খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় অনেক রয়েছে। আপনার যদি খালি পেটে রক্তে
শর্করার পরিমান বেশি থাকে তাহলে তা প্রাকৃতিক ও জীবনধারাগত পদ্ধতি ব্যাবহার
করে খুব সহজে নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব। সঠিক খাদ্যভ্যাস ও নিয়মিত কিছু ঘরোয়া উপায়
অবলম্বন করলে ডায়াবেটিস কমানো যায়।
খালি পেটে আপনার রক্তের সুগার যদি ১০০ mg/dL বা তার বেশি হয়ে থাকে তাহলে
আপনাকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। কারন, খালি
পেটে ডায়াবেটিসের মাত্রা ১০০ mg/dL এর বেশি হলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে এবং
জীবনধারা পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করতে হবে।
সূচিপত্রঃ খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
- খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
- ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
- ডায়াবেটিস কমানোর জন্য সঠিক ডায়েট অনুসরন করা
- পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম নিশ্চিত করা
- সকালে খালি পেটে যেসকল খাবার গ্রহন করা উচিত
- যেসকল খাদ্য প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর এড়িয়ে চলা উচিত
- বিভিন্ন অবস্থায় ব্লাড সুগারের স্বাভাবিক ও বিপজ্জনক মাত্রা
- ডায়াবেটিস হওয়ার কিছু সাধারণ লক্ষন
- ব্লাড সুগার পরীক্ষার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত
- ডায়াবেটিস নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
- পরিশেষে - খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে আজকে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর জন্য আমাদের অবশ্যই কিছু খাদ্যাভ্যাস ও
জীবন যাপনের ধারা পরিবর্তন করতে হবে। নিতমিত শারীরিক ব্যায়ামের সাথে পর্যাপ্ত
পরিমান ঘুম ও কিছু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করলেই সহজেই ডায়াবেটিস
কমানো বা নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব। আজকে আমরা ঠিক তেমনই কিছু উপায় সম্পর্কে
জানবো যার নিয়মিত অনুসরন করলে আপনারও যদি খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা
বেশি থাকে তাহলে তা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারবেন।
প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীদের এক গ্লাস হালকা
গরম পানি পান করা উচিত। কেননা, খালি পেটে গরম পানি খেলে শরীরের
মেটাবলিজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে
সাহায্য করে থাকে। এখন আমরা এমনই কিছু কার্যকরী উপায় সম্পর্কে নিচে জানবো যে
গুলো ব্যাবহার করে ঘরে বসেই আপনি ডায়াবেটিস বা রক্তের সুগার কমাতে
পারবেন।ডায়াবেটিস কমানোর উপায় নিচে আলোচনা করা হবে যে বিষয় গুলো নিয়ে তা
নিচে দেওয়া হলো।
- ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।
- ডায়াবেটিস কমানোর জন্য সঠিক ডায়েট পরিকল্পনা।
- পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
- যে সকল খাদ্য গ্রহন করা উচিত।
- যে সকল খাদ্য গ্রহন করা উচিত নয়।
- ডায়াবেটিস হওয়ার কিছু লক্ষন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা।
- ব্লাড সুগার পরীক্ষা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
ঘরোয়া অনেক নিয়ম রয়েছে যেগুলো অনুসরন করলে আপনি আপনার সুগারের মাত্রা
নিয়ন্ত্রনে আনতে পারবেন। সব চাইতে কার্যকরী ও সহজ উপায় হচ্ছে সকালে ঘুম থেকে
উঠে খালি পেটে হালকা কুসুম পানি পান করা। খালি পেটে গরম পানি খেলে
শরীরের মেটাবলিজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ
করতে সাহায্য করে থাকে। খালি পেটে পানি পান করা ছড়াও ক্যানফুল, লেমন বা আদা চা খেতে পারেন।
খালি পেটে পানি পান করা ছড়াও ক্যানফুল, লেমন বা আদা চা খেলে
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে। কারন, ক্যানফুল, লেমন বা আদা এই উপাদান গুলোতে এন্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান সমূহ রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রনে
সহায়ক। প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর খাবার যেমনঃ শাক-সবজি, প্রোটিন, আঁশযুক্ত
খাবার, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড গ্রহণ করা উচিৎ। শর্করা জাতীয় খাবারের
গ্রহণ কমিয়ে ফলমূলের সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। মনে রাখবেন, নিয়মিত
শারীরিক কার্যকলাপ যেমন হাঁটা বা ব্যায়াম রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এখন আমরা আমাদের ঘরে বা ঘরের আসে পাশে পাওয়া কিছু উপাদান ব্যাবহার
করে ডায়াবেটিস কমানোর নিয়ম সম্পর্কে জানবো।
মেথি বীজ সেবন করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন
বহু শতাব্দী ধরে আয়ুর্বেদ ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মেথি বীজ ব্যাবহার করে আসা হচ্ছে। মেথি বীজ একটি শক্রিশালী ভেষজ উপাদান। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। মেথির মধ্যে রয়েছে দ্রবণীয় ফাইবার যা শর্করার শোষণ কমিয়ে দেয় এবং
ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও মেথির
বীজে গ্যালাক্টোম্যানান নামক একটি বিশেষ ফাইবার রয়েছে যা রক্তের শর্করা
স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
মেথির বীজ একটি পরিষ্কার পাত্রে এক চামচ পরিমান নিয়ে পানিয়ে ভিজিয়ে রাখতে
হবে। সারা রাত ভেজানোর পর সকালে উঠে খালি পেটে সেই মেথির পানি পান করতে হবে
এবং মেথির বীজ গুলো চিবিয়ে খেতে পারেন।
এছাড়াও মেথি গুঁড়া করেও খাওয়া যায়। পরিমান মতো মেথি গুঁড়া করে এজটি কাঁচের
কৌটায় অথবা ফুড গ্রেড প্লাস্টিকের কৌটায় রেখে দিতে পারেন। প্রতিদিন সকালে
খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম পানির সঙ্গে এক চামচ মেথির
গুঁড়া মিশিয়ে পান করতে পারেন।
কালোজিরা সেবন করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন
কালোজিরা প্রাচীনকাল থেকেই ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যাবহার করা হয়ে আসছে। এটি
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর একটি উপাদান হিসেবে
পরিচিত। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও কালোজিরা বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের
জন্য সু-পরিচিত। কালোজিরাতে থাইমোকিনোন নামক এক ধরনের উপাদান থাকে
যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে। উক্ত উপাদানের
ফলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় ও ডায়াবেটিস কমাতে সাহায্য
করে।
আপনি চাইলে কালোজিরা সকালে ঘুম থেকে উঠে চিবিয়ে খেতে পারেন। এক্ষেত্রে সকালনে
খালি পেটে আধা চামচ থেকে এক চামচ পরিমান কালোজিরা চিবিয়ে খেয়ে হালকা কুসুম
গরম পানি পান করতে পারেন।
কালোজিরা চিবিয়ে খেতে সমস্যা বোধ বা স্বাদ ভালো না লাগার কারনে খেতে না চাইলে
আপনি কালোজিরার তেল সেবন করতে পারেন। প্রতিদিন সকালে এক চামচ কালোজিরার
তেল হালকা গরম পানির সাথে মিশিয়ে পান করতে পারেন।
তুলসি পাতার সাহায্যে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন
তুলসি পাতা বহু শতাব্দি ধরে আয়ুর্বেদ ও ইউনানি চিকিৎসায় ব্যাবহার করা হয়ে
আসছে। তুলসি পাতা হচ্ছে একটি অনন্য প্রাকৃতিক ভেষজ উদ্ভিদ। তুলসি পাতা রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ ভূমিকা
রাখে। তুলসি পাতায় বিশেষ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিক্যাল নামক
দুইটি উপাদান পাওয়া যায় যা ইনসুলিন উৎপাদন বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা
কমাতে সাহায্য করে থাকে।
আপনি চাইলে তুলসি পাতা সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চিবিয়ে খেতে পারেন।
প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ থেকে ৩টি তুলসি পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে
রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি মুখের দূর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে
থাকে।
আরোও পড়ুনঃ তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
এছাড়াও আপনি তুলসি পাতার রস, তুলসি পাতার চা অথবা তুলসি পাতা শুকিয়ে গুড়ো করে
খেতে পারেন। আপনি যেই ভাবেই তুলসি পাতা সেবন করেন না কেন এতে তুলসি পাতার
গুনগত মানের কোনো পরিবর্তন হয়ে না এবং উভয় ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে।
করলার জুস পান করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন
আমরা করলাকে অনেকে সবজি হিসেবে চিনে থাকলেও এর গুনাগুন সম্পর্কে জানি না।
করলার স্বাদ তিতা হওয়ার কারনে আমরা এই সবজি খেতে চাইনা। কিন্তু করলার কিছু
বিশেষ গুনাগুন আমাদের স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারি এবং এটি ডায়াবেটিসের মাত্রা
কমাতেও অনেক কার্যকরী। করলাতে থাকা চ্যারেন্টিন, পলিপেপটাইড-পি এবং ভিসিন
নামক উপাদানগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি
করতে সাহায্য করে থাকে। করলার জুস নিয়মিত খালি পেটে সেবনের
ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে থাকে।
এক থেকে দুইটি মাঝারি সাইজের করলা নিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে কেটে নিয়ে বিজ
গুলো বের করে ফেলতে হবে। এরপর একটি ব্লেন্ডারে উক্ত কাটা করলার সাথে এক গ্রাস
পানি নিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। আপনি করলার তিতা ভাব দূর করার জন্য
লেবুর রস ও আদা যোগ করতে পারেন। এরপর ব্লেন্ড কৃত জুস ভালোভাবে ছেকে নিয়ে
সকালে খালি পেটে সেবন করতে হবে।
করলার জুস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রাকৃতিক ওষুধ
হিসেবে কাজ করে। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা
কমাতে সাহায্য করে। সেই সাথে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা প্রতিরোধ করে থাকে।
নিয়মিত করলার জুস খালি পেটে এক টানা ২ থেকে ৩ মাস সেবন করলে টাইপ-২
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব।
নিম পাতা সেবন করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন
নিম পাতা একটি অনন্য ভেষজ উদ্ভিদ। অতীত কাল থেকে বিভিন্ন আয়ুর্বেদ
ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় নিম পাতার ব্যাবহার করা হয়ে আসছে। নিম পাতা
অ্যান্টি-ডায়াবেটিক, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক হিসেবে কাজ করে।
আমাদের বাড়ির পাশে পাওয়া নিম পাতা ব্যাবহার করেই আমরা সহজেই রক্তে
শর্করার মাত্রা কমিয়ে আনতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে ফেলতে পারি।
নিয়মিত নিম পাতার সেবনের ফলে ডায়াবেটিস অনেক অংশে নিয়ন্ত্রনে আসে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সরাসরি নিম পাতা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। গাছ থেকে
নামানো ২ থেকে ৩ টি তাজা নিম পাতা ভালোভাবে পরিষ্কার করে সকালে খালি পেটে
সরাসরি চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও নিম পাতার রস, নিম পাতার চা অথবা নিম
পাতা শুকিয়ে গরম পানির সাহায্যে সকালে খালি পেটে পান করলে ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রন সহ স্বাস্থের জন্য অনেক উপকারী।
পর্যাপ্ত পরিমান ঘুম নিশ্চিত করা
ঘুম আমাদের শরীরের সুস্থতা ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যাদের রক্তে সুগারের পরিমান বেশি বা ডায়াবেটিস
সমস্যায় আক্রান্ত তারা যদি নিয়মিত ও পরিমান মতো ঘুম না দেয় তাহলে তাদের
শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যার ফলে ইনসুলিন জাতীয় কোনো
কিছু কাজ করে না এবং রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি মারাত্নক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের জন্য নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানো উচিৎ।
সকালে খালি পেটে যেসকল খাবার গ্রহন করা উচিত
ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা
পালন করে খালি পেটে কিছু বিশেষ খাদ্য গ্রহন করা। কারন খালি পেটে কিছু বিশেষ
খাবার গ্রহন করলে তা আমাদের শরীরের পক্ষে উপকারী এবং সেই সাথে ইনসুলিন
সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। আমরা উপরে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে খালি পেটে
কিছু খাবারের কথা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। এখন আমরা এমন আরো কিছু খাবারের কথা
জানবো যেগুলো খালি পেটে গ্রহন করলে আমাদের স্বাস্থের উপকারীর
পাশাপাশি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সাহায্য
করবে।
- গরম পানি ও লেবুর রস
- ভিজানো মেথি বীজের পানি
- ভিজানো চিয়া সিড বা ফ্ল্যাক্স সিড
- নিম পাতার রস
- করলার জুস
- ভিজানো বাদাম
- কলা ও পেঁপে
- হালকা গরম দুধ ও মধু
- তুলসি পাতার রস
- দারুচিনি ভেজানো পানি
- কালোজিরা ও মধু
- ভিজানো কিসমিসের পানি
- অ্যালোভেরা জুস
- কাঠবাদামের দুধ
- মাখন বীজ ও দই (টক দই অধিক কার্যকরী)
- আনারসের রস
- জিরা পানি (মিষ্টি জিরা ব্যাতিত)
- ডাবের পানি
- কাঁচা শসা বা শসার পানি ইত্যাদি।
উপরের দেওয়া খাবার গুলো রক্তের শর্করা বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে
থাকে। তবে, আপনার যদি উপরে দেওয়া কোনো খাবার গ্রহনে সমস্যা থেকে থাকে (যেমনঃ
এলার্জি জনিত সমস্যা) তাহলে উক্ত খাবার না খাওয়াই উত্তম অথবা বিশেষজ্ঞ
ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে সেই সকল খাদ্য গ্রহন করা উচিৎ।
আরোও পড়ুনঃ আদা দিয়ে গ্রিন টি খাওয়ার উপকারিতা
যেসকল খাদ্য প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর এড়িয়ে চলা উচিত
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবার নির্বাচন করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন একটি কাজ।
কেননা, আপনি যদি সঠিক খাদ্য গ্রহন না করেন তখন আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা
বেড়ে যেতে পারে। তাই রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে সঠিক খাদ্য গ্রহন
করা অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ। এখন আমরা এমন কিছু খাদ্য সম্পর্কে জানবো
যেগুলো গ্রহনে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং
প্রত্যেক ডায়াবেটিস রোগীর এড়িয়ে চলা উচিত এই সকল খাদ্য থেকে।
- চিনিযুক্ত খাবার (যেমনঃ ক্যান্ডি, কেক, পেস্ট্রি ইত্যাদি)
- সাদা রুটি ও সাদা ভাত
- অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার (ফ্রাইড ফুড)
- চিনি ও মিষ্টি পানীয় (যেমনঃ সোডা, এনার্জি ড্রিঙ্ক ইত্যাদি)
- প্রক্রিয়াজাত করা মাংস (যেমনঃ হট ডগ, সসেজ ইত্যাদি)
- অ্যালকোহল
- সাদা আলু
- চিপস ও স্ন্যাকস
- দুধ ও মিষ্টান্ন
- মিষ্টি দই
- ফাস্ট ফুড (যেমনঃ বার্গার, ফ্রাইড চিকেন ইত্যাদি)
- মিষ্টি চা বা কফি
- রেড মিট (যেমনঃ গরুর মাংস)
- মিষ্টি জাতীয় সকল খাদ্য।
বিভিন্ন অবস্থায় ব্লাড সুগারের স্বাভাবিক ও বিপজ্জনক মাত্রা
পরীক্ষার ধরন | স্বাভাবিক | প্রিডায়াবেটিস | ডায়াবেটিস | বিপজ্জনক |
---|---|---|---|---|
খালি পেটে ( FBS) | ৭০-৯৯ mg/dL | ১০০-১২৫ mg/dL | ১২৬ mg/dL বা বেশি | ২৫০ mg/dL বা বেশি |
খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর (PPBS) | ১২০-১৪০ mg/dL | ১৪০-১৯৯ mg/dL | ২০০ mg/dL বা বেশি | ৩০০ mg/dL বা বেশি |
এ১সি (HbA1c - গড় ৩ মাসের ) | ৫.৭% এর নিচে | ৫.৭%-৬.৪% | ৬.৫% বা বেশি | ১০% বা বেশি |
ডায়াবেটিস হওয়ার কিছু সাধারণ লক্ষন
আপনার যদি ডায়াবেটিস হয়ে থাকে তাহলে নিচে দেওয়া কিছু লক্ষনের মাধ্যমে আপনি
প্রাথমিক ভাবে সনাক্ত করতে পারবেন যে আপনি ডায়াবেটিস এর মতো সমস্যাই
ভুগছেন কিনা। তবে নিচে দেওয়া লক্ষন গুলো সাধারণ মানুষেরও বিভিন্ন কারনে হতে
পারে। তাই লক্ষন গুলো আপনার মধ্যে দেখা গেলে ঘাবড়ে না গিয়ে বিশেষজ্ঞ
ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম হবে। ডায়াবেটিস হওয়ার কিছু সাধারণ
লক্ষন লিচে দেওয়া হলোঃ
- অতিরিক্ত তেষ্টা বা পিপাসা পাওয়া।
- অতিরিক্ত মূত্র ত্যাগ হওয়া।
- অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা।
- শরীরের ওজন কমে যাওয়া।
- তীব্র ক্লান্তি বা অবসন্নতা লাগা।
- ধোঁয়াশা বা অস্পষ্ট দৃষ্টি।
- চর্মরোগ বা ক্ষত হওয়া।
- হাত, পা বা গায়ে শীতলতা বা ঝিঁঝিঁ অনুভব হওয়া।
- ত্বকের শুষ্কতা বা চামড়া ফেটে যাওয়া।
- আন্তরায় বা দাঁতের সমস্যার সৃষ্টি ইতাদি।
ব্লাড সুগার পরীক্ষার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখা উচিত
ব্লাড সুগার পরিক্ষার সময় আমাদের কিছু দিক লক্ষ্য রাখতে হবে। আপনি যদি উপরে
দেওয়া কোনো মাধ্যম বা উপরের দেওয়া ডায়াবেটিস হওয়ার লক্ষন গুলো বেশির
ভাগ মিলে যায় তাহলে আপনার উচিৎ হবে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ
অনুযায়ী ডায়াবেটিস পরিক্ষা করা। ডায়াবেটিস পরিক্ষা করার জন্য কিছু বিষয়
খেয়ার রাখলে আপনি ঝামেলা ছাড়াই অল্প সময়ে ব্লাড সুগার পরীক্ষা করে ফেলতে
পারবেন।
- ফাস্টিং ব্লাড সুগার পরীক্ষা জন্য ৮-১০ ঘণ্টা খালি পেটে থাকুন।
- ব্লাড সুগার পরীক্ষার পূর্বে কফি বা চা পান থেকে বিরত থাকুন।
- পরীক্ষা করার আগে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
- ব্লাড সুগার পরীক্ষার পূর্বে ধূমপান বা অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন।
- প্রতিদিন একই সময়ে পরীক্ষা করা এবং ফলাফল যাচাই করা।
ডায়াবেটিস নিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ খালি পেটে ডায়াবেটিস কত হলে নরমাল?
উত্তরঃ খালি পেটে মানুষের রক্তে শর্করার পরিমাণ ৭ মিলি. মোল/লি এর বেশি
হলে ডায়াবেটিস আছে বলে ধরা হয়। তবে এক্ষেত্রে ইনসুলিন গ্রহন করার
প্রয়োজন পড়ে না।
প্রশ্নঃ স্বাভাবিক রক্তে শর্করার মাত্রা কত?
উত্তরঃ স্বাভাবিক রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০ - ৯৯ mg/dL (মিলিগ্রাম
পার ডেসিলিটার)
প্রশ্নঃ রক্তে শর্করার মাত্রা কত হলে ডায়াবেটিস হয়?
উত্তরঃ ১২৬ mg/dL (মিলিগ্রাম পার ডেসিলিটার) বা তার বেশি
হলে সাধারনভাবে ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।যদি দুবারের বেশি পরীক্ষায় ১২৬ mg/dL
বা তার বেশি পাওয়া যায়, তাহলে এটি ডায়াবেটিস হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস এর সর্বোচ্চ পয়েন্ট কত?
উত্তরঃ ডায়াবেটিস এর সর্বোচ্চ পয়েন্ট নির্ভর করে পরীক্ষার ধরণ
এবং শারীরিক অবস্থার উপরে। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা ৩০০ mg/dL বা তার
বেশি হলে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং ৫০০ mg/dL বা তার বেশি
হলে জীবনহানির ঝুঁকি পর্যায় ধরা হয়।
প্রশ্নঃ ব্লাড সুগার খুব বেশি হলে করনীয় কি?
উত্তরঃ ব্লাড সুগার খুব বেশি হলে নিচে দেওয়া পদ্ধতি গুলো অনুসরন করতে
পারেনঃ
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
- ইনসুলিন বা ওষুধ নেওয়ার নিয়ম মেনে চলুন (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)।
- নিয়মিত ব্লাড সুগার চেক করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- যদি রক্তে শর্করার মাত্রা ৩০০ mg/dL বা তার বেশি হয় তাহলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস কত হলে ইনসুলিন নিতে হয়?
উত্তরঃ ফাস্টিং ব্লাড সুগার ২৫০ mg/dL বা বেশি হলে বা HbA1c ৯%+ হলে
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন গ্রহন করা উচিৎ।
প্রশ্নঃ বিভিন্ন অবস্থায় ব্লাড সুগারের স্বাভাবিক ও বিপজ্জনক মাত্রা কত?
উত্তরঃ বিভিন্ন অবস্থায় ব্লাড সুগারের স্বাভাবিক ও বিপজ্জনক মাত্রার
তালিকা দেওয়া হলোঃ
পরীক্ষার ধরন | স্বাভাবিক | প্রিডায়াবেটিস | ডায়াবেটিস | বিপজ্জনক |
---|---|---|---|---|
খালি পেটে ( FBS) | ৭০-৯৯ mg/dL | ১০০-১২৫ mg/dL | ১২৬ mg/dL বা বেশি | ২৫০ mg/dL বা বেশি |
খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর (PPBS) | ১২০-১৪০ mg/dL | ১৪০-১৯৯ mg/dL | ২০০ mg/dL বা বেশি | ৩০০ mg/dL বা বেশি |
এ১সি (HbA1c - গড় ৩ মাসের ) | ৫.৭% এর নিচে | ৫.৭%-৬.৪% | ৬.৫% বা বেশি | ১০% বা বেশি |
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস কী?
উত্তরঃ ডায়াবেটিস হলো এমন একটি রোগ যেখানে শরীর ইনসুলিন
ঠিকভাবে তৈরি করতে পারে না ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এমন
অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ কী?
উত্তরঃ ডায়াবেটিস হওয়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে
রয়েছেঃ জেনেটিক্স (বংশগত), অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, হরমোনজনিত
সমস্যা এবং মানসিক চাপ ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিসের লক্ষণ কী কী?
উত্তরঃ অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, বেশি ক্ষুধা
লাগা, ক্লান্তি অনুভব করা, চোখে ঝাপসা দেখা, শরীরের ক্ষত দ্রুত না শুকানো
এবং হাত-পা ঝিঁঝি ধরা।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস কি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়?
উত্তরঃ বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস স্থায়ী নিরাময় সম্ভব নয়।
তবে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে
রাখা সম্ভব।
প্রশ্নঃ কোন খাবার ডায়াবেটিস রোগীদের এড়িয়ে চলা উচিত?
উত্তরঃ চিনি ও মিষ্টি খাবার, সফট ড্রিংক, সাদা চাল ও রুটি, ফাস্ট
ফুড, ভাজা খাবার, প্রসেসড ফুড, সাদা আলু এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয়
খাদ্য ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস কি বংশগতভাবে হয়?
উত্তরঃ পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থেকে থাকলে
অন্যদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবন থেকে থাকে।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস কি ছোয়াচে রোগ?
উত্তরঃ না! ডায়াবেটিস ছোয়াচে রোগ নয়। তবে, পরিবারের কারও
ডায়াবেটিস থেকে থাকলে অন্যদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবন থেকে থাকে।
প্রশ্নঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সেরা খাদ্য কী কী?
উত্তরঃ শাকসবজি, কম কার্বনেট যুক্ত ফল (যেমনঃ জাম, আপেল,
নাশপাতি ইত্যাদি) বাদাম, ওটস, লাল চাল, চিয়া সিড, মাছ, ডাল, মেথি
বীজ এবং করলা ইত্যাদি।
পরিশেষে - খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায়
খালি পেটে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে আমরা উপরে বিস্তারিত আলোচনা
করেছি। আমরা আশা বাদি যে আপনি যদি উপরের দেওয়া নিয়ম গুলো নিয়মিত ও পরিমান মতো
অনুসরন করেন তাহলে আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে অনেক সহায়ক ও সহজত্বর হবে।
বিশেষ করে উপরে দেওয়া যে খাবার গুলো ও যেকল খাদ্য গ্রহন নিষেধ করা হয়েছে
সেগুলো মেনে চললে অল্প দিনের মধ্যেই আপনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে ভালো
ফলাফল পাবেন বলে আশা করা যায়।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url