মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা

মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম না জানলে আপনি বুঝতেই পারবেন না যে মরিঙ্গা পাউডারের কত উপকারিতা বিদ্যমান। মরিঙ্গা পাউডারকে বলা হয়ে থাকে এক প্রকারের সুপার ফুড। মরিঙ্গা পাউডারে বিশেষ করে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি পরিমানে থাকে তাই একে সুপার ফুড বলে।

মরিঙ্গা-পাউডার-খাওয়ার-নিয়ম

মরিঙ্গা পাউডার আমরা অনেকে নাম শুনেছি কিন্তু এর সাথে পরিচিত না। সজনে পাতার গুড়া শুকিয়ে গুঁড়া করলে যে উপাদান পাওয়া যায় তাকেই মূলত বলা হয় মরিঙ্গা পাউডার। মরিঙ্গা পাউডারে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারনে এটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি। তাই এটি খাওয়ার সঠিক নিয়ম জানতে হবে।

সূচিপত্রঃ মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা

মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম

মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম আমরা অনেকে জানি না। মরিঙ্গা পাউডার হচ্ছে একটি সুপার ফুড যার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টি গুনাগুন। তাই আমরা যদি এটি খাওয়ার সঠিক নিয়ম না জানি তাহলে এটি আমাদের জন্য উপকারী না হয়ে ক্ষতির কারনও হতে পারে। তাই এই আপডারটি সেবনের পূর্বে আমাদের অবশ্যই জানতে হবে এটি খাওয়ার সঠিক প্রক্রিয়া ও নিয়ম। তাই আজকে আমরা জানবো কিভাবে আমরা এই পাউডারটি খেতে পারি।

আপনি যদি এর আগে কোনো দিন মরিঙ্গা পাউডার বা এই জাতীয় কোনো কিছু সেবন না করে থাকেন তাহলে আপনার উচিত হবে শুরুর দিকে এটি অল্প পরিমান গ্রহন করা। এরপর যখন এটি যখন আপনার সহনীয় মাত্রায় পৌছে যাবে তখন আপনি পাউডারর পরিমান ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন। তবে নতুন অবস্থায় বেশি পরিমান গ্রহন করা মোটেও উচিত হবে না। কারন এতে আপনার শরীরবৃত্তিও নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে।

শুরু করার জন্য আপনি প্রতিদিন ১ থেকে ২ চা-চামচ অথবা ১ থেকে ২ গ্রাম বা এর কম পরিমান দিয়ে খাওয়া শুরু করবেন। প্রথম দিকে এর কম খাওয়াই ভালো কিন্তু এর বেশি খাওয়া উচিত হবে না। এর পর ধীরে ধীরে আপনি এর পরিমান বাড়াতে পারেন। মাঝামাঝি পর্যায় আপনি সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ চা-চামচ অথবা ৩ থেকে ৫ গ্রামের বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। আপনার যখন এটি সহনীয় পর্যায় চলে আসবে তখন আপনি এর পরিমান বাড়িয়ে ৩ থেকে ৪ চা-চামচ বা ৫ থেকে ৬ গ্রাম পাউডার প্রতিদিন সেবন করতে পারেন।

এটি খাওয়ার জন্য আপনি আপনার প্রতিদিনের খাবারের রুটিনে যোগ করতে পারেন। আপনার যদি বিশেষ কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া না থেকে থাকলে আপনি এটি প্রতিদিন নিশ্চিন্তভাবে খেতে পারবেন তাতে কোনো সমস্যা হবে না। নিচে কিছু মাধ্যম দেওয়া হলো যেগুলোর মাধ্যমে আপনি এই পাউডারটি সেবন করতে পারেন। তবে সেবনের পূর্বে লক্ষ্য রাখবেন যে নিচে দেওয়া খাবার গুলোর মধ্যে আপনার অসহনশীলতা বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে কিনা।

  • ঠান্ডা অথবা গরম পানির সাথে
  • গরম চায়ের সাথে
  • বিভিন্ন ফলের জুসের সাথে
  • দুধ বা দইয়ের সাথে
  • বিভিন্ন সালাদের সাথে ইত্যাদি।

মরিঙ্গা পাউডার কি

মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার আগে আমাদের জানা উচিত যে মরিঙ্গা পাউডারটা আসলে কি। মরিঙ্গা শব্দটি ভারত ভঙ্গের একটি রাজ্যের তামিল ভাষা থেকে মরিঙ্গা শব্দটি এসেছে। তামিল ভাষায় এটিকে বলা মুরুংগাই (முருங்கை) যার সাধারণ অর্থ হলো বাঁকানো বা বাঁকা। এই অর্থ থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে "মুরুংগাই" দ্বারা মরিঙ্গা গাছের ফলকে বোঝানো হয়েছে। পরবর্তিতে "মুরুংগাই" শব্দটি বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়ে মরিঙ্গা (Moringa) নামে রুপান্তর হয়েছে।
বর্তমানে মরিঙ্গার বিজ্ঞানসম্মত নাম হলো মরিঙ্গা ওলিফিরা (Moringa oleifera) মরিঙ্গার বাংলা নাম হচ্ছে সজনে বা সজনে গাছ। আর মরিঙ্গা পাউডার বলতে সজনে গাছের পাতার পাউডার বা চুর্নকে বোঝানো হয়েছে। সজনে গাছকে আবার বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় ডাকা হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে। রাজশাহী জেলার মানুষ জন একে ডাটা গাছে, নওগাঁ জেলার মানুষ জন একে সজনা বা স্যাদনা ও প্রায় সকল জেনার মানুষ মরিঙ্গাকে সজনে গাছে নামেই চিনে থাকে।

মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ার নিয়ম

মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার মতো মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ারও নিয়ম আছে। অতিরিক্ত মরিঙ্গা পাউডার যেমন আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর। ঠিক তেমনি পরিমান মত মরিঙ্গা ক্যাপসুল না খেলে সেটিও আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই আমাদের মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ার সঠিক নিয়ম ও সেই সাথে সঠিক পরিমান কতটুকু সে সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাই নিচে মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ার নিয়ম ও পরিমাপ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়া শুরু করার জন্য দৈনিক ডোজ বা প্রতিদিন ১ থেকে ২ টি ক্যাপসুল গ্রহন করতে পারেন। এর চাইতে বেশি খওয়া উচিত নয়। আপনার শরীর যদি এর চাইতে বেশি গ্রহন করতে পারে তাহলে আপনি ৩ থেকে ৪ টি ক্যাপসুল গ্রহন করতে পারেন। তবে শুরুর দিকে অল্প দিয়ে শুরু করা ভালো এবং পরবর্তিতে ডোজ এর প্ররিমান বাড়াতে পারেন। তবে কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শুরু করা উত্তম।

প্রতিদিন সকালে খাবার আগে অথবা পরে আপনি রিঙ্গা ক্যাপসুল গ্রহন করতে পারেন। তবে অধিকতর ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য খাবার আগে খেতে পারেন। তবে রিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমান পানি সেবন করতে হবে। তা না হলে রিঙ্গা ক্যাপসুল পাকস্থলির সঙে পরিপাক হতে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে একটি পরামর্শ থাকবে যে রিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়া শুরু করলে নিয়মিত খাওয়া। ফলে এটি আমাদের শরীর সহজে সহনশীল করতে পারবে এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার মাত্রা কমে যাবে।

দৈনিক যে পরিমান খাওয়া উচিত

মরিঙ্গা পাউডার  অথবা মরিঙ্গা ক্যাপসুল দৈনিক পরিমান মতো গ্রহন করা উচিত। কেননা কথায় আছে যে, প্রত্যেক জিনিস যতক্ষন পর্যন্ত উপকারি যতক্ষন পর্যন্ত সেই জিনিস পরিমান মতো গ্রহন করা হয়। তাই বুঝতেই পারছেন যে আমরা যদি দৈনিক পরিমান মতো মরিঙ্গা পাউডার গ্রহন না করি তাহলে সেটি আমাদের স্বাস্থ্যের উপকার করার চাইতে ক্ষতি করতে পারে। তাই আমাদের জানতে হবে দৈনিক যে পরিমান খাওয়া উচিত। আমরা উপরে ইতিমধ্যে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার পরিমান সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা আবারো সেই সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো।
মরিঙ্গা-পাউডার-খাওয়ার-নিয়ম
মরিঙ্গা পাউডার দৈনিক খাওয়ার পরিমানঃ শুরু করার জন্য আপনি প্রতিদিন ১ থেকে ২ চা-চামচ অথবা ১ থেকে ২ গ্রাম বা এর কম পরিমান দিয়ে খাওয়া শুরু করবেন। প্রথম দিকে এর কম খাওয়াই ভালো কিন্তু এর বেশি খাওয়া উচিত হবে না। এর পর ধীরে ধীরে আপনি এর পরিমান বাড়াতে পারেন। মাঝামাঝি পর্যায় আপনি সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ চা-চামচ অথবা ৩ থেকে ৫ গ্রামের বেশি খাওয়া ঠিক হবে না। আপনার যখন এটি সহনীয় পর্যায় চলে আসবে তখন আপনি এর পরিমান বাড়িয়ে ৩ থেকে ৪ চা-চামচ বা ৫ থেকে ৬ গ্রাম পাউডার প্রতিদিন সেবন করতে পারেন।

মরিঙ্গা ক্যাপসুল দৈনিক খাওয়ার পরিমানঃ মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়া শুরু করার জন্য দৈনিক ডোজ বা প্রতিদিন ১ থেকে ২ টি ক্যাপসুল গ্রহন করতে পারেন। এর চাইতে বেশি খওয়া উচিত নয়। আপনার শরীর যদি এর চাইতে বেশি গ্রহন করতে পারে তাহলে আপনি ৩ থেকে ৪ টি ক্যাপসুল গ্রহন করতে পারেন। তবে শুরুর দিকে অল্প দিয়ে শুরু করা ভালো এবং পরবর্তিতে ডোজ এর প্ররিমান বাড়াতে পারেন। তবে মরিঙ্গা পাউডার বা ক্যাপসুল খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শুরু করা উত্তম।

মরিঙ্গা পাউডার কখন খেতে হয়

মরিঙ্গা পাউডার কখন খেতে হয় এটি নির্ভর করবে আপনার উপরে। আপনি যেকোনো সময় এটি গ্রহন করতে পারেন আপনার দৈনন্দিন জীবনের রুটিন অনুযায়ী। পরিমান মতো সেবন করলে আপনি যেই সময়ই এটি খান না কেন আপনার স্বাস্থ্যের জন্য এটি উপকারী হিসেবে কাজ করবে। তবে আপনি যখনই মরিঙ্গা পাউডার খান না কেন আপনাকে একটি নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে। তাই নিচে এটি খাওয়ার জন্য কিছু উপযুক্ত সময় নিচে দেওয়া হলো।
  •  সকালে খালি পেটে বা খাবার পরে
  • সকালে খাবারের সাথে। যেমনঃ সালাত বা পানীয় এর সঙ্গে
  • দুপুরের খাবার পর
  • ব্যায়াম করার আগে অথবা পরে
  • রাতে খাবার পর অথবা ঘুমানোর আগে

মরিঙ্গা পাউডার উপকারিতা

মরিঙ্গা পাউডারকে বলা হয়ে থাকে সুপার ফুড। যাতে রয়েছে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। মরিঙ্গা পাউডার নিয়মিত সেবনের ফলে আমাদের শরীরের বিভিন্ন সমস্যা ও রোগের প্রতিকার হিসেবে কাজ করে। তাছাড়াও যারা রোগা বা চিকন মানুষ তাদের জন্য মরিঙ্গা পাউডার হতে পারে এক অনন্য সমাধান। কেননা মরিঙ্গা পাউডারে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রোগা বা পাতলা শরীরকে সারিয়ে স্বাস্থ্যবান ও ফিট শরীর গঠনে সাহায্য করে থাকে।
মরিঙ্গা পাউডারের পুষ্টিগুনের শেষ নেই। আমরা আগে থেকেই জেনেছি যে মরিঙ্গা পাউডারে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এখন আমরা এইসকল উপাদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো। মরিঙ্গা পাউডার বহুল মাত্রায় পুষ্টি গুনাগুন সমৃদ্ধ। এর পুষ্টগুন বলে শেষ করা যাবে না, তাই তো এর নাম দেওয়া হয়েছে সুপার ফুড। এখন আমরা সংক্ষেপে এই পুষ্টিগুন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো।
  • প্রটিন সমৃদ্ধ
  • ভিটামিন সি
  • ভিটামিন এ
  • ভিটামিন ই
  • ক্যালসিয়াম
  • আয়রন
  • পটাশিয়াম
  • অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে
  • অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি
  •  অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ইত্যাদি
উপরের সকল উপাদান একসঙ্গে থাকে মরিঙ্গা পাউডারে। এই সকল পুষ্টিগুনাগুন একত্রে থাকার কারনেই এর নাম দেওয়া হয়েছে সুপার ফুড বা সুপার হার্ব। এখানে হার্ব বলতে ভেষজ উদ্ভিদকে বোঝানো হয়েছে। উপরের উপাদান সমূহ আমাদের শরীর বৃত্তিও অনেক কাজে সহায়তা করে থাকে। এখন আমরা সংক্ষেপে মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো।

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ মরিঙ্গা পাউডারে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে শরীরে থাকা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ধংশ করে এবং এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের  ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  • দীর্ঘস্থায়ী অসুখের ঝুঁকি কমায়ঃ এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে বিশেষ করে ফ্ল্যাভোনয়েড আমাদের শরীরের বিভিন্ন কোষ গুলো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং কোষ গুলো ধংশকারী জীবানু বা ব্যাকটেরিয়া ধংশ করে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অসুখের ঝুঁকি কমায়।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়ঃ আমাদের শরীরে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রন করে এবং সেই সাথে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে থাকে। যার ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক অংশে কমাতে সাহায্য করে থাকে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ মরিঙ্গা পাউডার রক্তের শরকরা  শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সেই সাথ ইনসুলিনের সহনশীলতা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে থাকে।
  • হজমে সাহায্য করেঃ মরিঙ্গা পাউডারে প্রচুর পরিমান আঁশ থাকে। এই আঁশের কারনে পাচনপক্রিয়া সবল হয় এবং হজম প্রক্রিয়াতে সাহায্য করে থাকে। সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্য ও বদহজমের মতো সমস্যা দূর করে থাকে।
  • রক্তশল্পতা দূর করেঃ মরিঙ্গা পাউডারে প্রচুর পরিমানের আয়রন থাকার কারনে রক্তের আয়রনের ঘটতির পরিমান পূরন করে। আমরা জানি রক্তশল্পতা সাধারণত আয়রনের কমতির কারনে হয়ে থাকে। নিয়মিত মরিঙ্গা পাউডার সেবনে আয়রনের ঘাটতি পূরন হয়ে রক্তশল্পতা দূর করে।
  • ত্বক ও চুলের যত্নেঃ মরিঙ্গা পাউডার নিয়মিত সেবনের ফলে শরীরের ভিটামিনের ঘাটতি পূরন হয়। যার ফলে ত্বক মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান হয় এবং সেই সাথে চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে। মরিঙ্গাতে থাকা ভিটামিন সি, অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ইত্যাদি ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে থাকে।
তাছাড়াও মরিঙ্গা পাউডার নিয়মিত ও পরিমান মত সেবনের ফলে অনেক উপকারিতা রয়েছে যেগুলো বলে শেষ করা যাবে না। আপনি যদি একজন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ হয়ে থাকেন। তাহলে আপনার দৈনিক খাদ্য তালিকায় মরিঙ্গা পাউডার রাখা অনেক জরুরী। কেননা মরিঙ্গা পাউডারে থাকা ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহের মাত্রা অনেক বেশি পরিমানে থাকে যা একত্রে আর অন্য কোনো খাদ্যে থাকেনা।

মরিঙ্গা পাউডার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

মরিঙ্গা পাউডার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সাধারনত পরিমান মতো গ্রহন করলে হয় না। কিন্তু অনেকের মরিঙ্গা পাউডারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সেই ক্ষেত্রে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে উচিত হবে মরিঙ্গা পাউডার সেবন করা থেকে বিরত থাকা অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করা। মরিঙ্গা পওডার সেবনের কিছু পার্শ প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো। যেগুলো দেখা দিলে আপনিও মরিঙ্গা পাউডার সেবন থেকে বিরত থাকবেন।
  • পেটে ব্যথা বা গ্যাসের সমস্যা
  • ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা হওয়া
  • শরীরে অ্যালার্জিক সমস্যা বা চুলকানি দেখা দেওয়া
  • রক্তে শর্করা অতিরিক্ত মাত্রায় কমে যাওয়া
  • ব্রনের সমস্যা দেখা দেওয়া
  • ঘুম না হওয়া ইত্যাদি
উপরের দেওয়া লক্ষন গুলো যদি দেখেন মরিঙ্গা পাউডার সেবনের ফলে হচ্ছে তাহলে সাথে সাথে মরিঙ্গা পাউডার সেবন করা থেকে বিরত থাকুন এবং আপনার যদি একান্তই তা সেবনের প্রয়োজন পড়ে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবন করুন। তাছাড়াও আপনি যদি বিশেষ কোনো ঔষুধ সেবন করে থাকেন যেমন ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, অ্যান্টি-ব্যায়োটিক ইত্যাদি ঔষুধের জন্যও মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মরিঙ্গা ট্যাবলেট এর কাজ কি

মরিঙ্গা ট্যাবলেট এর কাজ ও মরিঙ্গা পাউডারের কাজ একই। অনেকের পাউডার আকারে মরিঙ্গা সেবন করতে পছন্দ করে না তাদের জন্য বিকল্প হিসেবে মরিঙ্গা ট্যাবলেট সেবন করতে পারেন। যদিও অনেকে ভেবে থাকেন যে মরিঙ্গাকে পাউডার বা ট্যাবলেট আকার দিতে গেলে মরিঙ্গার গুনগত মান নষ্ট হয় তাদের ধারনাটি সম্পূর্ন ভুল। মরিঙ্গা বা সজনে পাতাকে পাউডার বা ট্যাবলেট আকারে গ্রহন করলে এর পুষ্টিগুন বা গুনগত মান নষ্ট হয়না।

তাই বুঝতেই পারছেন যে মরিঙ্গা পাউডার ও পরিঙ্গা ট্যাবলেটের কাজ একই। তাই আপনি যদি মরিঙ্গা ট্যাবলেটের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান তাহলে উপরে দেওয়া মরিঙ্গা পাউডারের উপকারিতা অংশটি পড়ে আসতে পারেন। মরিঙ্গা পাউডারের উপকারিতা সেই সাথে মরিঙ্গা পাউডার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অংশটি পড়লেই মরিঙ্গা ট্যাবলেট এর কাজ কি এবং এর পার্শ প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারবেন।

মরিঙ্গা পাউডার দাম

মরিঙ্গা পাউডার দাম বিভিন্ন জায়গাই বিভিন্ন রকম হতে পারে। যেমন আপনি যদি লোকাল কোনো দোকান থেকে কিনেন তাহলে অনেক কম দামে  কিনতে পারবেন। আবার আপনি যদি কোনো বড় স্টোর থেকে কিনেন তাহলে অপেক্ষাকৃত দাম অনেক বেশি লাগবে। আবার আরেকটি সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশের সকল জায়গা বা দোকানে মরিঙ্গা পাউডার পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি অনলাইন থেকে ক্রয় করেন তাহলে আপনি একেক জায়গাই বিভিন্ন দাম লক্ষ্য করবেন।
সাধারণত অপেক্ষাকৃত কম দামি ব্রান্ড বা অনলাইন থেকে যদি ২৫০ গ্রাম মরিঙ্গা পাউডার কিনতে গেলে আপনার খরচ পড়বে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। আর আপনি যদি ভালো প্যাকেজিং, ব্রান্ড ও গুনগত মানসম্মত অর্গানিক মরিঙ্গা পাউডার কিনতে গেলে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগতে পারে। তবে সব সময় আপনি ভালো ব্রান্ড বা অর্গানিক মরিঙ্গা পাউডার কেনার চেষ্টা করবেন। কারন এর গুনগত মান ভালো হয় সেই সাথে ভালো প্রডাক্ট পাওয়া যায়।
প্রোডাক্ট পরিমান দাম
সাধারণ পাউডার ২৫০ গ্রাম ২০০-৫০০ টাকা
অর্গানিক মরিঙ্গা পাউডার ২৫০ গ্রাম ৫০০-৮০০ টাকা

মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করার নিয়ম

অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ রয়েছে যারা স্বাস্থ্য নিয়ে অনেক সচেতন অথবা অনলাইনের জিনিস পত্র বা প্রোডাক্ট পছন্দ করেন না। ঠিক এই কারনে তারা অনলাইন থেকে মরিঙ্গা পাউডার অর্ডার করেন না। যার ফলে তারা মরিঙ্গা পাউডার এর পুষ্টিগুন থেকে বিরত থাকছেন। তাই আজকের এই টপিক'স এ আমরা জানবো আপনি খরচ ছাড়াই কিভাবে ঘরে বসে মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করবেন। তাই আসুন জানি মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করার নিয়ম।
মরিঙ্গা-পাউডার-খাওয়ার-নিয়ম
  • প্রথমে তাজা সজনে পাতা গাছ থেকে সংগ্রহ করতে হবে
  • পানিতে ভালোভাবে পাতাগুলো পরিষ্কার করে নিতে হবে
  • পরিষ্কার পাতা গুলো রোদে শুকিয়ে নিতে হবে
  • লক্ষ্য রাখতে হবে যেন ময়লা বা অপরিষ্কার না হয়
  • শুকনো পাতা গুলো ব্লেন্ডারে গুড়ো করে নিতে হবে
উপরের দেওয়া পক্রিয়া ব্যাবহার করে আপনিও খুব সহজেই ঘরে বসে খরচ ছাড়াই মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করে নিতে পারবেন। সেই সাথে তৈরি করা মরিঙ্গা পাউডার একটি কাঁচের জারে বা ফুড সার্টিফাইড প্লাস্টিকের জারে তৈরি করা মরিঙ্গা পাউডার অনেক দিন যাবত সংরক্ষন করতে পারবেন। তাছাড়াও আপনি উপরের দেওয়া পদ্ধতি ব্যাবহার করে মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করে তা অনলাইনে বিক্রিও করতে পারেন।

মরিঙ্গা পাউডার সম্পর্কে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উওর

প্রশ্নঃ মরিঙ্গা পাউডার খেলে কি লম্বা হয় ?
উত্তরঃ মানুষের লম্বা হওয়া নির্ভর করে DNA বা জিনের উপর নির্ভর করে তবে মরিঙ্গা পাউডার সেবনে শরীরের পুষ্টি ঘাটতি পূরন করে উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

প্রশ্নঃ মরিঙ্গা পাউডার কোথায় পাওয়া যায়
উত্তরঃ মরিঙ্গা পাউডার আপনি অনলাইন স্টোর থেকে ক্রয় করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন সুপার মার্কেটেও মরিঙ্গা পাউডার পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ মরিঙ্গা পাউডার কখন খেতে হয়?
উত্তরঃ মরিঙ্গা পাউডার আপনি সকালে খাবার আগে অথবা পরে, দুপুরে খাবার পর, বিকালে, রাতে খাবার পর বা ঘুমানোর আগে ইত্যাদি সময় খেতে পারেন। এ সম্পর্কে উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আপনি চাইলে তা পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ার নিয়ম
উত্তরঃ মরিঙ্গা পাউডার ও মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ার নিয়ম একই। মরিঙ্গা ক্যাপসুল খাওয়ার নিয়ম উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আপনি চাইলে সেটি পড়তে পারেন।

প্রশ্নঃ মরিঙ্গা পাউডার ত্বকের জন্য উপকারী
উত্তরঃ নিয়মিত মরিঙ্গা পাউডার সেবনের ফলে ত্বক মসৃণ ও স্বাস্থ্যবান হয় এবং সেই সাথে চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

প্রশ্নঃ মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করার নিয়ম
উত্তরঃ সজনে পতা শুকিয়ে ব্লেন্ডারে গুড়ো করে খুব সহজেই মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করতে পারবেন। মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করার বিস্তারিত আলোচনা উপরে করা হয়েছে। আপনি চাইলে সেটি পড়ে সহজেই মরিঙ্গা পাউডার তৈরি করে নিতে পারেন।

প্রশ্নঃ মরিঙ্গা পাউডার দাম
উত্তরঃ সাধারণ ভালো মানের মরিঙ্গা পাউডার অনলাইন থেকে কিনতে হলে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগতে পারে। কোনো সময় এর চাইতে কম অথবা বেশি টাকাও লাগতে পারে।

পরিশেষে-মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম

মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম মেনে নিয়মিত মরিঙ্গা পউডার সেবনের ফলে আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী একটি খাদ্য হতে পারে। কারন মরিঙ্গা পাউডার হচ্ছে একটি সুপার ফুড বা সুপার হার্ভ হিসবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বিশেষ করে এর ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুনাগুন থাকার কারনে। তাই বুঝতেই পারছেন নিয়মিত ও পরিমান মতো মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার উপকারিতা অনেক।
প্রকৃতিতে পাওয়া সকল জিনিসের উপকারিতা যেমন রয়েছে ঠিক তেমনি তার রয়েছে ক্ষতিকর দিক।মরিঙ্গা পাউডারও তার ব্যাতিক্রমি নয়। 

আপনি যদি নিয়ম না মেনে মরিঙ্গা পাউডার ব্যাবহার করেন তাহলে আপনার উপকার না হয়ে ক্ষতিই হবে। মরিঙ্গা পাউডার থেকে উপকার পেতে হলে অবশ্যই আপনাকে নিয়ম মেনে ও পরিমান মতো তা সেবন করতে হবে। আর আপনার যদি মরিঙ্গাতে পার্শ প্রতিকৃয়া থেকে থাকে তাহলে তা সেবনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। আশা করি আমাদের এই আর্টিকেল পড়লে আপনি মরিঙ্গা পাউডার খাওয়ার নিয়ম, উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত সকল বিষয় জানতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url