বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট একটি চিন্তামুক্ত ভ্রমণের প্রস্তুতি

বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট বিদেশ ভ্রমনের আগে জেনে নেওয়া অনেক জরুরী একটি বিষয়। বিশেষ করে যারা নতুন এর আগে কোনো দিন বিদেশ ভ্রমনে যায়নি তাদের কাছে এই প্রশ্নটি বারবার আসে যে বিদেশ যাওয়ার আগে আমাদের কি কি কেনাকাটা করা প্রয়োজন একটি সুন্দর চিন্তামুক্ত ভমণের জন্য।

বিদেশ-যাওয়ার-শপিং-লিস্টআপনার বিদেশ ভ্রমণ সুন্দর ও চিন্তামুক্ত করার জন্য ও অপ্রত্যাশিত সমস্যা এড়ানোর জন্য একটি প্রয়োজন মাফিক কেনাকাটা করা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন বিষয়। নতুন অবস্থায় বিদেশ ভ্রমণের জন্য যেসকল কেনাকাটা করতে হবে আজেক আমরা তা অতিসংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

সূচিপত্রঃ বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্টঃ একটি চিন্তামুক্ত ভ্রমণের প্রস্তুতি

বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট সম্পূর্ন করে বিদেশ যাত্রা শুরু করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ। কেননা বিদেশে যাওয়ার জন্য যেসকল কেনাকাটা প্রয়োজন সেগুলো না করে অন্য কেনাকাটা করে বিদেশের মাটিতে পৌছে যখন বুঝতে পারবেন আপনি ভুল কেনাকাটা করে চলে এসেছেন তখন ভুলটি সংশোধন করতে অনেক দেরি হয়ে যাবে। যার কারনে আপনাকে অনেক বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হবে। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে কি ধরনের শপিং বা কেনাকাটা করা প্রয়োজন তা জানা একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ। তাই আসুন জানি আমাদের কি ধরনের শপিং করতে হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত ও তথ্যবহুল আলোচনা।

বিদেশে চিন্তা মুক্ত শপিং করার আগে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সেটি হচ্ছে আপনার পাসপোর্ট, ভিসা এবং প্লেনের টিকিট ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। কেননা আপনার এই সকল প্রয়োজনে জিনিস না থাকলে আপনি বিদেশে যেতেই পারবেন না। তাই প্রথমে আপনাকে এ সকল কাগজপত্র যত্ন সহকারে চেক করে নিতে হবে। তারপর যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে আপনি যে দেশে যাচ্ছেন সেই দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী আপনাকে পোশাক কিনতে হবে। বিদেশ যাত্রার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিশেষ। এখন আমরা বিদেশ ভ্রমনে যেসকল কেনাকাটা প্রয়োজন তা নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

ভ্রমণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আর্থিক প্রস্তুতি

বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনায় আমরা সংক্ষিপ্ত ভাবে আলোচনা করেছি যে আমাদের বিদেশ যাত্রার জন্য সাধারণ যে কাগজপত্র দরকার তা সম্পর্কে। এখন আমরা বিস্তারিত আলোচনা করবো। বিদেশ যাত্রা জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় যা ব্যাতিত আপনি ইমিগ্রেশনে পার হতে পারবেন না। একবার ইমিগ্রেশন রিজেক্ট হওয়ার কারণে আপনাকে আরও সময় অপেক্ষা করে পরবর্তীতে আবারো ইমিগ্রেশনের জন্য যাওয়া লাগবে। তাই আমাদের জানা উচিত ইমিগ্রেশন পাস করার জন্য কি ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন হয়।

  • পাসপোর্টঃ আমাদের সর্বপ্রথম সে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে যে আমাদের সাথে পাসপোর্ট আছে কিনা এবং উক্ত পাসপোর্ট এর মেয়াদ ঠিক আছে কিনা। বিদেশ ভ্রমণ এর আগে অবশ্যই আপনাকে আপনার পাসপোর্ট এবং পাসপোর্ট এর মেয়াদ চেক করে নিতে হবে।
  • ভিসাঃ বিদেশ ভ্রমণের জন্য ভিসা একটু গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী বিষয়। ভিসা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। তাই আপনি যখন বিদেশ ভ্রমণের জন্য যাবেন নিশ্চিত হয়ে যাবেন যে আপনার ভিসার ধরন ও বৈধতা ঠিক আছে কিনা।
  • প্লেনের টিকিটঃ তারপর যে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সাথে আনতে হবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে প্লেনের টিকিট। প্লেনের টিকিট অবশ্যই ডিজিটাল এবং প্রিন্ট কপি সাথে আনতে হবে।
  • হোটেল বুকিংঃ আপনি বিদেশে যাওয়ার পর যে হোটেলে থাকবেন সেই হোটেলের বুকিং কনফার্মেশন প্রিন্ট অথবা ইমেইলের মাধ্যমে পাওয়া মেইল যত্ন সহকারে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। তা না হলে আপনি দেশের মাটিতে পা রাখার পর বিভ্রান্তির শিকার হতে পারেন।
  • পরিচয় পত্রঃ নতুন অবস্থায় বিদেশ ভ্রমণের জন্য অবশ্য সাথে পরিচয় পত্র সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। কেননা কোন বিপদে পড়লে আমাদের থাকা পরিচয় পত্রের সাহায্যে পুলিশ সেবা গ্রহণ করা যেতে পারে।
আমরা উপরে যে সকল বিষয়ে আলোচনা করেছি তা সবই হচ্ছে নতুন অবস্থায় বিদেশে যাওয়ার জন্য নতুনরা ভুল করে যে সকল কাগজপত্র রেখে আসে অথবা ভুলভ্রান্তির শিকার হয় সে সকল গুরুত্বপূর্ণ নথি অথবা কাগজপত্র সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে বিবরণ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। উক্ত গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ব্যতীত বিদেশ ভ্রমণের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে আর্থিক প্রস্তুতি। কেননা নতুন অবস্থায় কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনা থেকে বাঁচতে অথবা এড়িয়ে চলতে আর্থিক প্রস্তুতি নেওয়া জরুরী বিষয়। তাই আসুন আমরা জানার চেষ্টা করি আমাদের কেমন ধরনের আতিক প্রস্তুতি নিতে হবে বা নেওয়া উচিত।

  • আন্তর্জাতিক ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডঃ বিদেশে কেনাকাটা অথবা হাত থেকে লেনদেনের জন্য আমাদের দেশের মতন কোন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আমাদের কাছে সচারচর থাকে না। তাই উক্ত লেনদেন করার জন্য আমাদের একটি আন্তর্জাতিক ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ড থাকা জরুরী। উক্ত কর্ডের সাহায্যে আমরা ঝামেলা মুক্তভাবে লেনদেন করতে পারি। তবে বিদেশ যাওয়ার পূর্বে অবশ্যই আপনার কাঙ্খিত ব্যাংক থেকে উক্ত ডেবিট অথবা ক্রেডিট কার্ডের বৈধতা যাচাই করে নিবেন।
  • অর্থ এক্সচেঞ্জঃ আমরা যে দেশে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি সে দেশে আমি কিছু লেনদেনের জন্য নগদ অর্থ থাকা প্রয়োজন। তাই আমরা উত্তর দেশে যাওয়ার পরই এয়ারলাইন থেকে অথবা এয়ারলাইনের বাহিরে বিভিন্ন মানি এক্সচেঞ্জ থেকে আমাদের দেশের টাকা এক্সচেঞ্জ করে এদেশের কারেন্সি গ্রহণ করতে পারি। এক্ষেত্রে অবশ্যই গুগলে সেদেশের অর্থের রেট জেনে এক্সচেঞ্জ করার বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

প্রয়োজনীয় পোশাক-পরিচ্ছদ কেনাকাটা

বিদেশ ভ্রমণের আগে আপনাকে অবশ্যই একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে আপনি যে দেশে ভ্রমণের জন্য যেতে চাচ্ছেন সে দেশের আবহাওয়া জেনে শপিং বা কেনাকাটা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কেননা আপনি যখন একটি দেশে যাবেন এদেশের আবহাওয়া না জেনে যদি কেনাকাটা করে চলে যান যেমন সে দেশের বর্তমান আবহাওয়া এখন শীতকাল আপনি যদি গ্রীষ্মকালীন কেনাকাটা করে চলে যান তাহলে বিরাট একটি সমস্যার সম্মুখীন হবেন। তাই আবহাওয়া জেনে শপিং বা কেনাকাটা করা অত্যন্ত জরুরী একটি বিষয়। নিচে বিভিন্ন আবহাওয়ার জন্য আলাদা আলাদা শপিং লিস্ট দেওয়ার চেষ্টা করা হলো।
  • গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার কেনাকাটাঃ গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার দেশের জন্য সাধারণত আমাদের উচিত হবে হালকা ও আরামদায়ক কাপড় যুক্ত পোশাক ক্রয় করা। তবে ভালো হবে আপনি যদি ছুটি তৈরি বিভিন্ন জামা কাপড় ক্রয় করেন। পোশাকের মধ্যে যে সকল পোষা ক্রয় করা উচিত তার মধ্যে নতুন হচ্ছে শর্টস বা পাতলা প্যান্ট ও শার্ট, তবে ভালো হবে পাতলা টি শার্ট পরিধান করলে। আপনি আনুষঙ্গিক হিসেবে সানগ্লাস অথবা থেকে বাঁচার জন্য ক্যাপ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন।
  • শীতকালীন আবহাওয়ার কেনাকাটাঃ বিদেশ ভ্রমণের জন্য শীতকাল একটি সুন্দর ও আদর্শ সময় হলেও অনেকের ক্ষেত্রে শীতকাল হতে পারে মাথা ব্যাথার কারণ। কেননা শীতকালে ভ্রমণ করতে গেলে অনেকের সে আবহাওয়া সহ্য করতে পারে না ফলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই শীতকালে ভ্রমণের জন্য অবশ্যই চেষ্টা করবেন উলের তৈরি বিভিন্ন সোয়েটার বা জ্যাকেট ক্রয় করার জন্য। সেই সাথে মাফলার, হ্যান্ড গ্লাভস ও ভালো মানের স্নিকার'স ক্রয় করতে ভুলবেন না।
  • আনুষঙ্গিক পোশাকঃ আবার উপর নির্ভর করে কেনাকাটার পাশাপাশি আপনাকে আনুষঙ্গিক কিছু পোশাক ক্রয় করতে হবে। রাতে ঘুমানোর জন্য অবশ্যই সঙ্গে আরামদায়ক পোশাক নিয়ে যেতে হবে। আপনার যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে মিটিং থেকে থাকে তাহলে সাথে করে অবশ্যই ফরমাল পোশাক বা সুট সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া আনুষঙ্গিক হিসেবে দৈনিক পরিধানের জন্য স্যান্ডেল বা জুতা সঙ্গে নিতে হবে।

প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস কেনাকাটা

বিদেশ যাত্রার জন্য আপনাকে অবশ্যই সঙ্গে করে কিছু আনুষঙ্গিক ইলেকট্রনিক্স গেজেট নিয়ে যেতে হবে। আর বিশেষ করে আপনি যদি কোন ব্লগার হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই কিছু ইলেকট্রনিক্স গেজেট সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। সঙ্গে করে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক গেজেট সাথে নিয়ে গেলে আপনি নিশ্চিন্তে আপনার ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন। এখন নিচে বিদেশ ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু ইলেকট্রনিক গ্যাজেট কেনাকাটার গাইড সংক্ষিপ্ত  আলোচনা করা হলো। আপনাকে অবশ্যই যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে যে আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন সঙ্গে নিয়েছেন কিনা। কারণ স্মার্টফোন ব্যতীত বিদেশ ভ্রমণ একটি মাথা ব্যাথার কারণ হতে পারে।

  • চার্জার ও USB কেবলঃ মোবাইল ফোনে পাশাপাশি মোবাইল ফোনকে সার্চ করার জন্য একটি চার্জার এবং আপনার বিভিন্ন ডেট অফ বার্থ তথ্য বারবার করার জন্য একটি অতিরিক্ত ইউএসবি ক্যাবল সঙ্গে নিতে পারেন।
  •  পাওয়ার ব্যাংকঃ অনেক সময় আপনার মোবাইল ফোন অথবা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস চার্জ করার জন্য জায়গা খুঁজে পাবেন না। সে ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা থেকে বাঁচার জন্য আপনি সঙ্গে করে একটি পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যেতে পারেন।
  • স্মার্টফোনের আনুষাঙ্গিক গেজেটঃ আপনি যদি একজন ভিডিওগ্রাফার বা ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন বা আপনার ছবি তোলার সব থেকে থাকলে আপনাকে অবশ্যই একটি মোবাইল স্ট্যান্ড বা ট্রাইপড সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত।
  • ক্যামেরাঃ যদি বিদেশ ভ্রমণের জন্য ক্যামেরা সঙ্গে নিয়ে যান তাহলে অবশ্যই ক্যামেরার সাথে একটু অতিরিক্ত মেমোরি কার্ড এবং ব্যাটারি নিতে ভুলবেন না। সে সাথে ভালো ফটো বা ভিডিওগ্রাফির জন্য ট্রাইপড  নিয়ে যেতে পারেন।
উপরোক্ত ইলেকট্রনিক গ্যাজেট সমূহ আপনার বিদেশ যাত্রা কে সহজ এবং আনন্দময় করে তুলতে সাহায্য করবে। তাছাড়াও আপনি আপনার ব্যক্তিগত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গেজেট সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেন। তবে খেয়াল রাখবেন যে উক্ত গেজেট সমূহ যেন হালকা হয়। তাহলে তা পরিবহনে অনেক সুবিধা জনক হবে। তবে সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেট সমূহ পরিবহন করা নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই উক্ত দেশে যাওয়ার আগে যে সকল নিষেধাজ্ঞা রয়েছে সেগুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং তা থেকে বিরত থাকা। তা না হলে আপনি বিভিন্ন বিভ্রান্তি অথবা আইনিও প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারেন।

প্রয়োজনীয় ঔষোধ জাতীয় সামগ্রি কেনাকাটা

বিদেশ ভ্রমণের জন্য অবশ্যই আপনাকে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে। কেননা আপনি যখন দেশে থাকেন তখন অসুস্থ হয়ে গেলে আপনি খুব সহজেই নিকটস্থ অথবা পরিচয়েত কোন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার পাশে থাকা ফার্মেসি থেকে ঔষধ সামগ্রী ক্রয় করতে পারেন। কিন্তু বিদেশের মাটিতে ইমার্জেন্সির ক্ষেত্রে আপনি সহজে কোন ফার্মেসি খুঁজে পাবেন না আর যদি পেয়েও থাকেন তাহলে প্রেসক্রিপশন ব্যতীত ঔষধ ক্রয় করতে পারবেন না। তাই বুঝতে পারছেন আপনার প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনে একটি কাজ।
বিদেশ-যাওয়ার-শপিং-লিস্ট
বিদেশ ভ্রমণে পূর্বে আপনি যে সকল ওষুধ সামগ্রী গ্রহণ করেন বা নিত্য প্রয়োজনীয়তা পড়ে সে সকল ওষুধ সামগ্রী আগে থেকে ক্রয় করে রাখবেন। তাছাড়াও বিভিন্ন ব্যাথা নাশক ঔষধ, সর্দি কাশির,গ্যাস্ট্রিক ইত্যাদি সমস্যার জন্য প্রয়োজনের ঔষধ সঙ্গে রাখতে পারেন। তাছাড়াও অকাঙ্ক্ষিত কোন দুর্ঘটনার জন্য আগে থেকে ফাস্ট এইট কিট সঙ্গে নেওয়া উচিত। তাছাড়াও আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদি কোন অসুখ থেকে থাকে সে ক্ষেত্রে সেই ওষুধ সমূহ সঙ্গে রাখতে হবে। আমাদের সবসময় সতের্ক থাকতে হবে এবং যেসকল প্রয়োজনীয় ঔষুধ সামগ্রী প্রয়োজন তা সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে।

ব্যাক্তিগত দ্রব্য সামগ্রি কেনাকাটা

বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট এ ব্যাক্তিগত দ্রব্য সামগ্রি কেনাকাটা বলতে সাধারণত উপরের দেওয়া দ্রব্য সামগ্রিকেই বোঝানো হয়েছে। তবে এমন অনেক জিনিস থেকে থাকে যা বিদেশ ভ্রমনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ন। আজকের এই টপিক'স এ আমরা জানার চেষ্টা করবো সেই সকল দ্রব্য বা বস্তু সম্পর্কে যেগুলো বিদেশ ভ্রমনের জন্য সাথে নিয়ে যাওয়া উচিত। তার মধ্যে সবার উপরে যে তালিকাটি আসে সেটি হচ্ছে টুথব্রাশ ও টুটপেস্ট। অনেক হোটেলে টুটপেস্ট দেওয়া থাকলেও টুথব্রাশ দেওয়া থাকে না। কিন্তু আপনি যদি কোনো নিম্ন মানের হোটেলে উঠেন তাহলে নাও থাকতে পারে। তাই সাথে করে টুথব্রাশ ও টুটপেস্ট নিয়ে যাওয়া উচিত।

তারপর আপনি যে জিনিসটি সঙে নিয়ে যাবেন সেটি হচ্ছে পারফিউম বা বডি স্প্রে। কেননা আপনি যখন ঘুরাঘুরি করবেন তখন আপনার শরীর ঘেমে দুর্গন্ধ হতে পারে। তাই এই সমস্যা থেকে বাচতে পারফিউম বা বডি স্প্রে সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন। সেই সাথে আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখবেন যে সাথে করে নিজের রিফ্রেসমেন্ট ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য অবশ্যই সাবান ও স্যাম্পু সাথে করে নিয়ে যাওয়ার। কেননা সেই সকল পণ্য বাংলাদেশে সস্তা হলেও বিদেশে সেই একই জিনিস কিনতে অনেক টাকা গনতে হতে পারে। তাই বিদেশ ভ্রমনের আগে আমাদের অবশ্যই চিন্তাভাবনা করে ব্যাক্তিগত কিছু কেনাকাটা করা উচিত।

ভ্রমনের সময় যেসকল বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে

বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট এর পাশাপাশি বিদেশ ভ্রমণের সময় এমন অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। সেগুলো লোক করেছে না চললে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আমাদের এসব বিষয় সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। তাই কথা না বাড়িয়ে চলুন আমাদের বিস্তারিত আলোচনা শুরু করি। আমাদের সর্বপ্রথম যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে আমাদের পাসপোর্ট এবং ভিসা সেই সাথে প্লেনের টিকিট সঙ্গে আছে কিনা। সেগুলো খুব ভালো করে চেক করে নিতে হবে।এরপর আমাদের যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে সেটি হচ্ছে যে দেশে যাব সে দেশের অথবা লেনদেনের জন্য ডুয়েল কারেন্সি ডেভিড অথবা ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে নিয়েছে কিনা। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যা ভাল করে লক্ষ্য রাখা উচিত।

নতুনদের জন্য বিশেষ করে যখন কোন ভ্রমণে যায় তখন সবচেয়ে বেশি যেয়ে সমস্যা সম্মুখীন হয় সেটি হচ্ছে ব্যাগ পত্র বা লাগে সংগ্রহ করার সময়। এক্ষেত্রে আপনাকে একটু সতর্ক থাকতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে যে আপনার কোন কাউন্টারে আপনার কাঙ্খিত ব্যাগ বা লাগে পৌঁছেছে। সেটা আগে থেকে জেনে অথবা আপনি যদি কিছু না বুঝতে পারেন তাহলে এয়ারপোর্টে থাকা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে আপনি আপনার প্লেনের টিকিট দেখিয়ে খুব সহজে জেনে নিতে পারেন যে আপনার বেয়ার অথবা লাগেজ কোথায় রয়েছে। এ বিষয়টি একটি সতর্কতার সহিত পর্যবেক্ষণ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এগুলো হচ্ছে সাধারণ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস এগুলো লক্ষ্য রাখা উচিত। এবার আসুন আমাদের ভ্রমণের সময় যে সকল বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে সেগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। ভ্রমণের সময় আমরা অনেক অপরিচিত মানুষজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে। আমাদের উচিত হবে তাদের দেওয়া কোন খাবার অথবা পণ্য না নেওয়া। কেননা বিদেশে বিশেষ করে টুরিস্ট প্লেস গুলোতে বিদেশি টুরিস্টের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ফাঁদ পেতে থাকে। তাই আমাদের উচিত হবে এ সকল অপরিচিত লোকদের কাছ থেকে দূরে থাকা। যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হন তাহলে সাথে সাথে সে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে সাহায্য নিতে হবে।

প্যাকিং করার টিপস অ্যান্ড ট্রিকস

বিদেশ ভ্রমণের জন্য অনেকে কিছু না বুঝেই অথবা প্রয়োজনেই অনেক জিনিসপত্র সঙ্গে নিয়ে ফেলে।সমস্যা তখন হয় যখন সে পণ্যগুলো প্যাকিং করতে যায়। প্যাকিং করার সময় অনেকগুলো পণ্য একই ব্যাগে অথবা লাগে যে সম্পূর্ণভাবে ফিট হয় না। যার কারণে প্যাকিং করার সময় অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই আমরা আজকে জানবো কিভাবে অতি সহজে অনেক জামাকাপড় অথবা অন্য কোন পণ্য সহজে অল্প জায়গায় প্যাকিং করা যায়। এখন আমরা জানবো কিভাবে অল্প জাইগায় বেশি জামা-কাপড় প্যাকিং করা যায়। অল্প জাইগাই অনেক জামা কাপড় প্যাকিং করার জন্য আমরা আমাদের পান্ট, শার্ট, টি-শার্ট ইত্যাদি ফোল্ড বা মুড়িয়ে প্যাক করতে পারি।

জামা কাপড় মুড়িয়ে প্যাক করার ফলে অল্প জাইগায় অনেক জামা কাপড় ফিট হয়ে যাত যার ফলে ফাঁকা জাইগাতে আমরা অন্যান্য দ্রব্য প্যাক করে নিতে পারি। এবার আসুন জানি আমরা কিভাবে কাঁচের তৈরি বিভিন্ন জিনিস প্যাক করবো। আমরা জানি যে কাঁচের তৈরি জি্পপতত্র সহজেই ভেঙ্গে যায়। তাই ভাঙ্গা থেকে বাচানোর জন্য আমরা কাঁচের জিনিসপত্র বিভিন্ন কাগজ বিশেষ করে নিউজ পেপার দিয়ে মুড়িয়ে নিতে পারি। এতে করে সেই সকল কাঁচের জিনিসপত্র ভাঙ্গার সম্ভাবনা অনেক অংশে কমে যাবে বলে আশা করা যায়।

বিদেশে কেনাকাটা করার পদ্ধতি

আমরা বিদেশ ভ্রমণের পূর্বে আমাদের দেশ থেকে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন কেনাকাটা করে থাকি। কিন্তু বিভিন্ন কারণবশত অথবা পরিবার বা আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিভিন্ন প্রকার উপহার নিয়ে আসার জন্য আমাদের বিদেশে কিছু কেনাকাটা করার প্রয়োজন হয়ে থাকে। অনেকে নতুন অবস্থায় জানে না সে কিভাবে বিদেশে বিভিন্ন সুপার মার্কেট বা দোকানে জিনিসপত্র ক্রয় করতে হয়। তাই আসন জানি বিদেশে যদি আমাদের কিছু কেনাকাটা করার প্রয়োজন হয় তাহলে তা কিভাবে করব তার সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ জানার চেষ্টা করি।
বিদেশ-যাওয়ার-শপিং-লিস্ট
প্রথমত আমাদের যে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে সেটি হচ্ছে বিদেশে আমাদের দেশের মতো ছোট ছোট দোকান খুবই কম হয়। তাই আপনাকে যদি কিছু কিনতে হয় তাহলে সেগুলো বিভিন্ন ক্রোসারি স্টোর অথবা সুপার মার্কেট থেকে ক্রয় করতে হবে। উক্ত গ্রোসার স্টোর অথবা সুপার মার্কেট সমুহতে অনেক জায়গায় তোর ম্যানেজার থাকে আবার অনেক জায়গায় কোন স্টোর ম্যানেজার থাকেনা সে ক্ষেত্রে সেলফ পেমেন্ট বা নিজে থেকেই আপনি যে জিনিসটি ক্রয় করবেন সেইগুলোর বিয়ের পেমেন্ট করে দিতে হবে। তবে কেনাকাটা করার আগে অবশ্যই আপনি খেয়াল রাখবেন যে আপনি কেনাকাটা করার জন্য সাথে করে আপনার ডুয়াল কারেন্সি ডেবিড অথবা ক্রেডিট কার্ড সঙ্গে আনতে হবে বিল পেমেন্ট করার জন্য।

পরিশেষে

বিদেশ যাওয়ার শপিং লিস্ট মেনে শপিং করে বিদেশ ভ্রমণ করা একটি বুদ্ধি মানের কাজ। কেননা একটি সুপরিকল্পিতভাবে শপিং না করে বিদেশে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাই দেখা যায় যে ওকে সমস্যার সমাধান করার জন্য বিদেশে গিয়ে আবারো নতুন করে শপিং করতে হয়। এতে অনেক সময়ের সাথে মানসিক পরিশ্রম এবং অনেক অর্থেরও অপচয় হয়। আর আমাদের এই অকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে বাঁচার জন্য একটি সুপরিকল্পিত ভাবে শপিং করে বিদেশে যাওয়ার একটি বুদ্ধিমানের কাজ হবে। উপরে আমরা অতি সংক্ষেপে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি যে বিদেশে ভ্রমণের জন্য কেমন ধরনের শপিং করা প্রয়োজন এবং কি কি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত।

আমাদের উপরের আলোচনা যদি মনোযোগ সহকারে পড়ে থাকেন তাহলে আপনি বিদেশ যাওয়ার শপিং থেকে শুরু করি কি কি ধরনের কাগজপত্র ইমিগ্রেশনের জন্য প্রয়োজন হয় সেগুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। সেই সাথে আপনি বিদেশে পৌঁছানোর পর আপনার দেয়া কথাবার লাগেজ কিভাবে এয়ারপোর্ট থেকে উদ্ধার করবেন সে সকল বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই আশা করি উপরের দেওয়া তথ্যবহুল আলোচনা সমূহ পড়ে আপনি উপকৃত হবেন। সেই সাথে বিদেশে টুরিস্টরা বিভিন্নভাবে ধোকার শিকার হয়। সেই ধোকা থেকে কিভাবে বাঁচতে পারবেন সে বিষয়ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। তাই মনোযোগ সহকারে তথ্য বহুল কন্টেন্টি পড়লে আপনার বিদেশ যেতে শপিং নিয়ে কোনো দূর্চিন্তা থাকবেনা।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

গ্লো আপ ফ্লো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url