ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেরা ৫টি ফেসওয়াশ
ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো এটি জানা অনেক গুরুত্বপূর্ন একটি
কাজ। তৈলাক্তক ত্বকের জন্য মুখে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা
দিতে পারে। আজকে আমরা এমন ৫টি ফেসওয়াশ সম্পর্কে জানবো যা ব্যাবহারে
মুখের তৈলাক্ত ভাব দূর করবে।
ছেলেদের ত্বকে তেলতেলে ভাব একটি সাধারণ বিষয়। কিন্তু ত্বকের এই
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব নিয়ন্ত্রন করতে না পারলে মুখে ব্রণ,
ব্ল্যাকহেডস এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা দেয়। যে দেখতে খারাপ লাগার পাশাপাশি
কনফিডেন্সের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।
সূচিপত্রঃ ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
- ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
- ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেরা ৫টি ফেসওয়াশ
- ছেলেদের ব্রণের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
- ছেলেদের জন্য কোন ফেস ওয়াশ ভালো
- তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা ও সমাধান
- ছেলেদের ফেসওয়াশ এর দাম কত
- ফেসওয়াশ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও ত্বকের যত্ন টিপস
- পরিশেষে - ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো এই বিষয় প্রত্যেক ছেলেদের
জানা প্রয়োজন।ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ফেসওয়াশ ব্যাবহার করা অনেক
গুরুত্বপূর্ন একটি কাজ। বাজারে তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অনেক ফেসওয়াশ
রয়েছে। কিন্তু সেই সকল ফেসওয়াশ কার্যকরী নাও হতে পারে। ফেসওয়াশে এমন কিছু
উপাদান থাকতে হবে যেগুলো থাকলে ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বক ভালোভাবে
পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ত্বক থেকে তেল দূর করতে সাহায্য করবে। উক্ত উপাদান
গুলো ফেসওয়াশে থাকলে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ, ব্রণ প্রতিরোধ এবং ত্বককে
পরিষ্কার ও সতেজ রাখেতে সাহায্য করবে।
আরোও পড়ুনঃ ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
সালিসিলিক অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, চারকোল, নিম, টি ট্রি অয়েল, এবং
হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ফেসওয়াশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। কারন এই
সকল উপাদান মুখের গভীরে জমে থাকা তেল, ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করতে
সাহায্য করে যার ফলে ত্বক স্বাস্থ্যকর ও ব্রণমুক্ত থাকে। মেয়েদের তুলনায়
ছেলেদের ত্বক কমল না হওয়ার কারনে আমাদের অবশ্যই ফেসওয়াশ কেনার সময় উপরের
দেওয়া উপাদান গুলো দেখে ফেসওয়াশ ক্রয় করতে হবে। এখন আমরা উপরের উপাদান যুক্ত
কিছু ফেসওয়াশ সম্পর্কে জানবো যেগুলো বাংলাদেশে খুব সহজে পাওয়া যায়।
ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেরা ৫টি ফেসওয়াশ
ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এমন ফেসওয়াশ নিতে হবে যাতে সালিসিলিক
অ্যাসিড, নিয়াসিনামাইড, চারকোল, নিম, টি ট্রি অয়েল, এবং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড
এর মতো উপাদান সমূহ থাকে। এখন আমরা উক্ত উপাদান যুক্ত কিছু ফেসওয়াশ সম্পর্কে
জানবো যা আপনি আপনার মুখে ব্যাবহার করে অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ, ব্রণ
প্রতিরোধ এবং ত্বককে পরিষ্কার ও সতেজ রাখেতে সাহায্য করবে। এমন ৫টি ফেসওয়াশ
হচ্ছেঃ
নিউট্রোজিনা ম্যান স্কিন ক্লিয়ারিং অ্যাকনে ওয়াশ
এই ফেসওয়াশটির মূল উপাদান হচ্ছে ২% স্যালিসিলিক
অ্যাসিড। স্যালিসিলিক অ্যাসিড মূলত কের গভীরে প্রবেশ করে ব্রণ দূর
করে থাকে এবং নতুন ভাবে ব্রণ তৈরি করা বাধা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও এই
ফেসওয়াশের অন্যতম ভালো গুন হচ্ছে এটি ত্বকের ব্রণ দূর করার পাশাপাশি ত্বকের
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে থাকে। তবে এই
ফেসওয়াশটি খুঁজে পাওয়া খুবই মুসকিল কাজ। আপনি চাইলে দারাজ থেকে ফেসওয়াশটি
ক্রয় করতে পারেন। তবে পণ্যটি আসল কিনা যাচাই করতে ভুলবেন না।
হিমালয়া ম্যান অ্যাকনে ক্লিয়ার নিম ফেসওয়াশ
হিমালয়া ম্যান অ্যাকনে ক্লিয়ার নিম ফেসওয়াশ বিশেষ করে ছেলেদের জন্য তৈরি
করা হয়েছে। এই ফেসওয়াশটিতে নিম এবং প্রাকৃতিক স্যালিসিলিক অ্যাসিডের
মতো উপাদান রয়েছে যা তৈলাক্ত ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করে এবং ত্বক থেকে
ব্রণ সরাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে এই ফেসওয়াশে
থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক উপাদান সমূহ ত্বকের ব্রণ
দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
নিভিয়া ম্যান অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ
নিভিয়া ম্যান অয়েল কন্ট্রোল ফেস ওয়াশে থাকা অ্যাক্টিভ চারকোল উপাদান
ত্বকের গভিরে থাকা অতিরিক্ত তেল বের করতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই ফেসওয়াশের
বিশেষ কিছু উপাদান যেমনঃ সলিসিলিক অ্যাসিড ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে
ব্ল্যাকহেডস এবং ব্রণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে এবং এতে
থাকা গ্লিসারিন ত্বককে হাইড্রেটেড এবং নরম রাখতে সহায়তা
করে। ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এটি একটি কার্যকারী ফেসওয়াশ।
ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার ফোমিং ফেসওয়াশ
ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার ফোমিং ফেসওয়াশে থাকা সলিসিলিক অ্যাসিড ও চারকোল
উপাদান সমূহ ত্বকে থাকা ময়লা ও তেলতেলে ভাব দূর করে এবং ত্বকের গভীরে থাকা
ব্ল্যাকহেডস এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এই ফেসওয়াশটিতে
থাকা গ্লিসারিন ত্বককে হাইড্রেটেড এবং নরম রাখতে সহায়তা করে। তৈলাক্ত
ত্বকের জন্য জন্য এই ফেসওয়াশটি খুবই কার্যকর। বিশেষ করে করে যদি প্রশ্ন
আসে ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো? তাহলে
এই ফেসওয়াশ এর নাম সবার উপরের তালিকা গুলোতে থাকতে পারে।
লরিয়াল মেন অ্যান্টি ইমপারফেকশন ফেসওয়াশ
লরিয়াল মেন অ্যান্টি ইমপারফেকশন ফেসওয়াশে থাকা সলিসিলিক অ্যাসিড
ত্বকের গভিরে প্রবেশ করে ত্বকের মৃত কোষ রিমুভ করতে সাহায্য করে এবং ত্বকে
থাকা ব্লাকহেডস ও ব্রণ দূর করে থাকে। এছাড়াও এতে
থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমূহ ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে
থাকে। এই ফেসওয়াশটি অ্যালকোহল ফ্রি হওয়ার কারনে ত্বকের কোনো ক্ষতি করে না।
নিয়মিত লরিয়াল মেন অ্যান্টি ইমপারফেকশন ফেসওয়াশ ব্যাবহারে ছেলেদের
ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার পাশাপাশি ত্বক থেকে ব্রণ দূর করে ত্বককে
মসৃন ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে।
ছেলেদের ব্রণের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
ছেলেদের ব্রণের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো এটি জানার আগে আমাদের জানতে হবে
আমাদের ত্বকে ব্রণ কেন হয়। আমাদের ত্বকে বিভিন্ন কারনে ব্রণ হয়ে থাকে তার
মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি নামক একটি গ্রন্থি আমাদের
ত্বকে সিবাম নামক একধরনের তেল উৎপন্ন করে। মূলত এই তেলের কারনেই আমাদের ত্বক
উজ্জ্বল ও মসৃন থাকে। যখন এই সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল
উৎপন্ন হয় তখন সেই অতিরিক্ত তেল আমাদের ত্বকের গ্রন্থিতে আটকে যায় এবং
ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবের ফলে ব্রণ ও ব্লাকহেডের মতো বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়।
তাই আপনি যদি একজন ছেলে মানুষ হন এবং আপনি যদি চান আপনার ত্বকের ব্রণ ও
অতিরিক্ত তৈলাক্তক ভাব থেকে মুক্তি পেতে তাহলে আপনাকে অবশ্যই ভালো মানের
ফেসওয়াশ ব্যাবহার করতে হবে। ভালো মান বলতে শুধু দামি ফেসওয়াশকে বোঝানো হয় না
বরং আপনার ফেসওয়াশে এমন ধরনের উপাদান থাকতে হবে যার নিয়মিত ব্যাবহারের ফলে
আপনার ত্বকের ব্রণ সহ অন্যান্য সকল সমস্যা সমাধান হবে। এখন আমরা জানবো কোন
ধরনের ফেসওয়াশের উপাদান ত্বকের ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
স্যালিসিলিক অ্যাসিড যুক্ত ফেসওয়াশ ত্বকের ব্রণ সমাতে সাহায্য করার
পাশাপাশি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করে
ত্বকের ব্ল্যাকহেড ও হোয়াইটহেড কমাতে সাহায্য করে থাকে।
এছাড়াও বেনজয়েল পারক্সাইড, টি-ট্রি
অয়েল, চারকোল, গ্লাইকোলিক অ্যাসিড ইত্যাদি উপাদান যুক্ত ফেসওয়াশ
ত্বকের ব্রণ, কালোদাগ, অতিরিক্ত তেল, ব্ল্যাকহেড ও হোয়াইটহেড
ইত্যাদি ত্বকের সমস্যা দূর করতে অনেক কার্যকরী। তাই আপনি যদি ব্রণের
জন্য ভালো ফেসওয়াশ ব্যাবহার করতে চান তাহলীই উপাদান যুক্ত ফেসওয়াশ ব্যাবহার
করতে পারবেন।
ছেলেদের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
ছেলেদের ত্বকের ধরন অনুযায়ী একেক জনের কাছে একেক ধরনের ফেসওয়াশ ভালো। এখন
আপনার ত্বক যদি তৈলাক্তক হয় তাহলে আপনাকে এক ধরনের ফেসওয়াশ ব্যাবহার করতে হবে
আর আপনার ত্বক যদি শুষ্ক প্রক্রিতির হয় তাহলে আরেক রকম ফেসওয়াশ ব্যাবহার করতে
হবে। সাধারনত প্রত্যেক মানুষের ত্বকের ধরন আলাদা আলাদা হয়ে থাকে। ত্বকের ধরন
অনুযায়ী ফেসওয়াশও আলাদা আলাদা ব্যাবহার করতে হয়।
সাধারনত মানুষের ত্বকের ধরন ৫ ধরনের হয়ে থাকে। যেমনঃ স্বাভাবিক
ত্বক, তৈলাক্ত ত্বক, শুষ্ক ত্বক, সংবেদনশীল
ত্বক, মিশ্র ত্বক। এই ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশও আলাদা ব্যাবহার করতে
হয়। উদাহরন সরুপ আপনার ত্বক যদি তৈলাক্ত হয় তাহলে আপনাকে এমন ফেসওয়াশ
ব্যাবহার করতে হবে যাতে আপনার ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল দূর হয়। এখন আপনি যদি
অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব দূর করার ফেসওয়াশ ব্যাবহার না করে শুষ্ক ত্বকের জন্য
ফেসওয়াশ ব্যাবহার করেন তাহলে আপনার ত্বকের মারাত্নক ক্ষতি হতে পারে। তাই এখন
আমরা ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ সম্পর্কে জানবো।
স্বাভাবিক ত্বকঃ স্বাভাবিক ত্বককে বলা হয় আদর্শ ত্বক। কারন এই ধরনের
ত্বকে পরিমান মতো তেল উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ খুব বেশি না আবার খুব কমও না। এর
কারনে সাধারণ ত্বকে অন্যান্য ত্বকের চাইতে কম ব্রণ অথবা ত্বক জনিত সমস্যা
দেখা যায়। এখন আমরা স্বাভাবিক ত্বকের জন্য সেরা কিছু ফেসওয়াশ সস্পর্কে
জানবো।
- সেরাভি হাইড্রেটিং ফেসিয়াল ক্লিনজার।
- নিউট্রোজেনা হাইড্রো বুস্ট ওয়াটার জেল ক্লিনজার।
- দ্য বডি শপ ভিটামিন ই জেন্টল ফেসিয়াল ওয়াশ।
- সিম্পল কাইন্ড টু স্কিন রিফ্রেশিং ফেসিয়াল ওয়াশ।
- লা রোশ-পজে টলারিয়ান হাইড্রেটিং।
তৈলাক্ত ত্বকঃ স্বাভাবিক ত্বকের চাইতে তৈলাক্তক ত্বক সম্পূর্ন আলাদা
প্রকৃতির হয়ে থাকে। কারন এই ধরনের ত্বকে স্বাভাবিকের চাইতে অতিরিক্ত তেল
উৎপন্ন করে থাকে। যার ফলে ত্বকে নানান ধরনের সমস্যা দেখা যায়। বিশেষ করে এই
ধরনের ত্বকে ব্রণ, ব্লাকহেড, হোয়াইটহেড ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়
এবং মুখে সবসময় চকচকে ভাব থাকে যার ফলে ত্বক দেখতেও খুবই খারাপ
লাগে। এখন আমরা তৈলাক্তক ত্বকের জন্য সেরা কিছু ফেসওয়াশ সস্পর্কে
জানবো।
- নিউট্রোজিনা ম্যান স্কিন ক্লিয়ারিং অ্যাকনে ওয়াশ।
- হিমালয়া ম্যান অ্যাকনে ক্লিয়ার নিম ফেসওয়াশ।
- নিভিয়া ম্যান অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ।
- ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার ফোমিং ফেসওয়াশ।
- লরিয়াল মেন অ্যান্টি ইমপারফেকশন ফেসওয়াশ।
শুষ্ক ত্বকঃ শুষ্ক ত্বক সব সময় রুক্ষ ও খসখসে স্বভাবের হয়ে
থাকে। এছাড়াও এই ধরনের ত্বক সব সময় টান হয়ে থাকে যা একটি বিরক্তিকর
অনুভুতির কারন হয়ে দাঁড়ায়। ত্বক টানটান হওয়ার পাশাপাশি চুলকানির মতো
সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই শুষ্ক ত্বকে হালকা কিছুর প্রভাইবেই ত্বকের
নানা সমস্যা দেখা দেয়। যেমনঃ ব্রণ, লালচে ভাব, ত্বকে চুলকানি ইত্যাদি।
বিশেষ করে গ্রিষ্মকাল ও শীতকালে শুষ্ক ত্বকের মানুষ অসস্তিতে ভুগেন।
এখন আমরা শুষ্ক ত্বকের জন্য কিছু ফেসওয়াশ সম্পর্কে জানবো।
- ডাভ বিউটি ময়েশ্চার ফেসওয়াশ।
- সেরাভি হাইড্রেটিং ফেসিয়াল ক্লিনজার।
- নিউট্রোজেনা হাইড্রো বুস্ট ওয়াটার জেল ক্লিনজার।
- দ্য বডি শপ ভিটামিন ই জেন্টল ফেসিয়াল ওয়াশ।
- লা রোশ-পজে টলারিয়ান হাইড্রেটিং জেন্টল ক্লিনজার।
সংবেদনশীল ত্বকঃ অন্যান্য সকল ত্বকের ধরনের চাইতে সংবেদনশীল ত্বক
হচ্ছে খুবই আলাদা প্রকৃতির। কারন এই ধরনের ত্বক সহজেই লাল হয়ে যায় এবং
সেই সাথে জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও এই ধরনের ত্বকে সকল
উপাদান সহজেই মানিয়ে নিতে পারেনা এবং এলার্জির মতো সমস্যাও দেখা দিতে
পারে। তাই এই ধরনের ত্বকে কোনো কিছু প্রয়োগের পূর্ব সাবধান হয়ে
ব্যাবহার করা উচিৎ।
- সেরাভি হাইড্রেটিং ফেসিয়াল ক্লিনজার।
- লা রোশ-পজে টলারিয়ান পিউরিফাইং ফেস ওয়াশ।
- অ্যাভিনো কাল্ম + রিস্টোর ন্যাচারাল ফেস ওয়াশ।
- দ্য বডি শপ অ্যালো জেন্টল ফেসিয়াল ওয়াশ।
- সিম্পল কাইন্ড টু স্কিন রিফ্রেশিং ফেস ওয়াশ।
মিশ্র ত্বকঃ শুষ্ক, স্বাভাবিক এবং তৈলাক্তক ত্বকের বৈশিষ্ট সমূহ একত্রে
মিশ্রন ত্বকে দেখা যায়। যেমনঃ এই ধরনের ত্বকে নাক, কপাল ও থুতনি
সাধারণত তৈলাক্ত থাকে। সেই সাথে গালের অংশ শুষ্ক অথবা
স্বাভাবিক থাকে। বিভিন্ন ধরনের ত্বকের বৈশিষ্ট একত্রে এই ত্বকে থাকার
কারনে এই ত্বকে ফেসওয়াশ ব্যাবহারের পূর্বে অবশ্যই যাচাই বাছাই করে ভালো
মানের ফেসওয়াশ ব্যাবহার করতে হবে। মিশ্র ত্বকের জন্য ভালো কিছু ফেসওয়াশ
নিচে দেওয়া হলো।
- সেরাভি ফোমিং ফেসিয়াল ক্লিনজার।
- নিউট্রোজেনা ফ্রেশ ফোমিং ক্লিনজার।
- দ্য বডি শপ টি ট্রি স্কিন ক্লিনিং ফেস ওয়াশ।
- গার্নিয়ার স্কিন অ্যাক্টিভ মাইসেলার জেল ক্লিনজার।
- সিম্পল রিফ্রেশিং ফেসিয়াল ওয়াশ।
বিশেষ সতর্কতাঃ প্রত্যকে ব্যাক্তির ত্বকের ধরন আলাদা আলাদা হওয়ার কারনে
এক জনের ত্বকে যেই ফেসওয়াশ ভালো কাজ করবে সেই একই ফেসওয়াশ আপনার ত্বকে
ভালো কাজ নাও করতে পারে। যদি ত্বকের ধরন এক হয় সে ক্ষেত্রেও কিছু কারনে
খারাপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই কোনো প্রোডাক্ট বা ফেসওয়াশ
ব্যাবহারের পূর্বে আপনার ত্বকের কোনো এক অংশে হালকা ব্যাবহার করে পরিক্ষা
করে নেওয়া উত্তম। আর উপরের দেওয়া ফেসওয়াশ গুলো আপনি বাজারের কসমেটিক'স
অথবা অনলাইনে একটু খুঁজাখুঁজি করতেই পেয়ে যাবেন।
তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা ও সমাধান
ত্বকের গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত পরিমান তেল উৎপন্ন হওয়ার কারনে আমাদের ত্বকে
নানান রকমের সমস্যা দেখা যায়। এই সমস্যা গুলো দ্রুত সমাধান না করলে আমাদের
ত্বকে স্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই আপনারও যদি তৈলাক্তক ত্বক হয় তাহলে
এই সমস্যাকে সাধারণভাবে না নিয়ে প্রতিকারের ব্যাবস্থা নেওয়া জরুরী। এখন
আমরা তৈলাক্ত ত্বকের সাধারণ কিছু সমস্যা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবো।
- ত্বকে অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন হওয়া।
- ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডস এর মতো সমস্যা দেখা দেওয়া।
- ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যাওয়া।
- ত্বক চিটচিটে ভাব লেগে থাকা।
- ত্বকে কালোদাগ বা মেসতা দেখা দেওয়া।
- এলার্জি বা চুলকানি হওয়া ইত্যাদি।
উপরোক্ত সমস্যা গুলো সাধারনত তৈলাক্তক ত্বকের জন্য হয়ে থাকে। আপনার
যদি তৈলাক্তক ত্বক হয়ে থাকে তাহলে আপনার উচিৎ হবে আপনার ত্বকের যত্ন
নেওয়া ও কিছু নিয়ম অনুসরন করে চলা। তা না হলে আপনারও উপরে দেওয়া সমস্যা
গুলো দেখা দিতে পারে। যার ফলে আপনার ত্বক শুধু দেখতে খারাপ লাগবে না বরং
এটি একটি মানুষিক চাপেরও কারন হয়ে দাড়াতে পারে। তাই আসুন এখন আমরা জানবো
তৈলাক্তক ত্বকের কিছু যত্ন নেওয়ার টিপস সম্পর্কে।
- ত্বকের গভীর থেকে তেল দূর করে এমন ফেসওয়াশ ব্যাবহার করা।
- ফেসওয়াশ ব্যাবহার করার পর তেল মুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা।
- রোদ যুক্ত দিনে বাহিরে বের হলে তেল মুক্ত সানস্ক্রিন ব্যাবহার করা।
- প্রতি সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার স্ক্রাব ও মাস্ক ব্যবহার করা।
- ঘন ঘন মুখ ধোয়া থেকে বিরত থাকা।
- দিনে ২ থেকে ৩ বারের বেশি ফেসওয়াশ ব্যাবহার না করা।
- পুড়া তেলে ভাজা খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
- অপরিষ্কার হাতে ত্বক স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে ইত্যাদি।
ছেলেদের ফেসওয়াশ এর দাম কত
ছেলেদের ফেসওয়াশ এর দাম নির্ভর করে ব্র্যান্ড বা প্রোডাক্টের উপর। একের
ব্রান্ডের ফেসওয়াশের দাম একেক রকম। এখন আমরা নিচে কিছু জনপ্রিয়
ব্রান্ডের ছেলেদের ফেসওয়াশ এর দাম সম্পর্কে জানবো। তবে দাম গুলো বাজার
ও সময়ের সাথে সাথে উঠা নামা বা দাম কম বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি যদি
সঠিক দাম জানতে চান তাহলে গুগোল অথবা স্থানীয় মার্কেট থেকে জেনে নিতে পারেন।
- গার্নিয়ার মেন অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশঃ এই ফেসওয়াশটির ১০০ গ্রাম টিউবের দাম ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত।
- পন্ডস মেন এনার্জি ব্রাইট ফেসওয়াশঃ এই ফেসওয়াশটির ১০০ গ্রাম টিউবের দাম ১৮০ টাকা থেকে ২২০ টাকা পর্যন্ত।
- নিউট্রোজেনা ডিপ ক্লিন ফেসওয়াশঃ এই ফেসওয়াশটির ১০০ মি.লি এর দাম সাধারণত ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।
- হিমালয়া নিম ফেসওয়াশঃ এই ফেসওয়াশটির ১০০ মি.লি এর দাম সাধারণত.২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত।
- ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার ফোমিং ফেসওয়াশঃ এই ফেসওয়াশটির ১০০ মি.লি এর দাম সাধারণত ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
ফেসওয়াশ ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও ত্বকের যত্ন টিপস
ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শুধু ফেসওয়াশ মুখে মাখলেই হবে না জানতে হবে সঠিক
নিয়ম। কেননা সঠিক নিয়মে মুখে ফেসওয়াশ না মাখলে বা ব্যাবহার না করলে যতই
ফেসওয়াশ মাখেন না কেন কোনো কাজ হবে না। তাই আমাদের সকলের জানা প্রয়োজন কিভাবে
সঠিক পদ্ধতিতে ফেসওয়াশ ব্যবহারের করতে হয়। সঠিক পদ্ধতিতে ফেসওয়াশ
ব্যাবহার করেলেই ত্বকের ব্রণ সহ অতিরিক্ত তেলেতেল ভাব দূর করতে সাহায্য করবে।
তাই আসুন জানি সঠিক পদ্ধতিতে ফেসওয়াশ ব্যবহারের নিয়ম।
ফেসওয়াশ ব্যবহার করার জন্য প্রথমেই মুখমন্ডল ভিজিয়ে নিতে হবে। শুকনো মুখে
কখনোই ফেসওয়াশ ব্যাবহার করা যাবে না। এতে ত্বকের সতেজ গ্রন্থি গুলো
ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মুখ ভিজিয়ে নেওয়ার পর অল্প পরিমান ফেসওয়াশ লাগিয়ে আলতো
ভাবে ২ থেকে ৩ মিনিট ভালোভাবে সমস্ত মুখ ম্যাসাজ করতে হবে। এর ফলে ত্বকের
গভীরে থাকা ময়লা ও অতিরিক্ত তেল বেরিয়ে আসবে। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে
ভালোভাবে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে মুখ মুছে ফেলতে হবে।
আরোও পড়ুনঃ ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরার ব্যাবহার
মুখ মুছে ফেলার পর অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। অনেকে ভাবে
তৈলাক্তক মুখে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ঠিক নয়। এটি সম্পূর্ন ভুল একটি
ধারনা। কেননা গবেষনায় দেখা গেছে তৈলাক্তক ত্বকে ফেসওয়াশ করার পর অতিরিক্ত তেল
পরিষ্কার করার পাশাপাশি আমাদের ত্বকের গুরুত্বপূর্ন তেলও দূর করে দেয়। ঠিক এই
তেলের অভাবেই মুখ শুষ্ক হয়ে যায়। এ সমস্যা সমাধানের জন্য আলাদাভাবে তৈলাক্তক
ত্বকের ময়েশ্চারাইজার পাওয়া যায়। আপনি সব সময় ওয়াটার
বেজ ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করবেন। এতে ত্বকের কোনো ক্ষতি হয় না এবং ত্বক
তেলতেল ভাব মুক্ত ও উজ্জ্বল থাকে।
পরিশেষে - ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো
ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো এই সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত
জেনেছি। আমরা উপরে ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সেরা ৫টি ফেসওয়াশ
সম্পর্কে আলোচনা করেছি সেই সাথে ছেলেদের কিছু জনপ্রিয় ফেসওয়াশের দাম তুলে
ধরেছি। আমরা আশাবাদী যে উপরের দেওয়া তথ্য গুলো মনোযোগ সহকারে
পড়লে ছেলেদের তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশ ভালো এই প্রশ্নের
উত্তর পেয়ে যাবেন।
যেকোনো ফেসওয়াশ ত্বকে সরাসরি ব্যাবহার করার আগে সেই ফেসওয়াশটি আপনার
ত্বকের জন্য উপযুক্ত কিনা তা পরিক্ষা করে নেওয়া উচিৎ। কেননা একজনের ত্বকে
যে ফেসওয়াশ ভালো কাজ করে সেই একই ফেসওয়াশটি আপনার ত্বকে ভালো কাজ নাও করতে
পারে যদিও আপনাদের ত্বকের ধরন একই হোক না কেন। আমরা আশা করি যে উপরের লিখা
গুলো ভালো করে পড়লে তৈলাক্ত ত্বকের ছেলেদের ভালো ফেসওয়াশ
সম্পর্কে বিস্তারিত উত্তর পেয়ে যাবেন।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url