
উত্তরঃ উট, গরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল ও দুম্বা কোরবানি করা জায়েজ। (রেফারেন্স, সুরা হজ আয়াত ৩৬)

প্রশ্নঃ কোরবানির পশু কেমন ধরনের হওয়া উচিত নয়?
উত্তরঃ কানা, খোঁড়া, রোগাক্রান্ত ও খুব দুর্বল পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত নয় (রেফারেন্স, তিরমিজিঃ ১৪৯৭ )

প্রশ্নঃ কোরবানির মাংস কয় ভাগে ভাগ করতে হয়?
উত্তরঃ কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করা সুন্নত। (রেফারেন্স, সুরা হজ আয়াত ৩৬)

প্রশ্নঃ নিজের জন্য মাংস সংরক্ষণ করা যাবে কি? 
উত্তরঃ হ্যাঁ, নিজের জন্য মাংস সংরক্ষন করা যাবে। ( রেফারেন্স, বুখারি ও মুসলিম)

প্রশ্নঃ একাধিক পশু কোরবানি করা যাবে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ একাধিক পশু কোরবানি করা যাবে। ( রেফারেন্স, বুখারিঃ ৫৫৫৮, মুসলিমঃ ১৯৬৬, আবু দাউদঃ ২৭৯:)

প্রশ্নঃ যদি কেউ পুরো মাংস দান করতে চায়, তা কি জায়েজ?
উত্তরঃ চাইলে পুরো কোরবানির মাংস গরিবদের দান করা যায়, তবে নিজের জন্য কিছু রাখা সুন্নত।

প্রশ্নঃ কোরবানির মাংস বিক্রি করা যাবে কি?
উত্তরঃ কোরবানির মাংস বিক্রি করা সম্পূর্ণ হারাম। (রেফারেন্স, সুনানে নাসাঈঃ ৪৩৯, সহিহ বুখারিঃ ১৭১৭, মুসলিমঃ ১৩১৭)

পরিশেষে-২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ কত তারিখ

ঈদুল আযহা মুসল্মান্দের জন্য শুধু মাত্র কোনো আনন্দের উৎসব নয় বরং এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালার প্রতি আমরা আত্মসমর্পণ ও আনুগত্যে প্রকাশ করে থাকি। ঈদুল আযহা বা কোরবানি ঈদের মাধ্যমে ধনী ও গরীবের মধ্যে একটি সুন্দর সম্পর্ক সৃষ্ট হয়। আমাদের উচিত একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া। সেই সাথে কোরবানির ইতিহাস থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহন করে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, আনুগত্য দৃড় ভাবে স্থাপন করা।

আজকে আমরা উপরে ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ কত তারিখ হবে তার সকল সম্ভাব্য তারিখ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং সেই সাথে অতি সংক্ষেপে কোরবানির ইতিহাস ও তাৎপর্য আলোচনা করা হয়েছে। আমরা আশা করি যা উপরের দেওয়া আলোচনা মনোযোগ দিয়ে পড়লে আপনি ২০২৫ সালের কোরবানির ঈদ কত তারিখ হবে তার সঠিক ধারনা সহ কোরবানি ঈদের কিছু সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর পেয়ে যাবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url