কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম
কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যাকে ম্যালওয়ার বলা হয়ে
থাকে। এই ক্ষতিকর সফটওয়্যার বা ম্যালওয়ারের কারনে আমাদের কম্পিউটার ধীর গতির
হয়ে যায় এবং কিছু অস্বাভাবিক কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাবে করতে
থাকে।
আজকে আমরা কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম সম্পর্কে জানবো।
প্রতিদিনের কাজে আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ব্রাউজারে প্রবেশ করতে হয় এবং বিভিন্ন
সফটওয়্যার আমাদের কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ইন্সটল করতে হয়। মূলত কিছু নিরাপত্তা
বিহীন ওয়েবসাইট বা সফটওয়্যার থেকেই কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।
সূচিপত্রঃ কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম
- কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম
- কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
- কিভাবে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করবেন
- কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন
- কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করবেন
- কিভাবে Windows Safe Mode চালু করবেন
- সন্দেহজনক সফটওয়্যার আনইনস্টল করার নিয়ম
- সফটওয়্যার ছাড়াই কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত করার উপায়
- কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায়
- শেষ কথা-কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম
কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম
কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা
ম্যালওয়ার। কম্পিউটার ভাইরাস একাবার কম্পিউটারে প্রবেশ করলে
তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের প্রতিলিপি তৈরি করে এবং কম্পিউটারের
স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাস করে থাকে। কম্পিউটারের ভাইরাস সমূহ কোনো
বাহ্যিক জিনিস নয় বা চোখে দেখা যায় না। এটি কম্পিউটারের অভ্যন্তরিন
বা ফাইল, সফটওয়্যার, বা অপারেটিং সিস্টেমে অবস্থান করে কম্পিউটারের
বিভিন্ন ক্ষতি করে থাকে।
কম্পিউটারে ভাইরাস থাকলে তা সাথে সাথে রিমুভ করে ফেলতে হবে। কেননা এই ভাইরাস
গুলো শুধু কম্পিউটারের ক্ষতিই করে না বরং আপনার ব্যাক্তিগত সকল তথ্য অন্য
কারো হাতে পৌছে যেতে পারে। তাই আমাদের অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে কম্পিউটার
ভাইরাস রিমুভ করতে হয়। আমরা নিচে এমনই কিছু মাধ্যম দেখাবো যা ব্যবহার করলে
আপনিও খুব সহজে আপনার কম্পিউটারের ভাইরাস রিমুভ করতে পারবেন।
উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ
উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করা অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাস
ব্যাবহার করার চাইতে অনেক সহজ ও নিরাপদ হওয়ার কারনে সবার আগে
আমাদের উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করা জানা
উচিত। উইন্ডোজ ডিফেন্ডার হলো মাইক্রোসফট এর অফিসিয়াল অ্যান্টিভাইরাস টুল
যা ব্যাবহার করে আপনি সহজেই আপনার কম্পিউটার ভাইরাস রিমুভ করতে পারবেন। উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ব্যাবহার করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেওয়া হলোঃ
প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সেটিংস খুলে নিতে হবে। উল্লেখ্যঃ এই
পদ্ধতি উইন্ডোজ ১০ ও উইন্ডোজ ১১ দুই ভার্সনেই একই ভাবে কাজ করে।
কম্পিউটারের সেটিংস খুলার পর বাম পাশে লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে Privacy
& Security লিখা আছে। এবার উক্ত Privacy & Security তে প্রবেশ
করার পর ছবিতে দেখানোর মতো সবার উপরে Windows Security তে প্রবেশ করতে হবে।
আপনি চাইলে উইন্ডোজ সার্চ অপশন থেকে Windows Security সার্চ করে সরাসরি এই
অপশনে প্রবেশ করতে পারবেন।
Windows Security তে প্রবেশ করার পর আপনার সামনে উপরে ছবিতে দেখানোর মতো
একটি ইন্টারফেজ আসবে। এখান থেকে আপনাকে Virus & threat protection
সিলেক্ট করতে হবে। Virus & threat protection সিলেক্ট করলে আরেকটি
নতুন Quick Scan অপশন আসবে। এখন আপনাকে Quick Scan অপশনে একবার ক্লিক করতে
হবে। Quick Scan অপশনে ক্লিক করলেই আপনার কম্পিউটার সকল ফাইল স্ক্যান
করা শুরু করে দিবে।
এরপর উইন্ডোজ ডিফেন্ডার আপনার সম্পুর্ন সিস্টেমের সকল ফাইল স্ক্যান করা
শুরু করে দিবে। প্রথম অবস্থায় আপনি যখন স্ক্যান করবেন তখন একটু বেশি সময়
লাগতে পারে। তাই ধৈর্যহারা হয়ে কেটে দেওয়া যাবেনা। কেটে দিলে আবার শুরু
থেকে স্ক্যান করতে হবে। যা আরো সময় সাপেক্ষ্য। সিস্টেমের সকল ফাইল
স্ক্যান করা শেষ হলে আপনার সিস্টেমে বা কম্পিউটারে যদি ভাইরাস বা ম্যালওয়ার
জাতীয় কোনো ফাইল থাকে তাহলে আপনি সেটি এক ক্লিকেই রিমুভ করে ফেলতে পারবেন।
ঠিক এইভাবেই কম্পিউটার ভাইরাস রিমুভ করতে পারতে পারবেন।
Avast অ্যান্টিভাইরাস ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করার পদ্ধতি
Avast হচ্ছে একটি জনপ্রিয় অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার। আপনি অ্যাভাস্ট
ব্যাবহার করেও আপনার কম্পিউটারের ভাইরাস রিমুভ করতে পারেন। এ জন্য আপনাকে
সবার প্রথমে অ্যাভাস্ট সফটওয়্যারটি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড
করে নিতে হবে। কিভাবে ফ্রিতে অ্যাভাস্ট অ্যান্টিভাইরাস ডাউনলোড করবেন এবং
সেটআপ করবেন তা বিস্তারিত আলোচনা নিচের টপিক'সে আলোচনা করা হবে।
প্রথমেই আপনাকে অ্যাভাস্ট অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি ওপেন করে নিতে হবে।
আপনি যখন সফটওয়্যারটি প্রথমবার ওপেন করবেন তখন উপরে দেখানো ছবির মতো দেখাবে।
এরপর আপনাকে Status বাটনে ক্লিক করতে হবে। Status বাটনে ক্লিক করার পরে
Run Smart Scan এর উপরে ক্লিক করলেই আপনার পিসির সিস্টেম স্ক্যান করা শুরু
করে দিবে।
স্ক্যান করা শেষে যদি আপনার কম্পিউটারের সিস্টেমে কোনো প্রকার ভাইরাস বা
ম্যালওয়ার থেকে থাকে তাহলে উপরে দেখানো ছবির মতো অপশন আসবে। তখন আপনাকে শুধু
Resolve All বাটনে ক্লিক করতে হবে। উক্ত বাটনে ক্লিক করার সাথে সাথে
আপনার কম্পিউটারের সিস্টেমে থাকা সকল প্রকার ভাইরাস বা ম্যালওয়ার রিমুভ
করে দিবে। উল্লেখ্যঃ এই সফটওয়্যারটি সম্পূর্ন ফ্রি নয়। তাই মাঝে মাঝে
প্রিমিয়াম কেনার জন্য নটিফিকেসন দিলে তা এড়িয়ে চলবেন।
এখন আমরা জানবো অ্যাভাস্ট (Avast) এর মতো কিছু জনপ্রিয় ও কার্যকরি
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার সম্পর্কে। এখন নিচে যে অ্যান্টিভাইরাস
সফটওয়্যার গুলোর নাম দেওয়া হবে সেগুলোর ব্যবহার অ্যাভাস্ট এর মতোই তাই আলাদা
করে দেখানোর প্রয়োজন নেই। আপনি চাইলে অ্যাভাস্ট এর পরিবর্তে সেই সফটওয়্যার
গুলো ব্যাবহার করতে পারেন। কম্পিউটার ভাইরাস রিমুভ করতে কার্যকরি এমন
কিছু অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার হলোঃ
- Kaspersky
- Bitdefender
- Norton
- AVG Antivirus
- McAfee Total Protection
- ESET NOD32 Antivirus ইত্যাদি।
উল্লেখ্যঃ উপরের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো দ্বারা কম্পিউটার
ভাইরাস সনাক্ত করা ও রিমুভ করার প্রক্রিয়া অ্যাভাস্ট (Avast) এর মতোই
তাই উপরের দেওয়া নির্দেশিকা অনুসরন করলে বাঁকি সফটওয়্যার গুলো ব্যাবহার
করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ
কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ আপনি খুব সহজেই বুঝে উঠতে পারবেন।
বিশেষ করে যারা প্রতিনিয়ত কাজে কম্পিউটার ব্যাবহার করেন তারা খুব সহজেই কিছু
লক্ষন দেখেই বুঝে উঠতে পারবেন যে আপনার কম্পিউটারের সিস্টেমটি কোনো ম্যালওয়ার
বা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে কিনা। এখন এমরা এমনই কিছু লক্ষন জানার
চেষ্টা করবো যেগুলো দেখলে আপনিও বুঝতে পারবেন যে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস
আক্রান্ত কিনা।
- কম্পিউটারের গতি বা পারফর্মেন্স দিন দিন কমতে থাকা।
- স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনি জানেন না এমন সফটওয়্যার ইন্সটল হওয়া।
- তথ্য বা ফাইল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিলিট, মডিফাই, ইডিট, নাম পরিবর্তন ইত্যাদি হওয়া।
- প্রয়োজন ছাড়াই বিভিন্ন অ্যাড দেখানো শুরু করা।
- স্বয়ংক্রিয়ভাবে অজান ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা।
- কম্পিউটারের বিভিন্ন ড্রাইভ বা সফটওয়্যার ক্রাস করা।
- কম্পিউটার বা ল্যাপটপ অতিরিক্ত গরম হওয়া ইত্যাদি।
উপরের লক্ষন ছাড়াও আরো অনেক লক্ষন আপনার দেখা দিতে পারে। যখন লক্ষন গুলো
দেখা দিবে তখন আপনি উপরে দেওয়া মাধ্যম গুলো ব্যাবহার করে এই সমস্যা গুলো
সহজেই ঘরে বসেই সমাধান করে নিতে পারবেন।
কিভাবে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করবেন
উইন্ডোজ ডিফেন্ডার হচ্ছে উইন্ডোজ এর নিজেস্ব অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার যা
আলাদাভাবে ডাউনলোড বা প্রমিয়াম সাবক্রিপশন কেনার প্রয়োজন পড়ে
না। উইন্ডোজ ডিফেন্ডার সম্পূর্ন ফ্রি এবং অনেক শক্তিশালী
একটি ভাইরাস রিমুভ করার সফটওয়্যার। উইন্ডোজ ডিফেন্ডার শুধু ভাইরাস
বা ম্যালওয়ার রিমুভ করেনা বরং এটি আরো অনেক ভাবে আপনার কম্পিউটারকে সুরক্ষা
দিয়ে থাকে। নিচে সেগুলোর বিবরন দেওয়া হলো।
উইন্ডোজ ডিফেন্ডার যেসকল মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারকে ভাইরাস বা ম্যালওয়ার থেকে
সুরক্ষা দেয় সেগুলো হচ্ছেঃ
- কম্পিউটারের জন্য যেকল সফটওয়্যার ক্ষতিকর সেগুলো থেকে সুরক্ষা দেয়।
- ফাইল, সফটওয়্যার বা ডকুমেন্ট খোলার সময় এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার স্ক্যান করে।
- সন্দেহ জনক ফাইলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিমুভ করে থাকে।
- ব্রাউজার ব্যাবহারের সময় ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার শনাক্ত করে থাকে।
- কোনো ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইন্সটল করতে বাধা প্রদান করে থাকে।
- ক্ষতিকারক ওয়েবসাইট ব্যাবহার করা থেকে ব্লক করে থাকে।
- পেনড্রাইভ, হার্ডড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড যুক্ত করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্যান করে থাকে।
উল্লেখ্যঃ আপনি উপরের দেওয়া নিয়ম অনুসরন করেই ভাইরাস বা ম্যালওয়ার জাতীয়
বিভিন্ন ক্ষতিকারক সফটওয়্যার সহজেই রিমুভ করে ফেলতে পারবেন। এখানে আমরা
আলোচনা করার চেষ্টা করেছি কিভাবে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার আপনার কম্পিটারকে
ভাইরাস বা ম্যালওয়ার থেকে সুরক্ষ দেওয়া ব্যাতীত অন্যান্য মাধ্যম গুলোতেও
সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। তাই বলা যায় Windows Defender বর্তমান
সময়ের অন্যতম শক্তিশালী ফ্রি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলোর অন্যতম একটি
অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার।
কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন
উপরে আমরা কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করে কম্পিউটার
ভাইরাস রিমুভ করতে হয়ে সেই সম্পর্কে জেনেছি। এখন আমরা জানাবো উপরে দেওয়া
সফটওয়্যার গুলো আপনি কিভাবে ফ্রিতেই ডাউনলোড ও ব্যাবহার করতে পারবেন।
উল্লেখ্যঃ উপরে দেওয়া উইন্ডোজ ডিফেন্ডার কম্পিউটারে আগে থেকেই ইন্সটল করা
থাকে তাই এটি আলাদা ভাবে ইন্সটল করার প্রয়োজন হয় না। এখন আমরা এটি ব্যাতীত
অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ডাউনলোড কিভাবে করবেন সে সম্পর্কে
জানবো।
অ্যাভাস্ট (Avast) অ্যান্টিভাইরাস ডাউনলোড ও ইন্সটল করার নিয়মঃ
অ্যাভাস্ট (Avast) অ্যান্টিভাইরাস ডাউনলোড করার জন্য আপনাকে সর্বপ্রথম গুগল
অথবা অন্য যেকোনো ব্রাউজারে Avast Download লিখে সার্চ দিতে হবে। তারপর
সবার প্রথমে যেই ওয়েবসাইট আসবে সেটিই মূলত অ্যাভাস্ট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
আপনানি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পূর্বে দেখে নিবেন উক্ত সাইটটি অফিসিয়াল কিনা।
অ্যাভাস্ট এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে ঠিক এই রকম একটি ইন্টারফেজ
দেখাবে। এখন আপনাকে শুধু Free Download লিখার উপর একটি ক্লিক করতে হবে। উক্ত
লিখার উপর ক্লিক করলে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আপনার সফটওয়্যারটি ইন্সটল
হয়ে যাবে। এবার আপনাকে আপনার ফাইল ম্যানেজার (File Manager) ওপেন করতে হবে
এবং ডাউনলোড কৃত অ্যাভাস্ট সফটওয়্যার এর উপর দুবার ক্লিক করতে হবে।
দুইবার ক্লিক করার পর একটি পারমিশন চাইলে সেটি ওকে করে দিলেই আপনার সামনে
উপরে দেখানো একটি অপশন আসবে। এখান থেকে CONTINUE করে দিতে হবে। CONTINUE
করে দিলে আপনার সামনে আরো একটি নতুন ভাবে একটি অপশন আসবে। উক্ত জাইগায় আপনাকে
কিছুক্ষন অপেক্ষা করতে হবে কারন এই সময় অ্যাভাস্ট সফটওয়্যারটির কিছু ফাইল
ডাউনলোড করে নিবে।
ফাইল ডাউনলোড করা শেষ হয়ে গেলে আপনার সামনে উপরে দেখানো ছবির মতো একটি অপশন
আসবে। এখান থেকে আপনাকে CONTINUE WITH FREE অপশনটি সিলেক্ট করে নিতে হবে।
কারন এটি ফ্রি মাধ্যম আর আপনি যদি চান অ্যাভাস্ট এর সকল সুযোগ সুবিধা নিবেন
তাহলে প্রতি মাসে ১.৮৯$ বা ২৩০ টাকা দিতে হবে। আমরা কোনো টাকা খরচ ছাড়াই
ভাইরাস রিমুভ করবো তাই প্রথম অপশনটাই সিলেক্ট করে নিতে হবে। উক্ত বাটনে চাপ
দিলেই আপনার কাজ শেষ। এখন উপরের দেখানো নিয়ম অনুসরন করে ভাইরাস বা ম্যালওয়ার
রিমুভ করে নিতে পারবেন।
উল্লেখ্যঃ উপরে আমরা শুধু মাত্র অ্যাভাস্ট (Avast) অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার
কিভাবে ডাউনলোড ও ইন্সটল করতে হয় সেটি দেখানো হয়েছে। মূলত উপরে দেওয়া সকল
সফটওয়্যার ডাউনলোড ও ইন্সটল করার প্রক্রিয়া একই। আপনি উপরের দেওয়া নিয়ম
অনুসরন করেই অন্যান্য অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার গুলো ইন্সটল করে নিতে
পারেন।
কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করবেন
কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করা যায় সেটি
উপরে সুন্দর ভাবে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আশা করা যায় যে আপনি যদি উপরের
নিয়ম গুলো একটু ধৈর্য সহকারে অনুসরন করে তাহলে খুব সহজে
আপনিও অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার ভাইরাস রিমুভ করতে পারবেন।
কিভাবে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ করবেন তার
একটি ইনফো গ্রাফি'স নিচে দেওয়া হলো আপনি চাইলে এটি দেখে অথবা উপরের নিয়ম
অনুসরন করেও কম্পিউটার ভাইরাস রিমুভ করতে পারেন।
কিভাবে Windows Safe Mode চালু করবেন
Windows Safe Mode হচ্ছে উইন্ডোজ কম্পিউটার ও ল্যাপটপ গুলোর এমন একটি ফিচার
যা ব্যাবহার করার মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাস গুলর প্রভাব বা কার্যক্ষমতা দিন
দিন করে যায় এবং একসময় তা সম্পূর্ন রিমুভ হয়ে যায়। তাই কমিউটার ভাইরাস রিমুভ
করার জন্য আমাদের এই ফিচার কিভাবে চালু করতে হয়ে সে বিষয় জানতে হবে। এখন আমরা
জানবো কিভাবে Windows Safe Mode চালু করতে হয়।
Windows Safe Mode চালু করার জন্য সর্বপ্রথম আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
রিস্টার্ড দিয়ে নিতে হবে। এরপর আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ Booting
এর সময় বা বন্ধ হয়ে চালু হতে লাগবে এমন সময় আপনাকে F8 বা F4 বারবার
চাপতে হবে। উক্ত বাটন আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর ভার্সন অনুযায়ী ভিন্ন
হতে পারে। উক্ত বাটিন চাপার পর Safe Mode with Networking অপশনটিতে
ক্লিক করতে হবে এবং অ্যান্টিভাইরাস চালিয়ে ভাইরাস স্ক্যান করে নিলেই
কাজ শেষ।
এভাবেও আপনি আপনার কম্পিউটার থেকে ভাইরাস রিমুভ করতে পারবেন। তবে প্রতি
সপ্তাহে এক থেকে দুই বার এই পদ্ধতি অবল্বন করা উত্তম। এর ফলে কম্পিউটার
ভাইরাস আর আপনার সিস্টেমে কাজ করতে পারেনা এবং ধীরে ধীরে রিমুভ হয়ে যায়।
সন্দেহজনক সফটওয়্যার আনইনস্টল করার নিয়ম
আমাদের কম্পিউটারে বা ল্যাপ্টপে এমন অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো আমরা
ব্যাবহার করি না বা আমাদের কোনো কাজে আসে না। আমরা অনেক সময় লক্ষ্য করে থাকি
যে এই সফটওয়্যার গুলো যখন ছিলো না তখন আমাদের কম্পিউটার ভালো চলতো কিন্তু এই
সকল সফটওয়্যার থাকার কারনে আমাদের কম্পিউটারে কিছু অস্বাভাবিক কার্যকলাপ
হচ্ছে। এই সকল সফটওয়্যার গুলোকেই মূলত বলা হয় সন্দেহজনক সফটওয়্যার। এখন
আমরা কিভাবে সন্দেহজনক সফটওয়্যার আনইনস্টল করতে হয় সে সম্পর্কে জানবো।
আরোও পড়ুনঃ দিনে ৫০০ টাকা ইনকাম করার সেরা ২০টি apps
সন্দেহজনক সফটওয়্যার আনইনস্টল করার জন্য Control Panel থেকে Programs
and Features এ যেতে হবে। আপনি যদি Control Panel খুঁজে না পান তাহলে
সরাসরি সার্চ অপশন থেকে Control Panel লিখে সার্চ দিয়ে সেখানে প্রবেশ
করে Programs and Features এ প্রবেশ করতে পারেন। উল্লেখ্যঃ উইন্ডোজ ১০ ও
উইন্ডোজ ১১ এই দু অপারেটিং সিস্টেমে এই প্রক্রিয়া একইভাবে কাজ করে। এরপর এখান
থেকে যে সফটওয়্যার প্রয়োজন নেই বা সন্দেহজনক সেই সকল সফটওয়্যারকে
ডান ক্লিক করে আনইন্সটল করে দিতে হবে।
সফটওয়্যার ছাড়াই কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত করার উপায়
সফটওয়্যার ছাড়াই কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত করার বেশ কয়েকটি উপায় আছে। যেগুলো
বায়বহার করেও আপনি কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখতে পারবেন। এখন আমরা এমনই
কিছু মাধ্যম জানবো যেগুলো ব্যাবহার করে সফটওয়্যার ছাড়াই কম্পিউটার
ভাইরাস মুক্ত রাখতে পারবেন। উল্লেখ্যঃ উক্ত মাধ্যম গুলো সম্পূর্ন ঝামেলা
মুক্ত ও ফ্রি তাই আপনি এই মাধ্যম গুলো ব্যাবহার করে দেখতে পারেন।
- নিয়মিত টেম্পুরারি ফাইল রিমুভ করতে হবে। Window + R একসঙ্গে চাপার পর temp, %temp%, prefetch লিখে সার্চ করে যে ফাইল গুলো আসবে সব গুলো ডিলিট করে ফেলতে হবে।
- এরপর আপনার ব্রাউজারের সেটিংস থেকে Reset & Clean up অপশন ব্যবহার করে ব্রাউজারটি সম্পূর্ন রিসেট করে ফেলতে হবে।
- ব্রাউজারে যদি সন্দেহ জনক Extensions থেকে থাকে তাহলে তা রিমুভ করে ফেলতে হবে।
- Windows Defender Offline Scan করে দেখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত এক থেকে দুই বার।
উপরের দেওয়া যদি কোনো মাধ্যম করেও যদি কাজ না হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার
কম্পিউটারটি বড় ধরনের ভাইরাস দারা আক্রান্ত হয়েছে। যদি উপরের কোনো মাধ্যমই
কাজ না করে তাহলে আপনাকে আপনার কম্পিউটারটি রিসেট (Reset) করে নিতে
হবে। কম্পিউটারটি রিসেট (Reset) করে নিলে আপনার সমস্যাটি সমাধান হয়ে
যাবে। কম্পিউটার রিসেট করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরন করতে পারেন।
- প্রথমে Control Panel এ প্রবেশ করতে হবে।
- এর পর Recovery অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।
- এরপর Open System Restore সিলেক্ট করে ক্লিক করলেই কম্পিউটারটি রিসেট হয়ে যাবে।
উল্লেখ্যঃ কম্পিউটারটি রিসেট করার সময় কম্পিউটার কয়েকবার
রিস্টার্ড হতে পারে। এমন অবস্থায় কম্পিউটার বা ল্যাপটপের পাওয়ার অফ করা
যাবে না। এমন সময় পাওয়ার অফ করলে আপনার কম্পইউটার বা ল্যাপটপের অপারেটিং
বা উইন্ডোজ ক্রাস করতে পারে।
কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার উপায়
কম্পিউটারকে ভাইরাস মুক্ত রাখার জন্য আমাদের কিছু নিয়ম অনুসরন করে চলতে হবে।
নিয়ম গুলো অনুসরন করে চলতে আশা করা যায় যে আপনার কম্পিউটার কিছুটা হলেও
ভাইরাস বা ম্যালওয়ার জাতীয় সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পারেন। এখন আমরা অতি
সংক্ষেপে জানবো কম্পিউটার ভাইরাস মুক্ত রাখার কিছু কার্যকরি উপায় সমূহ।
- আন-অফিসিয়াল কোনো ওয়েবসাইট থেকে কোনো কিছু ডাউনলোড না করা।
- কোনো পেইড সফটওয়্যার এর ক্রাক ভার্সন ব্যাবহার না করে।
- সন্দেহজনক ইমেল বা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকা।
- অন্য কারো USB বা এই জাতীয় কিছু প্রবেশের আগে তা স্ক্যান করে নেওয়া।
- ইন্টারনেট ব্যাবহারের সময় ফায়ারওয়াল চালু রাখা।
- সব সময় উইন্ডোজ আপডেট রাখতে হবে।
- উইন্ডোজ ডিফেন্ডার বা যেকোনো অ্যান্টিভাইরাস সব সময় আপডেট রাখতে হবে।
- নিয়মিত টেম্পুরারি ফাইল ডিলিট করতে হবে ইত্যাদি।
শেষ কথা-কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম
কম্পিউটার ভাইরাস কি ও রিমুভ করার নিয়ম আমরা উপরে বিস্তারিত ধাপে ধাপে
আলোচনা করার চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা আশা বাদি যে আমাদের দেওয়া উপরের
পরামর্শ গুলো যদি আপনি সঠিক নিয়মে অনুসরন করে তাহলে আপনি আপনার কম্পিউটার
ভাইরাস রিমুভ করতে পারবেন। আমাদের দেওয়া উপরের পদ্ধতি গুলো সম্পূর্ন ফ্রি
এবং কার্যকরি।
কম্পিউটার ভাইরাস রিমুভ করার যে মাধ্যম গুলো দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সব চেয়ে
বেশি কার্যকরি হচ্ছে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার ব্যাবহার করে ভাইরাস রিমুভ। কেননা এটি
উইন্ডোজ এর নিজেস্ব ভাইরাস। বর্তমানে যত অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আছে তার
মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস হচ্ছে উইন্ডোজ ডিফেন্ডার।
এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস যার ব্যাবহারের ফলে খুব সহজেই আপনার
কম্পিউটারের ভাইরাস সমূহ রিমুভ করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url