ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় জানতে চান? অ্যালোভেরা, লেবুর রস, নারকেল তেল, হলুদ, মধু-দারচিনি, দই ও গ্রিন টি ব্যাবহার করে ঘরে বসে প্রাকৃতিক উপায়ে দূর করুন ব্রণের দাগ। ব্রণের দাগ দূর করে স্বাস্থকর ত্বক পেতে আজই শুরু করুন পার্শপ্রতিক্রিয়া মুক্ত এই ঘরোয়া ট্রিটমেন্ট।
ঘরোয়া উপায় ব্যাবহার করে সহজেই পার্শপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই ১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করা সম্ভব। আমরা আজকে জানবো কিভাবে আপনারা ঘরে থাকা স্বাধারন কিছু উপকরন দিয়ে ত্বকের ব্রণ জাতীয় সকল সমস্যা দূর করতে পারবেন। নিচে ঘরোয়া উপায়ে ব্রণের দাগ দূর করার কার্যকরি কিচু উপায় দেওয়া হলো।
সূচিপত্রঃ ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
- ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
- ১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়
- তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়
- এক রাতে ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়
- ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়
- ব্রণ দূর করার ফেসওয়াশ
- ব্রণ দূর করার ক্রিমের নাম
- ব্রণের দাগ দূর করার পার্মানেন্ট সমাধান
- ব্রণের দাগ দূর করার প্রশ্ন ও উত্তর (QNA)
- শেষ কথা - ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় অনেক রয়েছে। কিন্তু আজকে আমরা শুধু সেই সকল
ঘরোয়া উপায় জানবো যেগুলোর মাধ্যমে অতি দ্রুত ব্রণের দাগ আমাদের
ত্বক থেকে উঠে যায়। এই পদ্ধতি গুলো ব্যাবহার করার জন্য আমরা শুধু ঘরে পাওয়া
যায় এমন কিছু সহজ উপাদান ব্যাবহার করবো। উপাদান গুলো হচ্ছে অ্যালোভেরা,
লেবুর রস, নারকেল তেল, হলুদ, মধু-দারচিনি, দই ও গ্রিন টি ইত্যাদি। আসুন এখন
আমরা জানি কিভাবে এই উপাদান গুলো ব্যাবহার করে ঘরে বসেই ব্রণের দাগ দূর
করা যায়।
অ্যালোভেরা জেল ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা
একটি তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল বের করে তা সরাসরি ব্রণের
দাগের উপর লাগাতে হবে।ব্রণের দাগের উপর অ্যালোভেরা জেল লাগানোর পর সেটি ৩০
থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিতে হবে। উক্ত সময় রেখে দিলে জেল গুলো শুকিয়ে যাবে তখন
ঠান্ডা পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব সময়
তাজা অ্যালোভেরা পাতা থেকে জেল নেওয়ার শেষ্টা করবেন। বাজারে পাওয়া
প্যাকেট জাত অ্যালোভেরা জেলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো থাকে।
অ্যালোভেরাতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। যা
ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদনদে বাধা প্রদান করে এবং ত্বকে থাকা ব্রণ সহ
ব্রণের দাগ নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে।অ্যালোভেরাতে থাকা
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ত্বককে সুস্থ ও ব্রণ
মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যাবহার
করা উচিত এর চাইতে বেশি ব্যাবহার করলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যেতে পারে।
আরোও পড়ুনঃ অ্যালোভেরার অবাক করা ১০টি গুন
লেবুর রস ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা
লেবুর রস ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি লেবু
কেটে নিয়ে একটি পরিষ্কার বাটিতে রস চিপে নিতে হবে। এরপর একটি পরিষ্কার কাপড়
অথবা তুলার সাহায্যে উক্ত লেবুর রস ত্বকের যে জাইগাতে ব্রণ রয়েছে সেখানে
আলতো করে লাগাতে হবে। লেবুর রস লাগিয়ে বেশিক্ষন রাখা যাবে না। সর্বোচ্চ ১
মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
উল্লেখ্যঃ লেবুর রস অ্যাসিডিক হওয়ার কারনে যাদের ত্বক সংবেদনশীল
তাড়া এই পদ্ধতি এড়িয়ে চলুন, কারন সংবেদনশীল ত্বকে লেবুর রস লাগালে
জালাপুড়া করতে পারে এবং সেই সাথে ত্বকে লালচে দাগ ও চুলকানির মতো সমস্যা দেখা
দিতে পারেন। তাছাড়াও লেবুর রস লাগানোর পর রোদে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে
হবে। সংবেদনশীল ত্বক ব্যাতিত অন্যান্য বিশেষ করে তৈলাক্তক ত্বকে এই
পদ্ধতি ভালো কাজ করে।
নারকেল তেল ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা
রাতে ঘুনামোর আগে ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। আপনি চাইলে ফেসওয়াশ
ব্যবাওহার করতে পারেন। কোন ধরনের ফেসওয়াশ ব্রণ ভালো করে তা নিচের
টপিক'সে আলোচনা করা হবে। ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর শুকিয়ে নিতে হবে।
এরপর নারকেল তেল অল্প করে নিয়ে সমস্ত ত্বক আলতো ভাবে লাগাতে হবে। সকালে উঠে
ঠান্ডা পানি দিয়ে ত্বক সুন্দর ভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
আমাদের ত্বকে স্কার টিস্যু নামক একধরনের টিস্যু থাকে যা মূলত আমাদের
ব্রণের অন্যতম কারন। নিয়মিত নারিকেল তেল আমাদের ত্বকে লাগানো হলে
এই স্কার টিস্যুর পরিমান কমতে থাকে এবং ত্বককে নরম করতে সাহায্য করে। এই
পদ্ধতি মূলত সকল প্রকার ত্বকের উপর কার্যকরি তবে যাদের ত্বক তৈলাক্তক তাদের
ত্বক আরো তৈলাক্তক হতে পারে। তাছাড়া বাঁকি সকল ত্বকে এটি কার্যকরি।
হলুদ ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা
এক চামচ কাঁচা হলুদের সাথে এক চামচ দই ভালোভাবে মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে
দিতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি কাঁচা হলুদের পরিবর্তে স্বপ্ন হলুদের গুঁড়া
ব্যবহার করতে পারেন তবে কাঁচা হলুদ বেশি কার্যকরী ও দই হিসেবে টক দই ব্যাবহার
করতে হবে। কারন টক দই-তে চিনির পরিমান কম থাকে। উক্ত পেস্ট মুখে লাগিয়ে ২০
থেকে ৩০ মিনিট রেখে দিতে হবে। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে ত্বক
পরিষ্কার করে নিতে হবে।
হলুদে থাকা অ্যান্টিসেপটিক ত্বকের ক্ষত বা দাগ নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে
এবং দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের গঠন সুন্দর করে তুলে। তাছাড়াও
হলুদের থাকা কুরকুমিন যা একপ্রকার শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং
ত্বকের প্রদাহ বা জালাপুড়া কমিয়ে ব্রণ ও এর দাগ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
মধু ও দারচিনি ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা
অতীত কাল থেকেই মধু ও দারচিনি ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা আসছে। এক
চামচ মধুর সাথে সামান্য দারুচিনি খুব ভালোভাবে মিশ্রন করে নিতে হবে। এরপর
ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করে উক্ত পেস্ট লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রেখে দিতে
হবে। উক্ত সময় পার হওয়ার পর মুখ আবারো ভালোভাবে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে
হবে। এভাবে সপ্তাহে এক থেকে দুই বার এই পেস্ট ত্বকে লাগাতে হবে।
মধুতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান হাইড্রোজেন পারক্সাইড
সংক্রমণ প্রতিরোধ করে থাকে এবং ব্রণ দূর করা থেকে শুরু করে ত্বকের
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি ও আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। আপর দিকে দারচিনি
রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় যার ফলে ত্বকে থাকা দাগ ধীরে ধীরে হালকা হতে শুরু করে
এবং এই পদ্ধতি দীর্ঘদিন অনুসরন করলে ত্বকে থাকা ব্রণের দাগ চিরতরে দূর
হয়ে যায়।
দই ও গ্রিন টি ব্যাবহার করে ব্রণের দাগ দূর করা
প্রথমে দুই চামচ এর মতো দই নিতে হবে এবং এক চামচ গ্রিন টি নিতে হবে। এখানে দই
হিসেবে টক দই ব্যাবহার করলে বেশি ভালো হয়। উক্ত দই ও গ্রিন টি ভালোভাবে
মিশিয়ে কিছুক্ষন রেখে দিতে হবে। রেখে দেওয়ার পর তা মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০
থেকে ২৫ মিনিট এর মতো রেখে দিতে হবে। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ভালোভাবে মুখ
পরিষ্কার করে নিতে হবে। সপ্তাহে তিন থেকে চার বার এই রেমেডি বা
ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যাবহার করতে পারেন।
দই ও গ্রিন টি ত্বকের জন্য উপকারী দুটি প্রাকৃতিক উপাদান যা ব্রণের দাগ কমাতে
সাহায্য করে। দই এ ল্যাকটিক এসিড থাকে যা ত্বকের মৃত কোষকে ধ্বংস করে নতুন
করে কোষ উৎপন্ন করতে সাহয্য করে থাকে। সেই সাথে দই প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার
হিসেবে কাজ করে ও ত্বক নরম রাখে। অপরদিকে গিন টি-তে
থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের প্রদাহ কমায় ও দাগ হালকা করতে
সাহায্য করে। সেই সাথে ত্বক মসৃন ও ব্রণের দাগ কমাতে সাহায্য করে থাকে।
১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করার উপায়
ব্রণেরদাগ এক দিনে দূর করা কিছুটা কঠিন কাজ হলেও আপনি কিছু রেমেডি বা ঘরোয়া
কিছু পদ্ধতি ব্যাবহার করে আপনি আপনার ত্বকের ব্রণের সমস্যার সমাধান করে
নিতে পারবেন। উপরে দেওয়া পদ্ধতি নিয়মত ব্যবহার করে আপনি মাত্র কয়েক
সপ্তাহের মধ্যে আপনার ত্বকের ব্রণের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন। কিন্তু
আপনি যদি চান রাতারাতি বা একদিনের মধ্যে ব্রণের দাগ দূর করতে তাহলে নিচে
এমন কিছু মাধ্যম দেওয়া হল সেগুলো অনুসরণ করলে আপনি একদিনের মধ্যে কিছুটা
হলেও আপনার ব্রণের দাগ দূর করতে পারবেন।
উল্লেখ্যঃ নিচে এমন কিছু উপায় বলে দেওয়া হবে যেগুলো করার জন্য আপনার কিছু
উপাদান ক্রয় করার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উক্ত উপাদান সমূহ আগে
থেকেই ক্রয় করে রাখতে পারেন এবং ব্যবহার করে ফলাফল যাচাই করতে পারেন। চলুন
এখন আমরা একদিনে ব্রণের দাগ দূর করার কিছু উপায় সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
মুলতানি মাটি ব্যাবহার করে ১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করা
মুলতানি মাটি ত্বকের জন্য অনেক উপকারী একটি উপাদান। তবে এটি সত্য যে এক
দিনে মুলতানি মাটি ব্যবহার করে ত্বকের সম্পন্ন ব্রণ দূর করা সম্ভব নয়।
তবে মুলতানি মাটির সাথে বিশেষ কিছু উপাদান মিশে ব্যবহার করলে এক রাতের মধ্যে
ব্রণ এর হাত থেকে ভালো একটি ফলাফল পাওয়া সম্ভব। আপনি যদি দ্রুত সমাধান
পেতে চান তাহলে নিচের দেওয়া পদ্ধতিটি অনুসরণ করতে পারে।
প্রথমে একটি পরিষ্কার বাকিতে এক চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে এক চামচ লেবুর রস
এবং এক চামচ গোলাপজল মিশিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে নিতে হবে। তারপর উক্ত
পেস্টটি মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিতে হবে তারপর ঠান্ডা পানি
দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এই পেস্টটি ব্যবহারের ফলে একদিনের মধ্যে ব্রণ
হালকা হতে শুরু করে।
শশার রস ব্যাবহার করে ১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করা
রূপচর্চার জন্য শশা একটি খুবই উপকারী উপাদান। কারণ নিয়মিত তোকে শসার
ব্যবহারের ফলে ত্বক ঠান্ডা থাকে, ডিহাইড্রেট থেকে রক্ষা পায় এবং ত্বকের দাগ
হালকা করতে সাহায্য করে। শশার সাথে কিছু উপাদান মিশিয়ে ত্বকে নিয়মিত
ব্যবহার করলে একদিনের মধ্যে ব্রণ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।উপাদান গুলো
হচ্ছে লেবুর রস, মুলতানি মাটি, অ্যালোভেরা জেল ইত্যাদি।
প্রথমে একটি বাটিতে দুই চামচ পরিমাণ শসার রস নিতে হবে। এরপর উক্ত রসের সাথে
এক চামচ পরিমাণ লেবুর রস, মুলতানি মাটি অথবা অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশ্রণ
করে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। উপরের তিনটি উপাদানের মধ্যে আপনি একসঙ্গে একটি
উপাদানও ব্যবহার করতে পারেন। এরপর তো পেস্ট মুখে লাগিয়ে ১৫ থেকে ৩০
মিনিটের মধ্যে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এর ফলে একদিনের মধ্যেই
ব্রণ কিছুটা হলেও কমে যাবে। তবে সপ্তাহে তিন থেকে চারবার ব্যবহার করলে ব্রণ
একদম নিরাময় হয়ে যাবে বলে আশা করা যায়।
আপেল ও মধুর মিশ্রণ ব্যাবহার করে ১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করা
আপেলে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও সেই সাথে মধুতে থাকা এন্টি
ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এই দুই উপাদান একত্র মিশ্রণ
করে ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয় এবং ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করতে
সাহায্য করে। তবে ব্রণ মুখ থেকে একবারে নিরাময় করার জন্য এই দুই উপাদান
একত্র মিশ্রণ করে সপ্তাহে তিন থেকে চার বার ব্যবহার করতে পারেন।
একটি আপেল অর্ধেক করে কেটে তার সাথে এক চামচ মধু নিয়ে একটি ব্লেন্ডারে
ভালোভাবে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। পেস্টটি আপনি যে কোন মাধ্যমে তৈরি করে
নিতে পারেন। এরপর উক্ত পেস্ট ত্বকের যেই যেই জায়গায় ব্রণ রয়েছে সেখানে
ভালোভাবে লাগাতে হবে। এরপর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে
ফেলতে হবে। আপেলে থাকা ভিটামিন সি ব্রণের দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।
কাঁচা হলুদ ও চন্দনকাঠের গুঁড়ো ব্যাবহার করে ১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করা
ত্বকের যত্নে চন্দনকাঠের ব্যাবহার অতীত কাল থেকেই করে আসছে। তাই কাঁচা
হলুদের সঙ্গে চন্দন কাঠের গুঁড়ো ব্যবহার করে আপনি একদিনের মধ্যেই
ব্রণের দাগ অনেকটাই হালকা করতে পারবেন। কারণ কাঁচা হলুদে থাকা
এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও আন্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানসমূহ ত্বকে থাকা দলের দাগ
হালকা করতে সাহায্য করে এবং চন্দন কাঠের গুড়ো ত্বককে ঠান্ডা করে এবং ত্বকেত
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।
এক চামচ কাঁচা হলুদের সঙ্গে এক চামচ চন্দন কাঠের গুঁড়ো ভালোভাবে মিশ্রণ করে
নিতে হবে। আপনি এর সঙ্গে কাঁচা দুধ অথবা এক চামচ মধু ব্যবহার করতে পারেন তবে
এটি আনুষাঙ্গিক। এরপর উক্ত মিশ্রণ মুখে ভালোভাবে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের
মধ্যে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। ভালো ফলাফল পেতে রাতে ঘুমানোর আগে
এ পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখতে পারেন।
নিম পাতা ব্যাবহার করে ১ দিনে ব্রণের দাগ দূর করা
নিম পাতাতে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের জন্য খুবই উপকারি একটি উপাদান। এই উপাদান
গুলোর কারনেই এক দিনে ব্রণের দাগ দূর করা সম্ভব। তবে এটি সত্য যে এক
দিনে পুরোপুরি ভাবে ব্রণের দাগ দূর করা না গেলেও কিছুটা হলেও দাগ দূর
হবে এবং এর নিয়মিত ব্যাবহারে ফলে ব্রণের দাগ চিরতরে নিরাময় করা সম্ভব।
আপনি চাইলে বিভিন্ন ভাবে নিম পাতা মুখে ব্যাবহার করতে পারেন। নিম পাতা
সরাসরিও ত্বকে ব্যাবহার করা যায় তবে ভালো ফলাফল পেতে নিম পাতার সঙ্গে
হলুদ, গোলাপ জল ইত্যাদি ব্যাবহার করতে পারেন। এক মুঠো নিম পাতার সঙ্গে
এক চামচ হলুদ, গোলাপ বা অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে ভালোভাবে পেস্ট করে মুখে
২০ থেকে ৩০ মিনিট লাগিয়ে রেখে দিতে হবে। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার
করলেই দেখতে পাবেন দাগ কিছুটা নিরাময় হয়ে গেছে।
তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়
আমাদের ত্বকে সিবাম নামক এক ধরনের প্রকৃতিক তেল থাকে যার অতিরিক্ত উৎপাদনের
ফলে আমাদের ত্বক তৈনাক্তক হয়ে যায় এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবের ফলে
ত্বকের গ্রন্থি বন্ধ হয়ে ঐ অতিরিক্ত তেলের প্রভাবে ব্রণ সৃষ্টি করে। তবে
ত্বকের সঠিক যত্ন ও কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর
করা সম্ভব। এখন আমরা কিছু নিয়ম জানবো যেগুলো অনুসরন করলে অল্প
সময়ে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা সম্ভব হবে।
আমরা উপরে ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করার অনেক গুলো নিয়ম দেখেছি যার মধ্যে কিছু
নিয়ম অনুসরন করলে আপনি আপনার তৈলাক্তক ত্বক থেকে ও তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ
থেকে রক্ষা পেতে পারেন। আমরা এখন উপরে দেওয়া কিছু নিয়ম গুলো দেখবো যেগুলো
ব্যাবহার করলে আপনাকে আলাদা ভাবে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার উপায়
জানার প্রয়োজন হবে না বলে আশা করা যায়।
নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করা ও কার্যকরী ঘরোয়া ফেসপ্যাক
নিয়মিত দিনে দুই থেকে তিন বার ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে
সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমানোর আগে অয়েল-কন্ট্রোল ফেসওয়াশ দিয়ে
ভালোভাবে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে। ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করার
জন্য সালিসাইলিক অ্যাসিড বা চারকোলযুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করতে হবে। সব
সময় ত্বক ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। গরম বা হালকা কুসুম পানি মুখে
ব্যাবহার থেকে এড়িয়ে চলতে হবে কারন এর ফলে ত্বক শুষ্ক ও অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন
করতে পারে।
কার্যকরী ঘরোয়া ফেসপ্যাকঃ তৈলাক্তক ত্বকের জন্য কিছু কার্যকরী ঘরোয়া ফেসপ্যাক
রয়েছে যেগুলো নিয়মিত ব্যাবহার করলে ত্বক থেকে অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বন্ধ হবে
এবং ত্বক নরম ও মসৃন হতে সাহায্য করবে। উক্ত ঘরোয়া ফেসপ্যাক আমরা উপরে আলোচন
করে এসেছি তবুও নিচে তালিকা আকারে দেওয়া হলো আপনি চাইলে সেগুলো দেখে অনুসরণ
করতে পারেন।
- অ্যালোভেরা জেল ব্যাবহার করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- লেবুর রস ব্যাবহার করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- হলুদ ব্যাবহার করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- মধু ও দারচিনি ব্যাবহার করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- দই ও গ্রিন টি ব্যাবহার করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- মুলতানি মাটি ব্যাবহার করে করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- শশার রস ব্যাবহার করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- আপেল ও মধুর মিশ্রণ ব্যাবহার করে করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- কাঁচা হলুদ ও চন্দনকাঠের গুঁড়ো ব্যাবহার করে করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
- নিম পাতা ব্যাবহার করে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করা
উল্লেখ্যঃ উপরে দেওয়া সকল ঘরোয়া উপায়ে তৈলাক্ত ত্বকের ব্রণ দূর করার
পদ্ধতি উপরে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আপনি চাইলে সেগুলো অনুসরন করে দেখতে
পারেন।
আরোও পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল
এক রাতে ব্রণ দূর করার ঘরোয়া উপায়
এক রাতে ব্রণ দূর করা পুরোপুরি সম্ভব নয়। তবে প্রাকৃতিক কিছু উপাদান
ব্যবহার করে ব্রণ দ্রুত শুকিয়ে ছোট করা এবং লালচে ভাব কমানো সম্ভব। এখন আমরা
এমনই কিছু নিয়ম জানবো যেগুলো ব্যাবহার করে আপনি এক রাতের মধ্যে আপনার ব্রণ
দ্রুত শুকিয়ে ছোট ও লালচে ভাব কিছুটা দূর করতে পারবেন।
টুথপেস্ট দিয়ে এক রাতে ব্রণ দূর করার উপায়ঃ রাতে ঘুমানোর আগে হাতের
আঙ্গুলে হালকা টুটপেস্ট লাগিয়ে যেখানে ব্রণ রয়েছে সেখানে হালকা করে লাগিয়ে
ঘুমিয়ে পড়তে হবে। তবে টুটপেস্ট অবশ্যই রঙ বিহীন বা সাদা রঙের হতে হবে এবং জেল
টুটপেস্ট ব্যাবহার করা যাবেনা। উল্লেখ্যঃ যাদের ত্বক সংবেদনশীল তারা এই
পদ্ধতি ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন। কারন সংবেদনশীল ত্বকে টুথপেস্ট
লাগালে ত্বক শুষ্ক করতে পারে ও জালাপুড়া করতে পারে।
বরফের ব্যবহার করে এক রাতে ব্রণ দূর করার উপায়ঃ রাতে ঘুমানোর আগে একটি
সুতি কাপড়ে এক টুকরা বরফ নিয়ে যেই জাইগায় ব্রণ রয়েছে সেখানে ৫ থেকে ১০ মিনিট
চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। আপনি চাইলে সুতি কাপড়ের পরিবর্তে টিস্যু পেপার
ব্যাবহার করতে পারেন। এর ফলে ব্রণের লালচে ও ফোলা ভাব কমাতে সাহায্য করে
থাকে।
ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়
সাধারণত ব্রণের গর্ত দূর করা কিছুটা কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। তবে কিছু নিয়ম
অনুসরণ করে চললে ঘরোয়া ভাবেই ধীরে ধীরে ব্রণের গর্ত দূর করা সম্ভব। তবে
ব্রনের গর্ত দূর করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য ধারন করতে হবে এবং নিয়মিত
নিচ্র দেওয়া পদ্ধতি গুলো অনুসরন করতে হবে। আর আপনার যদি ব্রণের গর্ত
বেশি হয়ে থাকে তাহলে আপনার উচিত হবে একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।
অ্যালোভেরা ব্যাবহার করে ব্রণের গর্ত দূর করাঃ অ্যালোভেরাতে
অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। যা ত্বক থেকে
অতিরিক্ত তেল উৎপাদনদে বাধা প্রদান করে এবং ত্বকে থাকা ব্রণ সহ ব্রণের দাগ
ও গর্ত নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে। অ্যালোভেরাতে থাকা
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ত্বককে সুস্থ ও ব্রণ
মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যাবহার
করা উচিত। নিয়মিত এর ব্যাবহারে ব্রণের গর্ত দূর করা সম্ভব।
কাঁচা হলুদ ও দই ব্যাবহার করে ব্রণের গর্ত দূর করাঃ হলুদে থাকা
অ্যান্টিসেপটিক ত্বকের ক্ষত বা গর্ত নিরাময়ে সাহায্য করে থাকে এবং দইয়ের
ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের গঠন সুন্দর করে তুলে। তাছাড়াও হলুদের থাকা কুরকুমিন
যা একপ্রকার শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান।
এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের প্রদাহ বা জালাপুড়া কমিয়ে ব্রণ
ও এর গর্ত দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
নিম পাতা ব্যাবহার করে ব্রণের গর্ত দূর করাঃ নিম পাতাতে থাকা
অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান
ত্বকের জন্য খুবই উপকারি একটি উপাদান। এই উপাদান গুলোর কারনে ত্বকের বিভিন্ন
সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। অতীত কাল থেকেই ব্রণ ও ব্রণের দাগ নিরাময়ে নিম পাতা
ব্যাবহার করা হয়ে আসছে।
উপরের দেখানো মাধ্যম ছাড়াও আরো অনেক ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো ব্যাবহার করে
ব্রণের গর্ত দূর করা সম্ভব। আমরা উপরে যে ব্রণের দাগ দূর করার বেশ কিছু
মাধ্যম দেখেছি আপনি চাইলে সেগুলোও ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। তবে একটি বিষয়
লক্ষ্য রাখবেন যে উপরে দেওয়া কিছু উপাদান আপনার ত্বকে সহ্য নাও করতে পারে সে
ক্ষেত্রে সেই উপাদান ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন অথবা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে
ব্যাবহার করুন। আপনার যদি ত্বকে বেশি গর্ত থেকে থাকে তাহলে আপনি
চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন ও চিকিৎসা গ্রহন করাই উত্তম হবে।
তবে উপরের দেওয়া ঘরোয়া পদ্ধতি অত্যান্ত উপকারী ও কার্যকরী।
ব্রণ দূর করার ফেসওয়াশ
ব্রণের দাগ দূর করার জন্য ফেসওয়াশ অনেক গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালন করে
থাকে। কেননা ফেসওয়াশ ব্যাবহারের ফলে ত্বকে থাকা অতিরিক্ত তেল,
ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করে ত্বককে সুন্দর ও মসৃন করে তুলে। তবে ফেসওয়াশ
ব্যাবহার বা ক্রয় করার পূর্বে অবশ্যই কিছু দিন লক্ষ্য রেখে কিনতে হবে। কেননা
ব্রণ দূর করার জন্য আমরা যে ফেসওয়াশ ক্রয় করবো তাতে কিছু বিশেষ উপাদান থাকতে
হবে। নিচে এমন কিছু উপাদান দেওয়া হলো যেগুলো থাকলে আপনি সেই
ফেসওয়াশ ব্রণ দূর করার ব্যাবহার করতে পারেন।
- সালিসাইলিক অ্যাসিডযুক্ত ফেসওয়াশ
- বেঞ্জয়েল পারক্সাইডযুক্ত ফেসওয়াশ
- Tea Tree Oil ফেসওয়াশ
- গ্রীন টি ফেসওয়াশ
- ফরুট এসিড ফেসওয়াশ ইত্যাদি।
উপরের দেওয়া উপাদান যদি আপনার ফেসওয়াশে থেকে থাকে তাহলে আপনি ব্রণ দূর করার
জন্য ওই ফেসওয়াশ ব্যাবহার করতে পারেন। উক্ত উপাদান গুলো ত্বকের মৃত কোষকে
ধ্বংস করে নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে এবং ব্রণ ও ব্রণের দাগ নিরাময় করতে
সাহায্য করে থাকে। ভালো ফলাফল পেতে দিনে দুই বার ব্যাবহার করতে পারেন।
বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে এবং সকালে ঘুম থেকে উঠার পর। অল্প কিছুদিন
ব্যাবহার করলেই ত্বকে থাকা ব্রণ ও ব্রণের দাগ দূর করা শুরু করবে।
ব্রণ দূর করার ক্রিমের নাম
ব্রণ দূর করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্রিম বাংলাদেশে পাওয়া যায়। তবে ব্রণ দূর
করার জন্য যেকোনো ক্রম ব্যাবহারের পূর্বে অবশ্যই পরিক্ষা করে নিবেন উক্ত
ক্রিম আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত কি না। আপনার ত্বকের জন্য উক্ত ক্রিম
উপযুক্ত কিনা তা পরিক্ষা করার জন্য প্যাচ টেস্ট করে দেখতে পারেন। তবে পরামর্শ
থাকবে এইসকল ক্রিম ব্যাবহারের পূর্বে নিকটস্থ চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের
পরামর্শ নেওয়া। এখন কিছু ব্রণ দূর করার ক্রিমের নাম নিচের দেওয়া হলোঃ
- Selsun Blue ঃ এটি একটি সিকোয়ালেন এবং সালফার যুক্ত ক্রিম যা ব্রণ এবং অতিরিক্ত ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
- সেলসনঃ এটি ব্রণ এবং ত্বকের জালাপুড়া কমাতে সাহায্য করে থাকে।
- নীম ক্রিমঃ ব্রণ ও ব্রণের দাগ কমায়।
- ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ারঃ ত্বক পরিষ্কার ও ব্রণ নিরাময় করে থাকে।
- পেপারমিন্ট ক্রিমঃ ত্বকের ব্রণ দূর করে ত্বককে শীতল করে থাকে।
- ডার্মা ফেস ক্রিমঃ ব্রণের হালকা দাগ ও ত্বক সুন্দর করে থাকে।
- ভ্যাসলিন অ্যান্টি-অ্যাকনি ক্রিমঃ ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
- পলসেন্সঃ ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
উপরোক্ত ক্রিম গুলো আপনি বিভিন্ন কসমেটিক্স অথবা বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম
যেমন দারাজ (DARAZ) এ পেয়ে যাবেন। উপরোক্ত ক্রিম গুলো অতিরিক্ত ব্যাবহার
উপকারের চাইতে ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই অতিরিক্ত ব্যাবহার না করাই উত্তম।
ব্যাবহারের পূর্বে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিজ
দায়িত্বে ব্যাবহার করবেন।
ব্রণের দাগ দূর করার পার্মানেন্ট সমাধান
ব্রণের দাগ দূর করার পার্মানেন্ট সমাধান খুঁজে পাওয়া সহজ নয়। আপনি স্থায়ী
ভাবে ব্রণের সমস্যার সমাধান পেতে চাইলে কিছু নিয়ম মেনে জীবন যাপন করতে হবে।
কিন্তু আপনার যদি বেশি ত্বকে ব্রণের সনস্যা বা গর্ত থেকে থাকে তাহলে একজন
ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ গ্রহন করাই হবে আপনার জন্য আদর্শ সমাধান। এখন আমরা
কিছু সাধারণ নিয়ম নীতি জানবো যেগুলো আপনার প্রত্যহিক জীবনে মেনে চললে ব্রণের
সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে পারেন।
- নিয়মিত ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
- শাকসবজি, ফল, শস্য বা বিজ জাতীয় খাদ্য, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
- দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
- নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, সাইকেল চালানো বা জিমে যাওয়ার মতো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
- প্রতি রাতে কম করে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমাতে হবে।
- মানসিক চাপ কমাতে হবে।
- অ্যালকোহল ও ধূমপান জাতীয় কার্যকলাপ এড়িয়ে চলতে হবে।
- জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাদ্য পরিহার করতে হবে।
- ত্বকের এমন প্রডাক্ট ব্যাবহার করা যাবে না যাতে ক্ষতিকত কেমিক্যাল আছে।
- বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
- ময়লা যুক্ত হাত ত্বকে পর্শ থেকে বিরত থাকতে হবে ইত্যাদি।
উপরে দেওয়া কিছু সাধারণ দৈনিক কার্যকলাপ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করা
যায় যে উপরের দেওয়া নিয়ম নীতি আপনি যদি অন্তত ৩০ দিন পালন করেন তাহলে আপনার
ব্রণ ও ব্রণ জাতীয় সকল সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে থাকবে।
আরোও পড়ুনঃ তুলসী পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা
ব্রণের দাগ দূর করার প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্নঃ ব্রণের দাগ কীভাবে দূর করা যায়?
উত্তরঃ অ্যালোভেরা, লেবুর রস, নারকেল তেল, হলুদ, মধু-দারচিনি, দই ও গ্রিন টি ব্যাবহার করে ঘরে বসে প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের দাগ দূর করা যায়।
প্রশ্নঃ ব্রণের দাগ দূর করার জন্য কোন খাবার খাওয়া উচিত?
উত্তরঃ নিয়মিত ভিটামিন, মিনারেল, প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।শাকসবজি, ফল, শস্য বা বিজ জাতীয় খাদ্য, বাদাম এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
প্রশ্নঃ ব্রণের দাগ দূর করার জন্য ঘরোয়া উপায় কী কী?
উত্তরঃ অ্যালোভেরা, লেবুর রস, নারকেল তেল, হলুদ, মধু-দারচিনি, দই ও গ্রিন টি ব্যাবহার করে ঘরে বসে প্রাকৃতিক উপায়ে ব্রণের দাগ দূর করা যায়।
প্রশ্নঃ ব্রণের দাগ দূর করার জন্য কোন ক্রিম ব্যবহার করা উচিত?
উত্তরঃ সিকোয়ালেন এবং সালফার যুক্ত ক্রিম যা ব্রণ এবং অতিরিক্ত ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
প্রশ্নঃ লেজার থেরাপি কি ব্রণের দাগ কমাতে কার্যকর?
উত্তরঃ লেজার থেরাপি ত্বকের গভীরে কাজ করে এবং নতুন কোষ উৎপন্ন করতে সাহায্য করে। হ্যাঁ, এটি সত্য লজার থেরাপি ব্রণের দাগ কমাতে কার্যকর।
শেষ কথা - ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায়
ব্রণের দাগ দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আমরা উপরে বিস্তারিত আলোচনা
করেছি। আমরা আশা বাদী যে আপনি যদি উপরের দেওয়া ঘরোয়া পদ্ধতি গুলো নিয়মিত
ব্যাবহার করেন তাহলে আপনি খুব সহজে ব্রণ ও ব্রণ জাতীয় সমস্যা থেকে চিরতরে
মুক্তি পাবেন। আর আপনার যদি ত্বকে ব্রণ জাতীয় সমস্যা খুব বেশি পরিমানে থাকে
তাহলে একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ গ্রহন করুন। আমরা আশাবাদী যে
আমাদের সকল পদ্ধতি ব্রণ ও ব্রণের দাগ নিরাময়ে আপনাকে সাহায্য করবে।
গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url