রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী ২০২৫
২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী ইসলামিক ফাউন্ডেশন কতৃক প্রকাশিত করা হয়েছে। আজ ১৭ মার্চ ২০২৫ সেহেরীর সম্ভাব্য শেষ সময় ছিল ভোর ৪ঃ৫৬ মিনিট এবং ইফতার সম্ভাব্য সময় হচ্ছে সন্ধ্যা ৬ঃ১৫ মিনিট।
পবিত্র মাহে রমজান মাসকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথাঃ রমজান মাসের প্রথম ১০
দিনকে বলা হয় রহমতের ১০ দিন। এরপর রমজান মাসের মাঝের ১০ দিনকে বলা
হয় মাগফিরাতের ১০ দিন এবং পরিশষে রমজান মাসের শেষের ১০ দিনকে বলা
হয় নাজাতের ১০ দিন। এই দিন গুলোর বিশেষ বিশেষ গুন রয়েছে।
সূচিপত্রঃ ২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- ২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
- রমজান মাসের আরবি ক্যালেন্ডার
- রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এর বিশেষ নিয়ামত
- রোজা রাখার নিয়ত করা কেন প্রয়োজন
- ইফতারের সময় করনীয় ও দোয়া
- রমজান মাসের ফজিলত সমূহ
- আরবি মাসের ক্যালেন্ডারকে চন্দ্র ক্যালেন্ডার কেন বলা হয়
- শেষ কথা
২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি ইসলামিক ফাউনডেশন কতৃক
প্রকাশিত করা হয়েছে। যেখানে রোমজান এর শুরু ২ মার্চ ২০২৫ প্রথম রোজা যার সম্ভাব্য
সেহেরির শেষ সময় ছিলো ভোর ৫ঃ১০ মিনিট এবং ইফতার সম্ভাব্য সময় হচ্ছে সন্ধ্যা
৬ঃ০৯ মিনিট। অর্থাৎ রোজা শুরু হচ্ছে ২ মার্চ ২০২৫ এবং শেষ রোজা হচ্ছে ৩১ মার্চ
২০২৫। সেক্ষেত্রে ঈদুল ফেতর বা ছোট ঈদ হবে ১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ। তবে এটি সম্পূর্ন
নির্ভর করবে চাঁদ দেখার উপর এবং সেহেরী ও ইফতারের সময় সূচীও চাঁদ দেখার উপর
ভিত্তি করে কয়েক মিনিট কম অথবা বেশি হতে পারে।
রহমতের প্রথম ১০ দিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
রোজা | ইংরেজি তারিখ | বার | সেহেরীর শেষ সময় | ইফতারের শেষ সময় |
---|---|---|---|---|
১ | ২ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ৫ঃ১০ মিনিট | ৬ঃ০৯ মিনিট |
২ | ৩ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ৫ঃ০৯ মিনিট | ৬ঃ০৯ মিনিট |
৩ | ৪ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ৫ঃ০৮ মিনিট | ৬ঃ১০ মিনিট |
৪ | ৫ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ৫ঃ০৮ মিনিট | ৬ঃ১০ মিনিট |
৫ | ৬ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ৫ঃ০৭ মিনিট | ৬ঃ১১ মিনিট |
৬ | ৭ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ৫ঃ০৬ মিনিট | ৬ঃ১১ মিনিট |
৭ | ৮ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ৫ঃ০৫ মিনিট | ৬ঃ১১ মিনিট |
৮ | ৯ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ৫ঃ০৪ মিনিট | ৬ঃ১২ মিনিট |
৯ | ১০ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ৫ঃ০৩ মিনিট | ৬ঃ১২ মিনিট |
১০ | ১১ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ৫ঃ০২ মিনিট | ৬ঃ১৩ মিনিট |
মাগফেরাতের ১০ দিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
রোজা | ইংরেজি তারিখ | বার | সেহেরীর শেষ সময় | ইফতারের শেষ সময় |
---|---|---|---|---|
১১ | ১২ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ৫ঃ০১ মিনিট | ৬ঃ১৩ মিনিট |
১২ | ১৩ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ৫ঃ০০ মিনিট | ৬ঃ১৪ মিনিট |
১৩ | ১৪ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ৪ঃ৫৯ মিনিট | ৬ঃ১৪ মিনিট |
১৪ | ১৫ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ৪ঃ৫৮ মিনিট | ৬ঃ১৫ মিনিট |
১৫ | ১৬ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ৪ঃ৫৭ মিনিট | ৬ঃ১৫ মিনিট |
১৬ | ১৭ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ৪ঃ৫৬ মিনিট | ৬ঃ১৫ মিনিট |
১৭ | ১৮ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ৪ঃ৫৫ মিনিট | ৬ঃ১৬ মিনিট |
১৮ | ১৯ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ৪ঃ৫৪ মিনিট | ৬ঃ১৬ মিনিট |
১৯ | ২০ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ৪ঃ৫৩ মিনিট | ৬ঃ১৭ মিনিট |
২০ | ২১ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ৪ঃ৫২ মিনিট | ৬ঃ১৭ মিনিট |
নাজাতের ১০ দিনের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
রোজা | ইংরেজি তারিখ | বার | সেহেরীর শেষ সময় | ইফতারের শেষ সময় |
---|---|---|---|---|
২১ | ২২ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ৪ঃ৫১মিনিট | ৬ঃ১৮ মিনিট |
২২ | ২৩ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ৪ঃ৫০ মিনিট | ৬ঃ১৮ মিনিট |
২৩ | ২৪ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ৪ঃ৪৮ মিনিট | ৬ঃ১৮ মিনিট |
২৪ | ২৫ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ৪ঃ৪৭ মিনিট | ৬ঃ১৯ মিনিট |
২৫ | ২৬ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ৪ঃ৪৬ মিনিট | ৬ঃ১৯ মিনিট |
২৬ | ২৭ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ৪ঃ৪৫ মিনিট | ৬ঃ২০ মিনিট |
২৭ | ২৮ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ৪ঃ৪৪ মিনিট | ৬ঃ২০ মিনিট |
২৮ | ২৯ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ৪ঃ৪৩ মিনিট | ৬ঃ২০ মিনিট |
২৯ | ৩০ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ৪ঃ৪২ মিনিট | ৬ঃ২১ মিনিট |
৩০ | ৩১ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ৪ঃ৪১ মিনিট | ৬ঃ২১ মিনিট |
রমজান মাসের আরবি ক্যালেন্ডার
রমজান মাস হচ্ছে মুসলিমদের কাছে একটি রহমতের মাস। মহান আল্লাহ তায়ালা তার ইবাদতের
জন্য ৫টি ইবাদত প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন। তার মধ্য অন্যতম ফরজ
ইবাদত হচ্ছে সিয়াম। সিয়াম এর অপর নাম হচ্ছে রোজা। এই ফরজ ইবাদত সিয়াম
বা রোজা রমজান মাসে পালন করা হয়। তাই রমজান মাসের ক্যালেন্ডার সম্পর্কে জানা একজন
মুসলিমের জন্য অনেক গুরুত্বপুর্ন। তাই আমরা এখন আরবি ক্যালেন্ডারের রমজান মাসের
দিনগুলো ইংরেজি মাসের কোন তারিখে পড়ে তা বিস্তারিত জানবো। যেহেতু আমরা সকলে
ইংরেজি ক্যালেন্ডার বেশি ব্যাবহার করি তাই রমজান মাসের দিন ও তারিখ গুলো ইংরেজি
মাসের তারিখ দিয়ে দেখলে বুঝতে সুবিধা হবে।
রমজান মাসের আরবি ক্যালেন্ডার ১৪৪৬ হিজরি
ইংরেজি তারিখ ও সন | বার | আরবি তারিখ | আরবি মাস ও সন |
---|---|---|---|
১ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ১ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ২ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৩ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ৩ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৪ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ৪ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৫ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ৫ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৬ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ৬ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৭ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ৭ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৮ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ৮ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৯ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ৯ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১০ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ১০ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১১ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ১১ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১২ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ১২ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১৩ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ১৩ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১৪ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ১৪ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১৫ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ১৫ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১৬ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ১৬ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১৭ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ১৭ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১৮ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ১৮ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
১৯ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ১৯ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২০ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ২০ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২১ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ২১ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২২ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ২২ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২৩ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ২৩ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২৪ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ২৪ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২৫ মার্চ ২০২৫ | মঙ্গলবার | ২৫ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২৬ মার্চ ২০২৫ | বুধবার | ২৬ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২৭ মার্চ ২০২৫ | বৃহস্পতিবার | ২৭ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২৮ মার্চ ২০২৫ | শুক্রবার | ২৮ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
২৯ মার্চ ২০২৫ | শনিবার | ২৯ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৩০ মার্চ ২০২৫ | রবিবার | ৩০ | রমজান, ১৪৪৬ হিজরি |
৩১ মার্চ ২০২৫ | সোমবার | ০১ | শাওয়াল, ১৪৪৬ হিজরি |
আরবি মাসের ক্যালেন্ডারকে অনেকে চন্দ্র ক্যানেন্ডার হিসেবেও চিনে থাকে। আরবি
মাসের ক্যালেন্ডারকে চন্দ্র ক্যালেন্ডার বলার কারন হচ্ছে, এই মাসের দিন ও
তারিখ চাদের ঘুর্নন গতির উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয় বলে এই ক্যালেন্ডারকে
বলা হয়ে চন্দ্র ক্যালেন্ডার। ঠিক এই কারনেই এই ক্যালেন্ডারের দিন ও তারিখের অনেক
সময় কম বেশি হয়ে থাকে।
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এর বিশেষ নিয়ামত
রমজান মাসকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। রমজান মাসের প্রথম ১০ দিনকে বলা হয়ে থাকে
রহমতের ১০ দিন। প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেনঃ রমজান মাসের প্রথম ১০
দিন হলো রহমত, তার দ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাত, এর শেষ ১০ দিন হলো নাজাত। তাই বুঝতেই
পারছেন যে রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাত হচ্ছে একটি আরবি প্রতিশব্দ এবং এই দিনগুলোর
জন্য আল্লাহ তায়ালা রেখেছেন বিশেষ বিশেষ নিয়ামত। তাই আসুন জানি রহমত,
মাগফিরাত এবং নাজাত শব্দের অর্থ কি এবং এর বিশেষ নিয়ামত সম্পর্কে জানার চেষ্টা
করি।
রমজান মাসের প্রথম ১০ দিনকে বলা হয়ে থাকে রহমতের ১০ দিন। সাধারণ ভাবে বলা হয়ে
থাকে যে রমজান মাসের প্রথম ১০ দিন আল্লাহ তায়ালা তার বান্দার দয়া ও রহমত দান করে
থাকেন। রহমত এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে দয়া, করুনা, অনুগ্রহ ইত্যাদি। এর মাধ্যমে
বোঝায় যাচ্ছে যে রমজান মাসের প্রথম দশ দিন আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি দয়া,
করুনা, অনুগ্রহ দিতে থাকেন।
রমজান মাসের মাঝের ১০ দিনকে বলা হয় মাগফিরাত এর ১০ দিন। মাগফিরাত হলো একটি
আরবি শব্দ। এর বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ক্ষমা, দয়া ইত্যাদি। সাধারণ ভাবে বলা হয়ে
থাকে যে মাগফিরাতের ১০ দিন আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে ক্ষমা করতে থাকেন।
যেহুত এই ১০ দিন আল্লাহ তায়ালা আত বান্দাদের ক্ষমা করে থাকেন তাই আমাদের এই মাসে
আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি বেশি ক্ষমা চাওয়া ও বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগি করা উচিত।
আরোও পড়ুনঃ ২০২৫ সালের আরবি মাসের ক্যালেন্ডার
রমজান মাসের শেষের ১০ দিন হচ্ছে নাজত এর ১০ দিন। নাজাত শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ
হচ্ছে মুক্তি বা পরিত্রান। এখানে মুক্তি বা পরিত্রান বলতে বোঝানো হয়েছে আখিরাতে
জাহান্নাম থেকে মুক্তি বা পরিত্রান। তাই আমাদের রমজান মাসের শেষের দশ দিন আল্লাহ
তায়ালার কাছে বেশি বেশি ক্ষমা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করতে হবে।
রমজান মাসটি হচ্ছে রহমতের মাস এই মাসে আল্লাহ তায়ালা তার বান্দাদেরকে একটি সুযোগ
দিয়ে থাকেন আখিরাতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার, তাই আমাদের এই মাসে বেশি বেশি আল্লাহ
তায়ালার ইবাদত বন্দেগি করবো এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পার্থনা করবো।
রোজা রাখার নিয়ত করা কেন প্রয়োজন
নিয়ত শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ হচ্ছে ইচ্ছা বা সংকল্প। সাধারণত নিয়োগ বলতে বোঝায়
কোন কাজ করার পূর্বে মন থেকে সেই কাজটিকে সম্পন্ন করার ইচ্ছে বা সংকল্পই হচ্ছে
নিয়ত। ইসলামিক পরিভাষায় নিয়তের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। আল্লাহ তালার যে কোন
ইবাদত করার পূর্বে মন থেকে একটি দৃঢ় নিয়ত করা আবশ্যক। বলা হয়ে থাকে যে, কোন
কাজ করার পূর্বে মন থেকে দৃঢ় নিয়ত করলে আল্লাহ তায়ালা সেই কাজ সম্পন্ন করার
জন্য সাহায্য করে থাকে। তাই কোন কাজ করা পূর্বে নিয়ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ
ইবাদতের অংশ। তাই রোজা রাখার জন্য নিয়ত করা একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ যা ব্যাতীত
রোজা বা সাওম সম্পুর্নভাবে পালন হয়না।
নিয়ত করার নিয়মঃ আল্লাহ তায়ালা এর কোন এবাদত করার পূর্বে মন থেকে সেই
ইবাদতের ইচ্ছা বা সংকল্প করলেই নিয়ত হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে নিয়ত করার জন্য মুখে
উচ্চারণ করার প্রয়োজন হয় না।নিয়ত হচ্ছে রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নিয়ত
ব্যতীত রোজা সম্পন্ন হয় না। নিয়ত করার সময় হচ্ছে আপনি যদি সেহেরী খাওয়ার
পূর্বে নিয়ত করতে ভুলে যান তাহলে আপনি ইফতারের আগে সূর্য লাল হওয়ার আগ পর্যন্ত
যেকোন সময় আপনি রোজার নিয়ত করে নিতে পারেন।
রোজার নিয়তের দোয়াঃ রোজা রখার নিয়ত করা কতটা জরুরী সেটি আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি।
তাই আসুন এবার আমরা রোজা রাখার নিয়তের দোয়া সম্পর্কে জানি। আরবি বাংলা
উচ্চারনঃ "নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম, মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাক;
ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু, ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নিকা আনতাস সামিউল আলিম।"
রোজা রাখতে হলে অবশ্যই নিয়ত করা আবশ্যিক। নিয়ত ব্যতীত রোজা সম্পন্ন হয় না। তাই
বলা হয়ে থাকে যে পূজার পূর্ব শর্ত হচ্ছে নিয়ত। আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করার জন্য
মন থেকে দৃঢ় নিয়ত করা অবশ্যই কাজ। কোন মানুষ যখন মন থেকে নিয়ত করে কোন কাজ করা
শুরু করে তখন আল্লাহ তা'আলা শিক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সে ব্যক্তিকে সাহায্য করে
থাকে। বুঝতে পারছেন করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ। তাই আমাদের উচিত কোনো কাজ
বা ইবাদত করার পূর্বে মন থেকে দৃড় নিয়ত করা ঠিক রোজা বা সাওম এর মতো।
আরোও পড়ুনঃ
হজম শক্তি হ্রাস পাওয়ার কারন ও প্রতিকার
ইফতারের সময় করনীয় ও দোয়া
ইফতারের সময় আমাদের বেশ কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। এ সকল বিষয় সবাইকে
আমরা ইফতারের সময় করণীয়ও বলতে পারি। ইফতারের সময় করে করণীয় এমন কয়েকটি বিষয়
নিচে তুলে ধরা হলো।ইফতারের সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করা সুন্নত। তাই যখন
ইফতারের সময় হয়ে যাবে তখন দেরি না করে ইফতার করা উচিত। তাছাড়া ওই ইফতারের আগে
যে সকল বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো হচ্ছে ইফতারে খেজুর দিয়ে ইফতার সম্পন্ন
করা।আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ( সাঃ) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন তাই আমাদেরও
খেজুর দিয়ে ইফতার করা সুন্নত। ইফতার করার পূর্বে অবশ্যই দোয়া করে নিতে হবে এবং
বিসমিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করতে হবে। বিসমিল্লাহ শব্দের অর্থ হচ্ছে মহান আল্লাহর
নামে শুরু করে।তাই বিসমিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করা একটু গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
ইফতারের দোয়াঃ আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া আলাইকা
তাওয়াক্কালতু, ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।
ইফতারের সময় দোয়া করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ কেন না ইফতারের সময় আল্লাহ
রাব্বুল আলামিন দোয়া কবুল করে থাকেন। হাদিসে রয়েছে যে তিন ধরনের ব্যক্তির
দোয়া কখনও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রোজাদার ব্যক্তির
ইফতারের সময়। তাই এ সময় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত। তাছাড়াও ইফতারের সময়
দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়। তাছাড়াও রোজার মাধ্যমে
গুনাহ মাফ হয় তাই ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া করলে বেশি গুনাহ থেকে ক্ষমার
সুযোগ থাকে। তাই আমাদের ইফতারের সময় বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।
রমজান মাসের ফজিলত সমূহ
ইসলামের রমজান মাসে রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও মর্যাদা। রমজান মাসের ফজিলত
হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মহান আল্লাহ তায়ালা রমজান মাসে পবিত্র
আল কুরাআন নাযিল করেছিলেন। তাছাড়াও রমজান মাসে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাগণকে
ক্ষমা করে থাকেন। তাই এই মাসে বেশি বেশি আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করা উচিত।
আল্লাহ তায়ালা পাঁচটি এবাদত আমাদের জন্য ফরজ করে দিয়েছে। ফরজ শব্দের অর্থ
হচ্ছে অবশ্যই পালনীয়। পাঁচটি ফরজ ইবাদতের মধ্যে সাওম বা রোজা হচ্ছে
অন্যতম। এই সাওম বা রোজা রমজান মাসে রাখতে হয়। ২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচির ভূমিকায় আমরা জানতে পেরেছি যে রমজান মাসকে
সাধারণত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়।
সেই তিনটি ভাগের রয়েছে আলাদা নাম এবং বিশেষ গুনাগুন বা ফজিলত। সেগুলো হচ্ছে
রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত। রমজান মাসের এই বিশেষ তিন অংশে মহান আল্লাহ তা'আলা
আমাদের ক্ষমা এবং নিজেকে পরিশুদ্ধ করার একটি সুযোগ দিয়ে থাকে। যা অন্যান্য
মাসের চাইতে অনেক উত্তম বলে বিবেচিত করা হয়। এই রমজান মাসে আল্লাহ
তায়ালা শয়তানকে বেঁধে রাখে। যার ফলে আমরা শয়তানের দ্বারা ভুল পথে যাওয়ার
হাত থেকে বাঁচতে পারি। তাছাড়াও অনেক বিশেষ ফজিলত সমূহ রয়েছে রমজান মাসের যা
আলোচনা করে শেষ করা সম্ভব নয়।তাই আমাদের উচিত এই মাসে বেশি বেশি আল্লাহ
তায়ালার ইবাদত করা।
আরবি মাসের ক্যালেন্ডারকে চন্দ্র ক্যালেন্ডার কেন বলা হয়
আমরা জানি যে ইংরেজি ক্যালেন্ডার সূর্যের ঘূর্ণন গতির উপর নির্ভর করে তৈরি করা
হয়ে থাকে। যার ফলে ইংরেজি ক্যালেন্ডারে সর্বমোট ৩৬৫ বা ৩৬৬ দিন থাকে।
অপরদিকে আরবি মাসের ক্যালেন্ডার অথবা হিজরী ক্যালেন্ডার চাঁদের ঘূর্ণন গতির উপর
নির্ভর করে তৈরি করা হয়ে থাকে। যার ফলে ইংরেজি ক্যালেন্ডার এর তুলনায় হিজরী
ক্যালেন্ডারে কিছুদিন কম সময় থাকে। চাঁদ তার কক্ষপথে একবার ঘুরে আসতে সময়
লাগে ২৯.৫ দিন তাই আরবি মাসের ক্যালেন্ডার বা হিজরী মাছগুলো ২৯ থেকে ৩০ দিনের
হয়ে থাকে। বিভিন্ন উৎসব এবং ধর্মীয় কারণে আরবি মাসের ক্যালেন্ডার কে চাঁদের
ঘূর্ণন গতির উপর নির্ভর করে তৈরি করা হয়ে থাকে। যেহেতু চাঁদের ঘূর্ণন গতির উপর
নির্ভর করে আরবি মাসের ক্যালেন্ডার বা হিজরী ক্যালেন্ডার তৈরি করা হয়ে থাকে
ঠিক সেই কারণেই আরবি মাসের ক্যালেন্ডার কে বলা হয় চন্দ্র ক্যালেন্ডার।
শেষ কথা
২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি জানা রাজশাহী ও তার নিকতবর্তী
এলাকার মানুষ জনদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন। কেননা রোজা বা সাওম হচ্ছে মুসলিমদের
জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন ফরজ এবাদত। আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুসলিমদের জন্য পাঁচটি
এবাদত ফরজ করে দিয়েছেন। তার মধ্যে সাওম বা রোজা অন্যতম। তাই ২০২৫ সালে
রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি জানা রাজশাহী ও তার নিকটবর্তী মানুষদের
ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ন। রাজশাহী ও তার নিকটবর্তী মানুষজন খুব সহজে আমাদের
দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে ২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি
সম্পর্কে জানতে পারবে।
তবে একটি বিষয় আমাদের সকলের লক্ষ্য রাখা উচিত যে আমরা প্রায় সকলেই জানি আরবি
মাসের ক্যালেন্ডার বা হিজরী ক্যালেন্ডার চাঁদের ঘূর্ণন গতির উপর নির্ভর করে
তৈরি করা হয়। যার ফলে আরবি মাসের ক্যালেন্ডার দুই অথবা এক অথবা দিনের সময়ের
কম বেশি হতে পারে। এটি আরবি মাসের সকল ক্যালেন্ডারের ক্ষেত্রে একই
এমনকি ২০২৫ সালে রাজশাহী জেলার সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি এর ক্ষেত্রেও
প্রযোজ্য। তাই আমাদের সকলের উচিত হবে যে আরবি মাসের ক্যালেন্ডার সব সময় আপডেট
চেক করা এবং সেহেরী এবং ইফতারের সময়সূচী ও সব সময় আপডেট চেক করে পালন করা
উচিত।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url